এক সপ্তাহের ব্যবধানে পরপর দুই ছবিতে প্লেব্যাক করেছেন গায়িকা লগ্নজিতা চক্রবর্তী। একটি ঋজু মুখোপাধ্যায় পরিচালিত ‘অভিমান’ ছবির জন্য, যেখানে সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের লেখা ও সুর করা ‘আদর’ গানটি গেয়েছেন তিনি। অন্যটি কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ ছবিতে অনুপম রায়ের সুরে। এই দুই ছবিতে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুলতে গিয়েই শুধু নতুন গান নয়, গত কয়েক বছরের কাজের অভিজ্ঞতা, প্রতিবাদ এবং টলিউডের পরিস্থিতি নিয়েও খোলামেলা কথা বলেন লগ্নজিতা।
গায়িকা জানান, পরপর দু’টি ছবিতে গান মুক্তি পাওয়াটা তাঁর কাছে সম্পূর্ণ কাকতালীয়। তিনি বলেন, এত কম কাজ পান যে কখন নতুন গান আসবে, তা নিয়ে বিশেষ ভাবেন না। তবে কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের ছবিতে গান গাওয়ার সুযোগ পাওয়া তাঁর কাছে বিশেষ প্রাপ্তি। প্রায় ১২ বছর ধরে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করলেও এই প্রথম কৌশিকের ছবিতে গান গাইলেন। অন্যদিকে ঋজু মুখোপাধ্যায়ের ছবিতে গান গাওয়ার বিষয়টিও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত জানতেন না। নারী কণ্ঠে প্রথমবার সেই গান গাওয়ার সুযোগ পেয়ে তিনি স্বাভাবিকভাবেই খুশি বলে জানান।
কম কাজ পাওয়ার প্রসঙ্গে লগ্নজিতার বক্তব্য, এতে তাঁর কোনও আক্ষেপ নেই। বরং নিজের স্বভাবের কারণেই তিনি অনেক সময় নিজেকে প্রচারের দৌড়ে রাখেন না। তাঁর কথায়, ভালো সুরকার ও পরিচালকরা শিল্পীকে খুঁজে নেন। তাই বাড়িতে বসেই এমন কিছু গানের সুযোগ এসেছে, যেগুলি পরে শ্রোতাদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়েছে। ইন্ডাস্ট্রিতে সারাক্ষণ দৌড়ঝাঁপ না করেও ভালো কাজ পাওয়া সম্ভব বলেই তাঁর বিশ্বাস।
আলোচনায় উঠে আসে আরজি কর আন্দোলনের পর তাঁর পেশাগত জীবনের বিষয়ও। লগ্নজিতা জানান, প্রতিবাদের পর তাঁর কাছে সমঝোতার প্রস্তাব এসেছিল, কিন্তু তিনি সেই পথে হাঁটেননি। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, গত ১২ বছরে নিজের পাড়ার পিঠেপুলি উৎসবেও তাঁকে গান গাওয়ার ডাক মেলেনি। পরিচিতদের কাছ থেকে জানতে পেরেছিলেন, সেই সুযোগ পেতে হলে তৎকালীন দায়িত্বে থাকা ইন্দ্রনীল সেনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হতো। কিন্তু শুধু অনুষ্ঠান পাওয়ার জন্য তিনি কখনও কারও কাছে অনুরোধ বা সুপারিশ করতে চাননি।
আরও পড়ুনঃ “এটা ফল নয়, গীতশ্রীর প্রতি অবিচার!” “যোগ্য শিল্পীকেই বঞ্চিত করা হলো” সারেগামাপার ফল ঘিরে বিতর্কে সরগরম নেটপাড়া! গায়িকা গীতশ্রী চৌধুরী প্রথম রানারআপ হতেই অন্যায্য বিচার নিয়ে ক্ষো’ভ উগরে দিলেন দর্শকরা! আপনারও কি একই মত?
রাজনীতি ও শিল্পীদের সম্পর্ক নিয়েও নিজের মত স্পষ্ট করেন লগ্নজিতা। তাঁর মতে, কোনও শিল্পী কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে পরিচিত থাকলেই সমস্যা নয়। সমস্যা তৈরি হয় তখনই, যখন সেই সম্পর্ক ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তিনি দাবি করেন, নিজের জীবনে কোনও রাজনৈতিক পরিচয় কাজে লাগিয়ে কখনও সুযোগ নেননি। দর্শকদের ভালোবাসাই একজন শিল্পীর আসল শক্তি, তাই সেই বিশ্বাস অটুট রাখার দায়িত্বও শিল্পীদেরই বলে মনে করেন তিনি।
