জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

‘ছাড়তে গেলে যেমন এনওসি লাগে, ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে…’ ১৪ মাস অভিনয়ের পর হঠাৎ উধাও চরিত্র! কিছু না জানিয়েই ‘কুসম’ থেকে বাদ, প্রিয় সদস্য দীপালি মাসি! অপমানিত হয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষো’ভ প্রকাশ জুঁই সরকারের! তুললেন একাধিক প্রশ্ন?

দীর্ঘ সময় ধরে একটি জনপ্রিয় ধারাবাহিকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করার পর হঠাৎ করেই সেই চরিত্র গল্প থেকে হারিয়ে গেলে শিল্পীর মনে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। ঠিক এমনই একটি অভিজ্ঞতার কথা এবার প্রকাশ্যে আনলেন অভিনেত্রী জুঁই সরকার (Juiee Sarkar)। জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘কুসম’-এ (Kusum) দীপালি চরিত্রে প্রায় ১৪ মাস ধরে নিয়মিত অভিনয় করেছেন তিনি। কিন্তু কিছুদিন ধরে সেই চরিত্রকে আর পর্দায় দেখা যাচ্ছে না। শুধু তাই নয়, অভিনেত্রীর দাবি, তাঁর কাছেও আর কোনও শুটিংয়ের কল টাইম আসছে না। এই পরিস্থিতিতেই সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট করে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন তিনি।

পোস্টে জুঁই সরকার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছেন, যা এখন ছোটপর্দার অন্দরমহলেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। অভিনেত্রীর বক্তব্য, কোনও শিল্পী যদি নিজে থেকে একটি চরিত্র বা ধারাবাহিক ছেড়ে যেতে চান, তাহলে তাঁকে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে NOC দিয়ে আগে থেকে জানাতে হয়। কিন্তু উল্টো পরিস্থিতিতে যখন কোনও চরিত্রকে গল্প থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় বা আর শুটিংয়ে ডাকা হয় না, তখন সেই শিল্পীকে আগাম জানানো বাধ্যতামূলক নয় কেন? এই প্রশ্নই তিনি সকলের সামনে তুলে ধরেছেন।

জুঁইয়ের এই পোস্ট সামনে আসতেই তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে। অনেক দর্শকই তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে সহমত প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, গল্পের প্রয়োজনে চরিত্রের পরিবর্তন বা বাদ পড়া নতুন কিছু নয়। কিন্তু যিনি দীর্ঘদিন ধরে সেই চরিত্রে অভিনয় করছেন, তাঁকে অন্তত আগে থেকে বিষয়টি জানানো উচিত। অনেকেই মনে করছেন, এতে শিল্পীর ভবিষ্যৎ কাজের পরিকল্পনা করতেও সুবিধা হয় এবং পেশাগত সম্পর্কও আরও স্বচ্ছ থাকে।

শুধু দর্শকরাই নন, টেলিভিশন জগতের একাধিক পরিচিত শিল্পী এবং কলাকুশলীরাও জুঁই সরকারের পোস্টে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। অভিনেত্রী তানিয়া কর, মানসী সিনহা, পারমিতা ভট্টাচার্য, সোমজিতা ভট্টাচার্য এবং পরিচালক অয়ন সেনগুপ্ত-সহ অনেকেই মন্তব্য করে নিজেদের মত প্রকাশ করেছেন। তাঁদের বক্তব্যেও একই বিষয় উঠে এসেছে। অনেকেরই মত, কোনও চরিত্র নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্পূর্ণ নির্মাতাদের অধিকার হলেও সেই সিদ্ধান্তের কথা সংশ্লিষ্ট শিল্পীকে আগে থেকে জানানোই পেশাদারিত্বের পরিচয়।

এই ঘটনার পর ছোটপর্দার কর্মপদ্ধতি নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই বলছেন, অভিনয় জগতে এমন পরিস্থিতি নতুন নয়, তবে যোগাযোগের অভাব থেকেই বেশিরভাগ সমস্যার সৃষ্টি হয়। একজন শিল্পী দীর্ঘদিন একটি চরিত্রে কাজ করার পর যদি হঠাৎ কোনও ব্যাখ্যা ছাড়াই কাজ বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই তাঁর মনে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। জুঁই সরকারের পোস্ট সেই অভিজ্ঞতাকেই সামনে এনেছে বলে মনে করছেন অনেকে।

তবে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত ধারাবাহিকের নির্মাতা বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। ফলে জুঁই সরকারের প্রশ্নের উত্তর এখনও অমীমাংসিতই রয়ে গেছে। তাঁর পোস্টকে কেন্দ্র করে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তা শুধু একটি ধারাবাহিকের চরিত্র নিয়েই নয়, বরং টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিতে শিল্পীদের সঙ্গে পেশাগত যোগাযোগ এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তাকেও নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে।

Rimi Datta

রিমি দত্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর। কপি রাইটার হিসেবে সাংবাদিকতা পেশায় চার বছরের অভিজ্ঞতা।

                 

You cannot copy content of this page