নাচ দিয়ে পথচলা শুরু, তারপর ছোটপর্দায় একের পর এক সফল কাজের পর দেবের বিপরীতে বড় পর্দায় অভিষেক, দীর্ঘ ১৬ বছরের অভিনয় জীবনে বাংলা বিনোদন জগতে জনপ্রিয় মুখ হিসেবে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন ‘শ্বেতা ভট্টাচার্য’ (Sweta Bhattacharya)। বিয়ের পর ব্যক্তিগত জীবনে সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে কিছুদিন অভিনয় থেকে নিজেই বিরতি নেন। সেই সময় নতুন কোনও ধারাবাহিকে তাঁকে না দেখে অনেক অনুরাগীই তাঁর প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় ছিলেন। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও নতুন কাজে ফিরছেন অভিনেত্রী।
বেশ কিছুদিন আগে দিদি নাম্বার ওয়ান এর সঞ্চালক হিসেবে ফের পর্দায় ফিরেছিলেন তিনি। তবে এবার তাঁকে দেখা যাবে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক রূপে। মহালয়া উপলক্ষে একটি বিশেষ ডিজিটাল প্রজেক্টে দেবী দুর্গার আদিশক্তির রূপে দেখা যাবে শ্বেতাকে। নবচিত্র ক্রিয়েশনসের উদ্যোগে তৈরি এই নিবেদন ইউটিউব প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত হবে। টেলিভিশনের মহালয়ায় আগে অংশ নিলেও শুধুমাত্র ডিজিটাল মাধ্যমের জন্য এমন কাজ এই প্রথম করছেন তিনি। শুটিং সেট থেকে প্রকাশ্যে আসা তাঁর দুর্গার সাজ ইতিমধ্যেই দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে।
অভিনেত্রীর বিশ্বাস, এই কাজ তাঁর অভিনয় জীবনের এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে। অভিনয়ের পাশাপাশি নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও খোলাখুলি কথা বলেছেন শ্বেতা। তিনি জানান, বিয়ের পর টানা শুটিংয়ের ব্যস্ততায় স্বামীর সঙ্গে কোথাও বেড়াতে যাওয়ার সুযোগই হয়নি। তাই আগের কাজ শেষ হওয়ার পর তিনি নিজেই কিছুদিনের জন্য বিরতি নিয়ে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর কথায়, পরিবারকে সময় দেওয়া তাঁর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একইসঙ্গে বাপের বাড়ি ও শ্বশুরবাড়ির দায়িত্ব সামলে পেশাগত জীবনও সমানভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।
অভিনেত্রী জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই তাঁর অভিনয় জীবনের দশম ধারাবাহিকের কাজও শুরু হবে। নতুন চরিত্র বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি এখন আগের চেয়ে বেশি সচেতন। একই ধরনের চরিত্রে আটকে না থেকে এমন ভূমিকায় অভিনয় করতে চান, যা দর্শকদের কাছে নতুন মনে হবে। পাশাপাশি বর্তমান সময়ে শিল্পীদের ট্রোলিং এবং রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও তিনি স্পষ্ট করেছেন, রাজনৈতিক বিষয় তাঁর আগ্রহের জায়গা নয়। বরং একজন অভিনেত্রী হিসেবেই মানুষের মনে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে চান তিনি এবং অভিনয় দিয়েই নিজের পরিচয় গড়ে তুলতে চান।
আরও পড়ুনঃ “ও আর নায়িকা নেই, মা-কাকিমার রোল ছাড়া ওকে আর কেউ নেবে না….স্বামীর ঠিকাদারির কাজ না হওয়াতেই এত রাগ” ফের রচনা ব্যানার্জিকে তীব্র কটাক্ষ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের! এই ব্যক্তিগত আক্রমণ কবে বন্ধ হবে?
এই মহালয়ার বিশেষ প্রজেক্টটির পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন মাত্র ২৩ বছর বয়সি এক তরুণ পরিচালক। তাঁর কাজের প্রতি নিষ্ঠা এবং পুরো টিমের উদ্যমের প্রশংসাও করেছেন শ্বেতা। মহিষাসুর চরিত্রে সায়ন্তন গুপ্তের অ্যাকশন দৃশ্য, রূপসজ্জা, পোশাক এবং গোটা টিমের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই নিবেদনকে বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে দীর্ঘ বিরতির পর নতুন রূপে শ্বেতা ভট্টাচার্যের প্রত্যাবর্তন এখন তাঁর অনুরাগীদের কাছে অন্যতম বড় আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।
