জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“কাঁদতে কাঁদতে বুম্বাদার কাছে গেছি!” কোন ভ*য়াবহ সং’কটে পড়েছেন যিশু সেনগুপ্ত? কীভাবে সেই কঠিন পরিস্থিতি থেকে তাঁকে উদ্ধার করলেন অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়? জানলে চমকাবেন

অভিনেতাদের জীবন বাইরে থেকে যতটা ঝলমলে মনে হয়, বাস্তবে তার আড়ালে লুকিয়ে থাকে অসংখ্য সংগ্রাম, চাপ এবং অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির গল্প। ক্যারিয়ারের শুরুতে কিংবা সাফল্যের পথে চলতে গিয়ে অনেক তারকাকেই কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতে হয়। কখনও শুটিংয়ের চাপ, কখনও সময়ের অভাব, আবার কখনও পেশাগত ভুল বোঝাবুঝি তাঁদের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেয়। তবে সেই কঠিন সময়ে কোনও সহকর্মী বা সিনিয়র শিল্পীর সাহায্য অনেকের জীবনই বদলে দিয়েছে। সম্প্রতি এমনই এক অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন অভিনেতা যিশু সেনগুপ্ত।

বাংলা চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা যিশু সেনগুপ্ত আজ শুধু টলিউডেই নয়, বলিউড চলচ্চিত্র শিল্পেও নিজের অভিনয় দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। দীর্ঘ কেরিয়ারে অসংখ্য জনপ্রিয় চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের মন জয় করেছেন। কিন্তু আজকের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে অনেক অজানা গল্প। সম্প্রতি তিনি তুলে ধরেছেন তাঁর কেরিয়ারের এক সংকটময় মুহূর্তের কথা, যেখানে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন টলিউড সুপারস্টার প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়।

যিশু জানান, সেই সময় তিনি দুটি ছবির শুটিং একসঙ্গে করছিলেন। একটি ছবির পরিচালক ছিলেন হরনাথ চক্রবর্তী, যার শুটিং চলছিল কলকাতায়। অন্যদিকে পরিচালক অনুপ সেনগুপ্তের ছবির কাজ হওয়ার কথা ছিল মাইসোরে। পরিকল্পনা অনুযায়ী দুটি শুটিংয়ের সময় আলাদা থাকলেও হঠাৎ করেই সমস্যা তৈরি হয়। কলকাতার ছবির শুটিং নির্ধারিত সময়ের চেয়ে একদিন বেশি চলায় তাঁর পুরো সূচি এলোমেলো হয়ে যায়। ফলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, যেখানে একই দিনে তাঁকে কলকাতা এবং মাইসোর দুই জায়গাতেই উপস্থিত থাকতে হতো। বিষয়টি আরও জটিল হয়ে ওঠে কারণ মাইসোরের ছবিতে তাঁর সঙ্গে শুটিং করার কথা ছিল অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীর। স্বাভাবিকভাবেই কোনও শুটিং পিছিয়ে দেওয়া সহজ ছিল না।

সমস্যার সমাধান খুঁজতে যিশু দুই পরিচালকের সঙ্গেই কথা বলার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাঁর দাবি, সেই সময় কেউই তাঁর পরিস্থিতি বুঝতে চাইছিলেন না। বরং বকাঝকাই শুনতে হয়েছিল তাঁকে। এতটাই মানসিক চাপে পড়েছিলেন যে তিনি ভেবেছিলেন, হয়তো তাঁর কেরিয়ারই শেষ হয়ে যাবে। হতাশায় ভেঙে পড়ে কেঁদেও ফেলেছিলেন তিনি। ঠিক সেই সময় তিনি ছুটে যান প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে। যিশুর কথায়, তিনি গিয়ে বুম্বাদার পায়ে পড়ে কাঁদতে কাঁদতে বলেছিলেন, “আমার কেরিয়ার শেষ হয়ে যাবে, কিছুই আর হবে না।” একজন অভিভাবকের মতো ধৈর্য ধরে তাঁর সমস্ত কথা শোনেন প্রসেনজিৎ।

এরপরই পরিস্থিতি বদলে যায়। যিশুর সমস্যার কথা শুনে প্রসেনজিৎ নিজেই পরিচালক অনুপ সেনগুপ্তকে ফোন করেন। তিনি দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে এমনভাবে শুটিংয়ের সময় ঠিক করে দেন, যাতে কোনও কাজই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। প্রসেনজিতের অনুরোধকে গুরুত্ব দিয়ে পরিচালকও বিষয়টি মেনে নেন। ফলে বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পান যিশু।


আজ যিশু সেনগুপ্ত বাংলা সিনেমার অন্যতম সফল অভিনেতা। শুধু টলিউড নয়, বলিউড এবং দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রিতেও তিনি সমানভাবে প্রশংসিত। আর তাঁর এই স্মৃতিচারণ যেন আরও একবার প্রমাণ করে, প্রতিযোগিতার এই ইন্ডাস্ট্রিতেও সহকর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর মানবিকতা এখনও বেঁচে আছে। আর সেই মানবিকতার অন্যতম উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে রয়ে গেছে প্রসেনজিৎ ও যিশুর এই অজানা গল্প।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page