জি বাংলার ‘তারে ধরি ধরি মনে করি’ (Tare Dhori Dhori Mone kori) ধারাবাহিকে এই মুহূর্তে আবেগঘন এক পর্ব দর্শকদের মন ছুঁয়ে গেছে। গল্পের নায়িকা অদ্বিতীয়া, যার জীবন-মৃ’ত্যুর লড়াই ঘিরে এখন উদ্বিগ্ন গোটা পরিবার। তবে এই কঠিন সময়ে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে কাত্যায়নী দেবীর আচরণ। এতদিন যাঁকে অদ্বিতীয়ার প্রতি কঠোর এবং অনমনীয় হিসেবেই দেখা গিয়েছিল, সেই মানুষটিকেই এবার ঈশ্বরের কাছে নীরবে প্রার্থনা করতে দেখা যাচ্ছে। অদ্বিতীয়ার সুস্থতার জন্য তাঁর এই উদ্বেগ যেন চরিত্রটির এক সম্পূর্ণ অন্যদিক দর্শকদের সামনে তুলে ধরেছে।
ধারাবাহিকের নিয়মিত দর্শকরা জানেন, কাত্যায়নী দেবী এবং অদ্বিতীয়ার সম্পর্ক কখনওই খুব সহজ নয়। নানান মতপার্থক্য, অভিমান এবং দূরত্ব তাঁদের মধ্যে বারবার সামনে এসেছে। কিন্তু একজন মানুষকে অপছন্দ করা আর তার সর্বনাশ কামনা করা যে এক জিনিস নয়, সেই সূক্ষ্ম অনুভূতিটাই খুব সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে সাম্প্রতিক পর্বে। অদ্বিতীয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে তাঁর ভেতরের মমতাময়ী সত্তা যেন ধীরে ধীরে সামনে চলে এসেছে। এই পরিবর্তনটাই দর্শকদের সবচেয়ে বেশি স্পর্শ করেছে।

অনেকেরই মনে পড়ে গিয়েছে রূপমঞ্জরীর সেই করুণ পরিণতির কথা। অতীতের সেই ক্ষত এখনও কাত্যায়নী দেবীর মনে কোথাও রয়ে গেছে বলেই মনে করছেন দর্শকরা। তাই অদ্বিতীয়ার ক্ষেত্রেও একই রকম কিছু ঘটতে পারে, এই আশঙ্কা তাঁকে ভিতর থেকে নাড়া দিচ্ছে। মুখে যতই কঠোরতা থাকুক, একজন মায়ের হৃদয়ের উদ্বেগ যে অন্যরকম, তা এই দৃশ্যগুলোতে বারবার স্পষ্ট হয়েছে। পরিবারের সকলের অগোচরে তাঁর প্রার্থনা যেন সেই অজানা ভয়েরই বহিঃপ্রকাশ।
এই পর্বের পর সামাজিক মাধ্যমেও প্রশংসার ঝড় উঠেছে। বিশেষ করে কাত্যায়নী দেবীর চরিত্রে অভিনয় করা রীতা দত্ত চক্রবর্তীর অভিনয় নিয়ে দর্শকদের উচ্ছ্বাস চোখে পড়ার মতো। অনেকেই মনে করছেন, অভিজ্ঞ অভিনেত্রীরাই এমন সূক্ষ্ম আবেগকে এত সহজে পর্দায় তুলে ধরতে পারেন। সংলাপের চেয়ে চোখের ভাষা, মুখের অভিব্যক্তি আর শরীরী ভঙ্গিমার মাধ্যমে তিনি যে অনুভূতি প্রকাশ করেছেন, সেটাই এই দৃশ্যগুলিকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছে। দর্শকদের মতে, কয়েক মুহূর্তের জন্য হলেও তিনি তাঁদের আবেগপ্রবণ করে তুলতে পেরেছেন।
আরও পড়ুনঃ বিয়ের নিমন্ত্রণ পেয়ে খুশিতে আত্মহারা আদিত্য! পল্লবীর সঙ্গে দেখা হওয়ার অপেক্ষায় স্বপ্নের জাল বুনছে সে, অথচ এখনও জানেই না সামনে অপেক্ষা করছে কোন বিপদ? এই দেখা হওয়াই কি বদলে দেবে সব সমীকরণ? ‘কমলা নিবাস’-এ ফাটাফাটি পর্ব!
প্রসঙ্গত, রীতা দত্ত চক্রবর্তী বরাবরই শক্তিশালী চরিত্রে নিজের অভিনয় দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। বিভিন্ন ধারাবাহিকে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। ‘কার কাছে কই মনের কথা’য় জাঁদরেল শ্বাশুড়ির পর আবারও নিজের উপস্থিতি অনুভব করাতে সক্ষম হয়েছেন। কাত্যায়নী দেবীর মতো জটিল চরিত্রকে কখনও কঠোর, কখনও সংবেদনশীল, আবার কখনও অসহায় এক মায়ের রূপে তুলে ধরে তিনি প্রমাণ করেছেন কেন তাঁকে বাংলা টেলিভিশনের অন্যতম দক্ষ অভিনেত্রী বলা হয়। আর সেই কারণেই সাম্প্রতিক এই পর্বে গল্পের পাশাপাশি তাঁর অভিনয়ও সমানভাবে দর্শকদের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
