জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

‘নিশা শুধরে গিয়ে জিতের সঙ্গে সংসার করবে কেন?’ ‘নিশার জীবনে ওঠাপড়া না থাকলে চরিত্রটার গুরুত্বই থাকবে না!’ ধূসর চরিত্রদেরই বাস্তবের কাছাকাছি লাগে! ‘জোয়ার ভাঁটা’র নতুন প্রোমো ঘিরে দর্শকদের মধ্যে তুমুল মতবিরোধ! জিতের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ একদল, আবার সমর্থনে সরব অন্যরা! আপনি কোন দলে?

জি বাংলার ধারাবাহিক ‘জোয়ার ভাঁটা’র (Jowar Bhanta) নতুন প্রোমো প্রকাশের পর থেকেই দর্শকদের মধ্যে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। বিশেষ করে জিৎ এবং নিশার সম্পর্কের পরিণতি নিয়ে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছেন অনুরাগীরা। একদল দর্শকের মতে, এত বাধা-বিপত্তির পর অবশেষে যখন নিশা নিজের ভুল স্বীকার করে নতুন জীবন শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তখন তাদের সম্পর্কের এই পরিণতি মেনে নেওয়া কঠিন। অনেকেই ভেবেছিলেন, গল্প এবার অন্যদিকে মোড় নেবে এবং দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের শেষে জিৎ-নিশার সম্পর্ক একটা স্থায়ী জায়গায় পৌঁছবে। তাই বিয়ের মণ্ডপ থেকে নিশার গ্রেফতারি এবং জিতের সিদ্ধান্ত অনেক দর্শকের কাছেই বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে।

তবে এই আবেগঘন প্রতিক্রিয়ার বিপরীতে আরেকটি বড় অংশের দর্শক সম্পূর্ণ ভিন্ন মত পোষণ করছেন। তাঁদের যুক্তি, গল্পের চরিত্রগুলিকে বাস্তবতার মাটিতে দাঁড় করিয়ে বিচার করলে জিতের এই সিদ্ধান্ত মোটেও অস্বাভাবিক নয়। বরং দীর্ঘদিন ধরে যে চরিত্রটিকে একজন দায়িত্বশীল, নীতিবাদী এবং নিজের কাজের প্রতি অন্ধভাবে নিষ্ঠাবান মানুষ হিসেবে দেখানো হয়েছে, তার কাছ থেকে এমন সিদ্ধান্তই প্রত্যাশিত ছিল। তাঁদের মতে, যদি খুব সহজেই সব ভুল মিটে যেত এবং নিশা-জিতের সুখী সংসারের গল্প শুরু হয়ে যেত, তাহলে চরিত্রগুলোর জটিলতা এবং এতদিন ধরে তৈরি হওয়া সংঘাতের গুরুত্ব অনেকটাই কমে যেত।

এই দর্শকদের আরেকটি বড় যুক্তি হল, ‘জোয়ার ভাঁটা’র অন্যতম শক্তি তার ধূসর চরিত্রগুলো। এখানে কেউ সম্পূর্ণ নায়ক নয়, আবার কেউ পুরোপুরি খলনায়কও নয়। নিশার মধ্যে যেমন অপরাধ জগতের অন্ধকার আছে, তেমনই রয়েছে ভালোবাসা, আত্মত্যাগ এবং পরিবর্তনের ইচ্ছাও। একইভাবে জিতের মধ্যেও যেমন সততা এবং কর্তব্যবোধ রয়েছে, তেমনই রয়েছে অহং, জেদ এবং নিজেকে প্রমাণ করার প্রবল তাগিদ। অনেকের মতে, এই মানবিক দুর্বলতাগুলিই চরিত্র দুটিকে বাস্তবের কাছাকাছি নিয়ে গেছে। ফলে তাদের সিদ্ধান্তও সবসময় দর্শকদের পছন্দসই হবে, এমনটা আশা করা ঠিক নয়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই লিখছেন, জিতের আচরণকে শুধুমাত্র বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে দেখলে চরিত্রটির গভীরতা বোঝা যাবে না। বাস্তব জীবনেও এমন বহু মানুষ আছেন, যারা কোনও একটি লক্ষ্য বা দায়িত্বকে এতটাই গুরুত্ব দেন যে ব্যক্তিগত সম্পর্ক পর্যন্ত তার কাছে দ্বিতীয় হয়ে যায়। অনেক সময় এই মানসিকতা মানুষের বিচারবোধকে প্রভাবিত করে, আবার অনেক সময় সেটাই তাকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে। দর্শকদের একাংশ মনে করছেন, জিতের বর্তমান অবস্থান সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন। তাই তাকে একমাত্রিকভাবে বিচার করার বদলে তার মানসিক অবস্থাটাও বোঝার চেষ্টা করা উচিত।

সব মিলিয়ে ‘জোয়ার ভাঁটা’র নতুন ট্র্যাক নিয়ে বিতর্ক যতই বাড়ুক না কেন, একটা বিষয় স্পষ্ট যে ধারাবাহিকটি দর্শকদের ভাবতে বাধ্য করছে। শুধু প্রেম, বিয়ে বা প্রতিশোধ নয়, মানুষের মনের ভেতরের দ্বন্দ্ব, নৈতিকতার টানাপোড়েন এবং সম্পর্কের জটিলতাকেও সামনে নিয়ে আসছে গল্প। আর সেই কারণেই হয়তো কেউ নিশার পাশে দাঁড়াচ্ছেন, কেউ জিতের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছেন। কিন্তু উভয় পক্ষই একমত যে, এই মুহূর্তে ধারাবাহিকের গল্প নিয়ে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, সেটাই প্রমাণ করে এই গল্প দর্শকদের মনে কতটা প্রভাব ফেলতে পেরেছে।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page