জি বাংলার ধারাবহিক ‘কমলা নিবাস’-এর (Kamala Nibas) সাম্প্রতিক পর্বে গল্পের পাশাপাশি দর্শকদের নজর কেড়েছে কমলা ও শ্রীনিবাসের বড় মেয়ে অঞ্জুর আচরণ। বিয়ে হয়ে যাওয়ার পরও ছোটখাটো প্রয়োজন হলেই সে মা-বাবার কাছেই ছুটে আসে। কিন্তু বাবা-মা যে এই মুহূর্তে নিজেরাই নানান সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন, সেই বিষয়টি যেন তার ভাবনাতেই নেই। বরং নিজের চাহিদাগুলো কীভাবে তাঁদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া যায়, সেটাই যেন অঞ্জুর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সম্প্রতি শ্রীনিবাস বাবুর দুর্ঘ’টনার পর সবে বাড়িতে ফিরেছেন। এমন পরিস্থিতিতেও অঞ্জু নিজের সুবিধার কথা ভাবায় ক্ষুব্ধ দর্শকদের একাংশ। তাঁদের মতে, এই সময়ে মেয়ের উচিত ছিল মা-বাবার পাশে দাঁড়ানো, তাঁদের সাহায্য করা। সেখানে অঞ্জু উল্টে নিজের কাশ্মীর যাওয়ার ইচ্ছা নিয়ে হাজির হয়েছে। ফলে তার এই আচরণকে একেবারেই ভালোভাবে নেননি দর্শকরা। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন, বিয়ের পর নিজের বেড়াতে যাওয়ার ইচ্ছার কথা স্বামীকে না বলে বারবার কেন মা-বাবার কাছেই বলতে হবে?
শুধু নিজের চাহিদা নয়, মিঠির পড়াশোনাকে কেন্দ্র করেও অঞ্জুর মন্তব্যে বিরক্ত দর্শকরা। মিঠি নতুন স্কুলে ভর্তি হওয়ার পর তার পড়াশোনার খরচ নিয়েও অঞ্জু প্রশ্ন তুলছে এবং সেই নিয়ে পল্লবীকেও কথা শোনাচ্ছে। দর্শকদের বক্তব্য, মিঠি পল্লবীর মেয়ে এবং পল্লবীর সামর্থ্য থাকলে সে নিজের মেয়েকে ভালো স্কুলে পড়াতেই পারে। সেখানে অন্য কারও এত আপত্তির কারণ কী, সেটাই বুঝতে পারছেন না তাঁরা। অঞ্জুর এই আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করে এক দর্শক সরাসরি লিখেছেন, “কী রকম জঘন্য মেয়ে, ছি! এই অঞ্জুটাও খুবই পাজি, ঠিক সমরের ফিমেল ভার্সন!”
অর্থাৎ দর্শকদের একটা অংশের চোখে অঞ্জুর আচরণের সঙ্গে কমলার বড় ছেলে সমরের স্বার্থপরতার বেশ মিল রয়েছে। আরেকজনের মন্তব্য, “দেখছে, বাবা দুদিন আগেই অ্যাক্সিডেন্ট থেকে বেঁচে বাড়ি ফিরল, এরই মধ্যে সে এসে পড়েছে কাশ্মীর যাওয়ার ইচ্ছে নিয়ে! বিয়ে করেছিস, তোর ইচ্ছেগুলো বরকে বল না, মা-বাবাকে কেন এসে জ্বালাবি…!” অঞ্জুর নিজের সুবিধাকে এতটা গুরুত্ব দেওয়াই যে দর্শকদের বিরক্তির অন্যতম কারণ, তা এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট। এমনকি কেউ কেউ মনে করছেন, অঞ্জুর এই আচরণের পর কমলার উচিত ছিল মেয়েকে কড়াভাবে শাসন করা।
আরও পড়ুনঃ নজরদারি আর বন্দিদশায় অতিষ্ঠ হয়ে সম্রাটের বাড়ি ছাড়ার সিদ্ধান্ত ঝিনুকের! কিন্তু যাওয়ার আগে কোন বড় রহস্যের সমাধান করবে সে? ‘কমলা নিবাস’-এর আজকের পর্বে ঝিনুকের মোক্ষম চালে ফাঁস হবে এতদিনের গোপন সত্য?
এক দর্শকের কথায়, “এই কঠিন পরিস্থিতিতে কোথায় সে মা-বাবাকে সাহায্য করবে, তা নয় মা-বাবাকেই খোঁটা দিচ্ছে! আর মিঠিকে নিয়েই বা এত সমস্যা কিসের? সে পল্লবীর মেয়ে, পল্লবীর সামর্থ্য থাকলে সে দামি স্কুলেই পড়াবে। বেচারি মেয়েটাকেও কথা শোনাচ্ছে..! কমলার উচিত ছিল অঞ্জুকে ঠাসিয়ে একটা থাপ্পড় মারা! খুবই জঘন্য মেয়ে…বিবেক বলতে কিছুই নেই!” ফলে অঞ্জুর সাম্প্রতিক আচরণ নিয়ে দর্শকদের বিরক্তি যে বেশ তীব্র, তা সমাজমাধ্যমের মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট। এখন দেখার, আগামী পর্বে অঞ্জু নিজের ভুল বুঝতে পারে কি না, নাকি নিজের স্বার্থ নিয়েই একইভাবে এগিয়ে যাবে।
