জি বাংলার ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’-এর (Kamala Nibas) গল্পে একদিকে যেমন পারিবারিক টানাপোড়েন বাড়ছে, তেমনই সম্রাট ও ঝিনুকের সম্পর্কেও ধীরে ধীরে সামনে আসছে নতুন নতুন রহস্য। আজকের পর্বের শুরুতেই দেখা যায়, সম্রাটের পছন্দ হবে ভেবে ঝিনুক বাড়িটা নতুন করে সাজাতে চায়। তবে সব জিনিসের জায়গা বদলে যাওয়ায় ক্ষো’ভে ফেটে পড়ে সম্রাট! তার সেই আচরণে ভয় পেয়ে যায় ঝিনুক। পরিস্থিতির গভীরতা বুঝে সম্রাট তাকে শান্ত করার চেষ্টা করে, কথা বলে তার মন ভালো করতে চাইলেও ঝিনুকের চুপচাপ নিজের ঘরে চলে যায়।
এরইমধ্যে কমলা বারবার ফোন করে ঝিনুককে, তবে ঝিনুক কিছুতেই ফোন তোলে না। বাধ্য হয়ে সম্রাটের ফোনে ভিডিও কল করে মেয়ের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিন্ত হন। এরপর, খাওয়ার সময় আচমকাই সম্রাট ঝিনুককে জানতে চাও বাড়ির বাইরে কেন যেতে চেয়েছিল সে? ঝিনুক জানিয়ে দেয়, সে পাস্তা রান্না করবে ঠিক করে কিন্তু বাড়িতে সবকিছু না থাকায় কিনতে বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও দরজা খোলা সম্ভব হয়নি। ঝিনুকের মুখে এই কথা শুনে সম্রাটের ঠিক করে, ভবিষ্যতে কোনওভাবেই ঝিনুককে এই বাড়ির বাইরে যেতে দেওয়া যাবে না। যদিও ঝিনুক গোপন পাসওয়ার্ড জানে না।
সম্রাটের এই মানসিকতা দেখে স্পষ্ট, বাইরে থেকে যতই স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করুক, অন্তর থেকে সে বিকৃত মানসিকতার। তবে সম্রাটের সেই আত্মবিশ্বাস বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। কথার মাঝেই ঝিনুক প্রশ্ন করে, যার জন্য একেবারেই প্রস্তুত ছিল না সে। ঝিনুক জানতে চায়, সে যে বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা করেছিল, সেই খবর সম্রাট জানল কীভাবে? এই একটি প্রশ্নেই কার্যত অস্বস্তিতে পড়ে যায় সম্রাট। মুহূর্তের মধ্যে তার মুখের ভাব বদলে যায়। কী উত্তর দেবে বা কীভাবে বিষয়টা সামলাবে, কিছুই বুঝে উঠতে পারে না। অন্যদিকে দেখা যায়, কমলা বাড়ির সবাইকে জানায় যে মিঠির চিকিৎসার জন্য ডাক্তার হঠাৎ এত টাকা চাইবেন, তা সে ভাবতেই পারেনি।
কমলার বড় ছেলে আবার সেই পুরোনো কথা টেনে বলে, মিঠির সমস্ত দায়িত্ব নিজের কাঁধে নেওয়ার সিদ্ধান্ত কে নিতে বলেছিল? পরিবারের মধ্যে এই কথা কাটাকাটির পরিবেশে পল্লবীকে ভীষণ অসহায় দেখায়। ঠিক তখনই শ্রীনিবাস এগিয়ে এসে মেয়েকে আশ্বাস দেন, তিনি যতদিন বেঁচে আছেন, ততদিন পল্লবীর কোনও চিন্তা করার প্রয়োজন নেই। এই আবেগঘন পরিস্থিতির মধ্যেই রাজুর একটি ছোট্ট আচরণ সবার নজর কেড়ে নেয়। কথা বলতে না পারলেও হাতের ইশারায় সে বোঝানোর চেষ্টা করে যে, সেও পরিবারের পাশে রয়েছে এবং সবাইকে নিয়ে সব সমস্যার মোকাবিলা করবে।
আরও পড়ুনঃ বিজেপি জমানাতেও রমরমিয়ে চলছে ব্যান কালচার! কেন কাজ থেকে বাদ পড়লেন জাতীয় পুরস্কারজয়ী মেকআপ শিল্পী সোমনাথ কুণ্ডু ও হেয়ার ড্রেসার হেমা মুন্সি?
রাজুর সেই ইশারা দেখে বাড়ির সকলে অবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে থাকে। তবে বারবার মিঠিকে নিয়ে সবার আপত্তি দেখে ভেঙে পড়ে পল্লবী। সে মনে মনে ঠিক করে আর অন্যের ওপর নির্ভর করে থাকলে চলবে না। নিজের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে হলে তাকে নিজের পায়ে দাঁড়াতেই হবে। তাই সে মনে মনে সিদ্ধান্ত নেয়, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব একটি চাকরি খুঁজে নিজের দায়িত্ব নিজেকেই নিতে হবে। পল্লবীর জীবনের নতুন অধ্যায় শুরুর আগেই কী ফের উঠবে ঝড়? উত্তর মিলবে আগামী পর্বে।
