জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“ভালো মানুষ ভাবতে শুরু করেছিলাম, কিন্তু এই অবস্থাতেও সম্রাটের সাই’কোগিরির যেন শেষই নেই!” “বোন দাদাকে জড়িয়ে ধরবে, মায়ের সঙ্গে হাসপাতালে মেয়ে থাকবে এটাই তো স্বাভাবিক!” সম্রাটকে নিয়ে বদলে যাচ্ছিল সবার ধারণা, কিন্তু এক রাতেই সব ওলটপালট! এবার রাজুর ক্ষ’তি করবে সে? ফের ক্ষো’ভে ফুঁসছেন ‘কমলা নিবাস’-এর দর্শকরা!

জি বাংলার ‘কমলা নিবাস’ (Kamala Nibas) ধারাবাহিকে সম্রাট চরিত্রটিকে নিয়ে দর্শকদের মতামত শুরু থেকেই দুই ভাগে বিভক্ত। কখনও ঝিনুকের প্রতি তার অতিরিক্ত অধিকারবোধ, কখনও হঠাৎ রাগ বা অস্বাভাবিক আচরণের জন্য সে সমালোচিত হয়েছে। তবে শ্রীনিবাসের দুর্ঘটনার পর গুহ পরিবারের পাশে যেভাবে সে দাঁড়িয়েছিল, তাতে অনেকেই নতুন করে সম্রাটকে মূল্যায়ন করতে শুরু করেন। বিপদের সময় পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেওয়া, শ্বশুরবাড়ির মানুষের পাশে থাকা এবং নিজের স্বার্থের আগে তাঁদের কথা ভাবার জন্য দর্শকদের একাংশের শ্রদ্ধাও বেড়েছিল। অনেকেই মনে করেছিলেন, মাঝে মাঝে ভুল করলেও সম্রাট আসলে খারাপ মানুষ নয়, বরং নিজের মানুষদের নিয়েই বেশি ভাবতে গিয়ে অনেক সময় বাড়াবাড়ি করে ফেলে।

কিন্তু সাম্প্রতিক পর্ব সম্প্রচারের পর সেই ধারণায় আবার বড় ধাক্কা লেগেছে। হাসপাতালে গুরুতর অসুস্থ শ্রীনিবাসের পাশে থাকার জন্য ঝিনুক যখন নিজের মা এবং পরিবারের সঙ্গে রাত কাটাতে চায়, তখনও সম্রাট সেই সিদ্ধান্ত সহজভাবে মেনে নিতে পারে না। শুধু তাই নয়, কঠিন সময়ে দাদা রাজুকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দেওয়ার ঘটনাকেও সে স্বাভাবিকভাবে নিতে পারেনি। ভাইবোনের স্বাভাবিক সম্পর্কের মধ্যেও সন্দেহের ছায়া খুঁজে পাওয়ায় দর্শকদের বড় অংশ আবারও সম্রাটের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। তাঁদের মতে, বিপদের সময় এমন মানসিকতা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।

এই পর্ব দেখার পর এক দর্শক সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, “এই অবস্থাতেও সম্রাটের নিরাপত্তাহীনতার যেন শেষ নেই! বোন তার দাদাকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দেবে, এটাই তো স্বাভাবিক। কিন্তু সম্রাট সেটাকেও ভুলভাবে নিচ্ছে। এখন শুধু এটাই চাই, সম্রাট যেন রাগের বশে রাজুদার কোনো ক্ষতি না করে। ঝিনুকের আশেপাশে অন্য কাউকে দেখলেই সম্রাটের নিরাপত্তাহীনতা বেড়ে যায়। দেখা যাক, আজকের পর্বে সম্রাট কী করে। আগামী পর্বের ঝলক দেখে তেমন সুবিধার লাগলো না।” এই মন্তব্যে বহু দর্শক সহমত জানিয়েছেন। অনেকেই বলছেন, সম্রাটের ভালো দিকগুলো ধীরে ধীরে সামনে আসছিল, কিন্তু আবারও তার এই আচরণ সেই ইতিবাচক ভাবমূর্তিকে নষ্ট করে দিল।

আরও এক দর্শক সম্রাটের আচরণ নিয়ে আরও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে লিখেছেন, “সাইকোগিরির যেন শেষই নেই! ঝিনুক তার মায়ের সঙ্গে হাসপাতালে থাকবে, এটা শুনেই সম্রাট এমন একটা কাজ করল, যা সত্যিই অবাক করার মতো। ঝিনুককে নিজের সাথে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য সম্রাট সিজার কাঁচি দিয়ে নিজের হাত কেটে ফেলে। এমনকি মুখে কালো রুমাল চেপে রাখে, যাতে ব্যথায় চিৎকারের শব্দ বাইরে না যায়। ভাবা যায় সম্রাট ঝিনুককে কারো সাথে থাকতে দেবে না বলে কি কি করতে পারে!” এই দৃশ্য নিয়েও সামাজিক মাধ্যমে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, সম্রাটের এই অতিরিক্ত অধিকারবোধ ভবিষ্যতে আরও বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

সব মিলিয়ে, সম্রাটকে নিয়ে দর্শকদের মনোভাব আবারও বদলাতে শুরু করেছে। কিছুদিন আগেও শ্রীনিবাসের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য যে চরিত্রটি প্রশংসা পাচ্ছিল, এখন সেই চরিত্রের আচরণ নিয়েই নতুন করে সমালোচনা শুরু হয়েছে। আগামী পর্বে সম্রাট নিজের ভুল বুঝতে পারবে, নাকি আরও বড় কোনও সিদ্ধান্ত নিয়ে সম্পর্কগুলোকে জটিল করে তুলবে, তা নিয়েই দর্শকদের কৌতূহল বাড়ছে। এখন সকলের নজর, এই চরিত্রের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

Rimi Datta

রিমি দত্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর। কপি রাইটার হিসেবে সাংবাদিকতা পেশায় চার বছরের অভিজ্ঞতা।

                 

You cannot copy content of this page