মহানায়ক উত্তমকুমারের প্রয়াণের এত বছর পরেও তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা আলোচনা থামেনি। বিশেষ করে শেষ সময়ে স্ত্রী গৌরী দেবী এবং অভিনেত্রী সুপ্রিয়া দেবীকে ঘিরে বহু বিতর্ক ছড়িয়েছে। এবার সেই পুরনো বিতর্ক নিয়ে মুখ খুললেন উত্তমকুমারের কন্যা সোমা চট্টোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
সোমা চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, বাবার শেষ সময় নিয়ে বাইরে যেভাবে নানা গল্প প্রচারিত হয়েছে, তার অনেকটাই বাস্তবের সঙ্গে মেলে না। তিনি বলেন, পরিবারের সদস্যরাই সেই সময়ের প্রকৃত সাক্ষী। তাই নানা গুজব বা শোনা কথার বদলে সত্যিটাই সামনে আসা উচিত বলে তাঁর মত।
তিনি আরও জানান, উত্তমকুমারের জীবনে গৌরী দেবী এবং সুপ্রিয়া দেবী দু’জনেরই আলাদা গুরুত্ব ছিল। তবে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে অযথা বিতর্ক তৈরি করা ঠিক নয়। বহু বছর ধরে বিভিন্নভাবে বিষয়টি তুলে ধরা হলেও, পরিবারের দৃষ্টিভঙ্গি অনেকটাই ভিন্ন বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
সম্প্রতি, সুপ্রিয়া কন্যা সোমা চট্টোপাধ্যায় ফেসবুকে একটি ভিডিয়োর মাধ্যমে জানান, “ফেসবুকে একটি পোস্ট দেখলাম, যেখানে উত্তম কুমারের পরিবারের এক আত্মীয় বলছেন যে আমার মা সুপ্রিয়া দেবীকে নাকি সেদিন গিরিশ মুখার্জি রোডের বাড়িতে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এখানেই আমার আপত্তি রয়েছে। কারণ, সেদিন মায়ের পাশেই ছিলাম আমি। আসল সত্যিটা হল, মা-কে কেউ আটকায়নি, বরং মা নিজেই সেদিন ওই বাড়িতে যাননি। ওখানে রাজনীতি হচ্ছিল, অনেক কথা হতো, সেইজন্যই মা এড়িয়ে গিয়েছিলেন! কুড়ি বছর উত্তম কুমারের সঙ্গে লিভ ইন করেছেন আমার মা। উত্তম কুমার মায়ের হাতের খাবার খেতে ভালোবাসতেন তাই প্রত্যেকদিন তার জন্য রান্না করতেন। মহানায়কের জন্য নিজের কেরিয়ার ত্যাগ করেছিলেন আমার মা”
সোমা দেবীর বক্তব্যে উঠে এসেছে, মহানায়কের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কৌতূহল থাকলেও তাঁর কাজ এবং অবদানই বেশি গুরুত্ব পাওয়া উচিত। তিনি মনে করেন, একজন শিল্পীর ব্যক্তিগত সম্পর্কের চেয়ে তাঁর সৃষ্টিকর্মই মানুষকে দীর্ঘদিন মনে রাখে। সেই কারণেই অপ্রয়োজনীয় বিতর্কে না জড়ানোর বার্তাও দেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ ঝিনুকের ক্লাসরুমে পৌঁছেই চমকে গেল সম্রাট! ঝিনুকের নামে বেঞ্চে প্রেমের বার্তা লিখল কে? সত্যিটা জানার আগেই রাগে অগ্নিশর্মা সম্রাট! ‘কমলা নিবাস’-এ এবার কি ঘটতে চলেছে আরও বড় অঘটন? এবার কি সম্রাটের রাগে’র শিকা’র হবে ঝিনুক?
উত্তমকুমারের মৃত্যুবার্ষিকীর আবহে সোমা চট্টোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য আবারও আলোচনায় নিয়ে এসেছে মহানায়কের শেষ জীবনের নানা অজানা অধ্যায়কে। তবে তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, অতীতের বিতর্ক নয়, বরং উত্তমকুমারের শিল্পীসত্ত্বাকেই সবচেয়ে বেশি মনে রাখুক মানুষ।
