সময়ের সঙ্গে মানুষের জীবন যেমন বদলায়, তেমনই বদলে যায় অগ্রাধিকারের তালিকাও। অনেক সময় খুব কাছের সম্পর্কের মধ্যেও নতুন কেউ এসে বিশেষ জায়গা করে নেয়। আর সেই পরিবর্তন সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে পরিবারে নতুন সদস্য আসার পর। অভিনেত্রী অনিন্দিতা রায়চৌধুরীর সাম্প্রতিক একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে এবার শুরু হয়েছে আলোচনা। সেখানে তিনি স্বামী সুদীপ সরকারের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের এক মজার পরিবর্তনের কথা তুলে ধরেছেন। পোস্টে ব্যবহৃত কিছু শব্দ ও অনুভূতি অনুরাগীদেরও নজর কেড়েছে। বিশেষ করে তাঁর ‘মিউচুয়াল সিদ্ধান্ত’ মন্তব্যটি অনেকের কৌতূহল বাড়িয়েছে।
বর্তমানে অনিন্দিতা এবং সুদীপের জীবনের কেন্দ্রবিন্দু তাঁদের একরত্তি মেয়ে তিষ্যা। শুটিং এবং কাজের ব্যস্ততার মধ্যেও সুযোগ পেলেই তাঁরা সময় কাটান মেয়ের সঙ্গে। অভিনেত্রী জানিয়েছেন, বাবা-মা হিসেবে দু’জনেই এখন সন্তানের জন্য আলাদা করে সময় রাখার চেষ্টা করেন। তবে তিষ্যার সঙ্গে বাবার বন্ধুত্ব যেন একটু বেশিই জমে উঠেছে। ছোট্ট মেয়ের আবদার, খুনসুটি এবং সঙ্গই এখন সুদীপের দিনের বড় অংশ জুড়ে রয়েছে। আর সেই ছবিই ধরা পড়েছে অনিন্দিতার সাম্প্রতিক পোস্টে। যেখানে পরিবারে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলেছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় অনিন্দিতা দুটি আলাদা সময়ের ছবি শেয়ার করেছেন। একটি ছবি তিষ্যার জন্মের আগের, যেখানে স্বামী-স্ত্রী নিজেদের প্রিয় জায়গায় সময় কাটাচ্ছেন। অন্য ছবিতে দেখা যায়, একই জায়গায় এখন সময় কাটাচ্ছে বাবা ও মেয়ে। পুরনো এবং নতুন মুহূর্তের এই তুলনাই বিশেষভাবে নজর কেড়েছে অনুরাগীদের। সেই ছবির সঙ্গেই অভিনেত্রী নিজের অনুভূতির কথাও লিখেছেন। তাঁর পোস্ট থেকেই বোঝা যায়, সময়ের সঙ্গে পরিবারের অগ্রাধিকার কীভাবে বদলে যায়। তবে পুরো বিষয়টিই ছিল ভালোবাসা আর মিষ্টি খুনসুটিতে ভরা।
ছবির ক্যাপশনে অনিন্দিতা লিখেছেন, “একটা সময় সমস্ত অ্যাটেনশন আমাকেই দিয়ে এই বিশেষ জায়গায় গিয়ে আমারই প্রিয় গরম মশলা কফি আর বোম্বে স্যান্ডউইচ খাওয়া হতো।” তিনি আরও লেখেন, “না, এখনও সেগুলো সবই খাওয়া হয়। কিন্তু, অ্যাটেনশনের বেশ কিছু শতাংশ এই ক্ষুদ্র ভদ্রমহিলা নিয়ে নিয়েছেন।” এই কয়েকটি লাইনেই তিনি পরিবারের নতুন সমীকরণকে তুলে ধরেছেন। একসময় যে সময়টা শুধুই তাঁদের দু’জনের ছিল, এখন সেখানে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে তাঁদের মেয়ে। আর সেই পরিবর্তনকে অভিনেত্রী খুব সহজভাবেই গ্রহণ করেছেন।
তিষ্যার সঙ্গে সুদীপের সম্পর্ক যে অত্যন্ত মধুর, সেই ছবিও স্পষ্ট হয়েছে পোস্টে। অনিন্দিতা মজার ছলেই জানিয়েছেন, এখন তাঁর স্বামীর অনেকটা মনোযোগ জুড়ে রয়েছে ছোট্ট মেয়ে। তবে এই পরিবর্তন নিয়ে কোনও অভিযোগ নয়, বরং মায়া আর ভালোবাসার মিশেলই ফুটে উঠেছে তাঁর কথায়। বাবা-মেয়ের এই সুন্দর বন্ধন দেখে তিনি নিজেও খুশি। পরিবারে নতুন সদস্য আসার পর সম্পর্কের সমীকরণ কীভাবে বদলে যায়, তারই এক বাস্তব ছবি উঠে এসেছে এই পোস্টে। অনুরাগীরাও সেই অনুভূতির সঙ্গে সহজেই নিজেদের মিল খুঁজে পেয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ ‘আমি নিজেও তো বাবা, তাই বুঝতে পারি…’ পিতৃদিবসে বহু বছরের অভিমান ভুলে, জীবনের আসল শিক্ষাক হিসেবে বাবা বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে বিশেষ শ্রদ্ধাঞ্জলি অভিনেতা প্রসেনজিতের!
সবশেষে আদুরে অভিমানের সুরে অনিন্দিতা লিখেছেন, “ঠিক আছে, অসুবিধে নেই। মিউচুয়াল ডিসিশন এসব।” এই একটি লাইনই সোশ্যাল মিডিয়ায় সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে। যদিও কথার মধ্যে ছিল মজা, তবুও তা অনুরাগীদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। দাম্পত্য জীবনের চার বছর পরও তাঁদের সম্পর্কের উষ্ণতা যে অটুট, সেই ইঙ্গিতও মিলেছে এই পোস্টে। একই সঙ্গে ছোট্ট তিষ্যাকে ঘিরে গড়ে ওঠা নতুন পারিবারিক মুহূর্তের ছবিও সামনে এসেছে। আর সেই কারণেই অনিন্দিতার এই পোস্ট এখন নেটমাধ্যমে বেশ চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।
