জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

জিৎ কি সত্যিই ভুল করেছে? উজি-নিশার সিদ্ধান্ত নিয়েই এবার প্রশ্ন তুলছেন ‘জোয়ার ভাঁটা’র একাংশ দর্শক, প্রশংসা কুড়োচ্ছেন ঋষি! আজকে ফাঁস আসল পরিচয়, ফাটাফাটি পর্ব মিস করবে না!

জি বাংলার ‘জোয়ার ভাঁটা’ (Jowar Bhanta) ধারাবাহিকের সাম্প্রতিক পর্ব সম্প্রচারের পর দর্শকমহলে নতুন করে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। এতদিন যেখানে বেশিরভাগ সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল জিৎ, সেখানে এবার গল্পের নতুন মোড় দেখে অনেক দর্শক উল্টো দিকটাও খতিয়ে দেখতে শুরু করেছেন। বিশেষ করে নিশা, উজি এবং জিতের সম্পর্কের জটিল সমীকরণ সামনে আসার পর সামাজিক মাধ্যমে নানা ধরনের মতামত উঠে আসছে। একাংশের দাবি, পুরো ঘটনাকে শুধুমাত্র জিতের বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে দেখলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আড়াল হয়ে যায়। বরং গল্পের অন্যান্য চরিত্রের সিদ্ধান্ত ও আচরণ নিয়েও সমানভাবে প্রশ্ন তোলা উচিত।

দর্শকদের একাংশের মতে, উজি দীর্ঘদিন ধরে সততা এবং ন্যায়ের পক্ষে থাকার কথা বললেও বাস্তবে নিজের দিদির ক্ষেত্রে সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে। তাদের বক্তব্য, অতীতে বহুবার উজি নিজেই বলেছিল, যদি প্রমাণ হয় নিশাই মহারানী, তাহলে সে নিজের হাতে দিদিকে আইনের হাতে তুলে দেবে। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি বদলাতেই তার অবস্থানও বদলে যায়। ফলে অনেকের প্রশ্ন, সততার কথা যদি সত্যিই এত গুরুত্বপূর্ণ হয়, তাহলে সেই নীতির ব্যতিক্রম কেন করা হল? এই কারণেই কিছু দর্শক মনে করছেন, জিতের উপর রাগ দেখানোর আগে উজির ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হওয়া দরকার।

নিশার চরিত্র নিয়েও কম বিতর্ক হচ্ছে না। দর্শকদের একাংশের মতে, যদি সে সত্যিই নিজের অতীত নিয়ে অনুতপ্ত হয়ে থাকে, তাহলে ভালোবাসার মানুষের কাছ থেকে এত বড় সত্য লুকিয়ে রাখার প্রয়োজন ছিল না। গল্পে দেখা গিয়েছে, বিভিন্ন পরিস্থিতিতে সে নিজের পরিচয় এবং অতীতের কিছু তথ্য অন্যদের সামনে স্বীকার করেছে। কিন্তু জিতের ক্ষেত্রে সেই সত্য প্রকাশ করার সাহস দেখায়নি। এই বিষয়টিকেই অনেক দর্শক সম্পর্কের ভিত দুর্বল হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, বিশ্বাসের জায়গায় যদি গোপনীয়তা জায়গা নেয়, তাহলে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ এমন জটিল হওয়াই স্বাভাবিক।

অন্যদিকে, জিতের চরিত্রকে নিয়েও নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন কিছু দর্শক। তাঁদের বক্তব্য, ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে সে হয়তো কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে, কিন্তু নিজের পেশাগত দায়িত্বের প্রশ্নে শুরু থেকেই অবস্থান স্পষ্ট রেখেছিল। মহারানীকে খুঁজে বের করা এবং আইনের মুখোমুখি দাঁড় করানোর বিষয়ে সে কখনও নিজের মত পাল্টায়নি। সেই কারণেই অনেকের মতে, জিতের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত না হওয়া যেতে পারে, কিন্তু অন্তত সে নিজের অবস্থান গোপন করেনি। ফলে গল্পের বর্তমান পরিস্থিতিতে চরিত্রগুলিকে নতুন করে বিচার করতে শুরু করেছেন দর্শকদের একাংশ।

তবে এই পুরো বিতর্কের মধ্যেও সবচেয়ে বেশি প্রশংসা পাচ্ছে ঋষির চরিত্র। সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই লিখছেন, পরিস্থিতি যতই জটিল হয়ে উঠুক না কেন, ঋষির প্রতিক্রিয়া ছিল সবচেয়ে সংযত এবং বাস্তবসম্মত। আবেগে ভেসে না গিয়ে ঘটনাগুলোকে বিচার করার চেষ্টা করেছে সে। তাই অনেক দর্শকের মতে, যেখানে অন্য চরিত্ররা নানা সিদ্ধান্ত ও গোপনীয়তার কারণে সমালোচনার মুখে পড়েছে, সেখানে ঋষিই একমাত্র ব্যক্তি যে পুরো বিষয়টিতে পরিণত এবং ভারসাম্যপূর্ণ মনোভাব দেখিয়েছে। আর সেই কারণেই বর্তমান ট্র্যাকের শেষে এসে দর্শকদের একাংশের কাছে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য চরিত্র হয়ে উঠেছে ঋষি।

Rimi Datta

রিমি দত্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর। কপি রাইটার হিসেবে সাংবাদিকতা পেশায় চার বছরের অভিজ্ঞতা।

                 

You cannot copy content of this page