জি বাংলার ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’-এ (Kamala Nibas) একের পর এক সম্পর্কের টানাপোড়েন, ভুল বোঝাবুঝি এবং নতুন রহস্য গল্পকে আরও জটিল করে তুলছে। সাম্প্রতিক পর্বে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে আদিত্য। বহুদিন ধরে নিজের মনের কথা পল্লবীকে জানাতে চেয়েছিল সে। সেই উদ্দেশ্যে বিশেষ আয়োজন করে পল্লবীর সামনে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করার প্রস্তুতি নিয়েছিল আদিত্য। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তেই ঘটনাপ্রবাহ অন্যদিকে মোড় নেয়। আচমকা সেখানে এসে উপস্থিত হয় মিঠি এবং পল্লবীকে ‘মাম্মাম’ বলে ডেকে ওঠে। এই একটি শব্দই আদিত্যের মনে ছুরির মতো গেঁথে যায়!
মুহূর্তের মধ্যে তার মুখের হাসি মিলিয়ে যায়। তৎক্ষণাৎ বাড়ি ফিরে নিজের রাগ, হতাশা এবং কষ্ট সামলাতে না পেরে ঘরের জিনিসপত্র ভাঙচুর করতেও দেখা যায় তাকে। এক মুহূর্তের জন্য নিজের উপরে ঘেন্না করতে থাকে আদিত্য। সে ভাবে এত বড় পাপ কিভাবে করে ফেলল! পল্লবী বিবাহিত, তার সন্তান আছে জেনেও তার প্রেমে পড়ে গেল? যদিও আদিত্য সম্পূর্ণ সত্যিই জানে না এখনও, তাও সে নিজের পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে প্রচুর পরিমাণে লঙ্কা খেতে শুরু করে। চোখ দিয়ে জল আর কষ্ট দুটোই চেপে রেখে সে বারবার মিঠির কথা মনে করতে থাকে।
এদিকে ঝিনুক এবং সম্রাটের বিয়েও ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সারাদিন অনেক চেষ্টা করার পর অবশেষে আদিত্যর বদলে যাওয়া আচরণ দেখে বৌদি জানতে পারে যে সে পল্লবীকে ভালোবাসে। তবে কিছুতেই আদিত্য বিয়ে হতে দিতে চান না তিনি পল্লবীর সঙ্গে তাই পল্লবীর কুষ্ঠী দোষের বিষয় খোঁজ লাগিয়ে সব তথ্য বের করে নেন। আর তারপর থেকেই নিজের মতো করে নতুন পরিকল্পনা করতে শুরু করেন যে কিভাবে দু’জনের সম্পর্ক তৈরি হওয়ার আগেই ভেঙে দেওয়া যায়। এদিকে অনুষ্ঠান শেষ হতেই ঝিনুকে বিদায় দেওয়ার সময় হয়ে যায়।
মেয়েকে এবার শ্বশুরবাড়ি যেতে হবে ভেবে ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ে কমলার মন, তাঁকে মানসিক শক্তি যোগান শ্রীনিবাস। কমলা চিন্তা করতে থাকে, সম্রাটের বাড়িতে কেউ নেই। অচেনা জায়গার একার সংসার কি করে ঝিনুক গড়ে তুলবে? শ্রীনিবাস আশ্বাস দেন যে ঝিনুকের সঙ্গে এই বাড়ি থেকে কয়েকজন গিয়ে তাকে সমস্ততা বুঝিয়ে দিয়ে আসবে। কিন্তু সম্রাট সবার সামনে বলে, প্রথমে শুধু ঝিনুককেই বাড়িতে নিয়ে যেতে চায়, আর অন্য কেউ যেন না যায়। নতুন জামাইয়ের এই কথায় বাড়ির সবাই হতবাক হয়ে যায়।
আরও পড়ুনঃ “তোমরা আসার আগেই মানুষ আমাদের চিনে গেছে!” জোয়ার ভাঁটার সেটে কার উদ্দেশে বি’স্ফোরক পোস্ট চাঁদনী সাহার? মন্তব্যে নতুন বিতর্ক উস্কে দিলেন শ্রুতি দাসও?
সমস্ত রীতিনীতি মেনে কনকাঞ্জলি থেকে শুরু করে আশীর্বাদ পর্ব শেষ হতেই, ঝিনুক সহ বাড়ির সবাই কান্নায় ভেঙে পড়ে। কিন্তু সম্রাটের আচরণ সবার মনেই সন্দেহ হয়। কেন ঝিনুককে একা নিয়ে যেতে চাইছে, শ্বশুরবাড়ির লোকেদের নিয়ে যেতে কি আপত্তি? যদিও এতদিনে সম্রাটের কালোর প্রতি ভালোবাসা এবং ঝিনুককে ঘিরে অতিরিক্ত ঈর্ষা প্রকাশ পেয়েছে বারবার। কিন্তু তার বাড়িতে কি লুকিয়ে আছে এমন কোনও রহস্য, যেটা ঝিনুক ছাড়া অন্য কারোর পক্ষে জানলে ক্ষতিকর হতে পারে? উত্তর মিলবে আগামী পর্বে।
