জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘জোয়ার ভাঁটা’র (Jowar Bhanta) সাম্প্রতিক পর্ব সম্প্রচারের পর সামাজিক মাধ্যমে দর্শকদের একাংশের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বহু দর্শকের দাবি, এই পর্বের মাধ্যমে জিৎ বসু চরিত্রটিকে এমনভাবে তুলে ধরা হয়েছে, যার ফলে তার প্রতি দীর্ঘদিনের আবেগ ও সমর্থন বড় ধাক্কা খেয়েছে। বিশেষ করে নিশার বিরুদ্ধে তার অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। দর্শকদের মতে, তারা কখনও জিতের কর্তব্যবোধের বিরোধিতা করেননি, বরং চেয়েছিলেন তার আচরণে নিশার প্রতি ভালোবাসা ও মানসিক টানাপোড়েনের কিছুটা প্রকাশ দেখতে। সেই প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় হতাশা আরও বেড়েছে বলে মত অনেকের।
দর্শকদের একাংশের বক্তব্য, জিৎ যদি অন্তত একটি মুহূর্তের জন্য নিজের মনের কথা প্রকাশ করত, তাহলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। তাদের মতে, সে যদি নিশাকে ভালোবাসার কথা স্বীকার করেও কর্তব্যের কারণে তাকে গ্রেপ্তার করতে বাধ্য হয়েছে এমন ইঙ্গিত দিত, তাহলে চরিত্রটির প্রতি মানুষের অভিযোগ অনেকটাই কমে যেত। কিন্তু সাম্প্রতিক পর্বে জিতের মুখে শোনা যায়, “অপরাধীকে ঠকিয়ে আইনের আওতায় নিয়ে আসা কোনও অপরাধ নয়।” এই সংলাপের পর থেকেই দর্শকদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এর মাধ্যমে জিৎ নিজেই স্বীকার করে নিল যে সে নিশাকে প্রতারণা করেছে।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে যারা জিতের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরছিলেন, তারাও এবার হতাশার কথা জানিয়েছেন। দর্শকদের একটি বড় অংশের দাবি, এতদিন তারা বিশ্বাস করতেন জিৎ কোনও অভিনয় করছে না এবং সে সত্যিই নিশাকে ভালোবাসে। যখন বিভিন্ন মহলে জিতের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল, তখনও তারা চরিত্রটির পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু নতুন পর্বে দেখানো আচরণ তাদের সেই অবস্থানকে দুর্বল করে দিয়েছে। অনেকের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে জিতের পক্ষে আর যুক্তি খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে চরিত্রটির প্রতি সমর্থন আগের তুলনায় অনেকটাই কমে গেছে।
দর্শকদের আরও একটি বড় প্রশ্ন হলো, যদি ভবিষ্যতে জিতের ভালোবাসার দিক দেখানো হয়, তাহলে তা কতটা গ্রহণযোগ্য হবে। তাদের মতে, নিশা শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসার পর হঠাৎ করে জিতের অনুভূতি প্রকাশ পেলে সেটি স্বাভাবিক মনে হবে না। কারণ বর্তমান পর্বে তার প্রতিটি অভিব্যক্তি এবং আচরণে অনুশোচনা বা কষ্টের কোনো ছাপ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ। অনেকেই বলছেন, একজন মানুষের জীবনে কর্তব্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি আবেগও গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনায় সেই আবেগের দিকটি সম্পূর্ণ অনুপস্থিত ছিল বলে তাদের ধারণা।
আরও পড়ুনঃ ‘কুসুম’-এর খ’লনায়িকার চরিত্রে দা’পট, কিন্তু বাস্তবে কেমন মানুষ পামেলা কাঞ্জিলাল? কেন তাঁকে নিয়েই সবসময় আত’ঙ্কে থাকেন তাঁর শাশুড়ি? বৈবাহিক জীবনের কোন অজানা গল্প প্রকাশ্যে আনলেন অভিনেত্রী?
সব মিলিয়ে সামাজিক মাধ্যমে এখন জিৎ চরিত্রকে ঘিরে তুমুল আলোচনা চলছে। দর্শকদের মতে, জিৎ এমন একটি চরিত্র ছিল যাকে তারা আদর্শ হিসেবে দেখতেন এবং যার মধ্যে দায়িত্ববোধের পাশাপাশি মানবিকতাও খুঁজে পেতেন। কিন্তু নতুন পর্বের পর সেই ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মত অনেকের। তাদের অভিযোগ, একজন পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে জিৎকে নিখুঁতভাবে উপস্থাপন করতে গিয়ে তার মানবিক অনুভূতি প্রায় পুরোপুরি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে একজন কর্তব্যনিষ্ঠ মানুষকে দেখানো গেলেও একজন আবেগপ্রবণ ও সম্পর্ককে মূল্য দেওয়া মানুষ হিসেবে জিতকে আর খুঁজে পাচ্ছেন না বহু দর্শক।
