বাংলা টেলিভিশনের পরিচিত মুখ দিব্যজ্যোতি দত্ত এবার ধীরে ধীরে বড় পর্দাতেও নিজের জায়গা তৈরি করার পথে। ‘জয়ী’, ‘চুনী-পান্না’, ‘দেশের মাটি’ এবং ‘অনুরাগের ছোঁয়া’র মতো ধারাবাহিকে অভিনয় করে দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় হয়েছেন তিনি। বিশেষ করে ‘অনুরাগের ছোঁয়া’ ধারাবাহিকে সূর্যর চরিত্র তাঁকে ঘরে ঘরে পরিচিতি এনে দেয়। ছোট পর্দায় দীর্ঘদিন কাজ করার পর এবার সিনেমাতেও নিজের অভিনয়ের পরিধি বাড়াচ্ছেন অভিনেতা। এরই মধ্যে দিব্যজ্যোতি এবং দিব্যাণী মণ্ডলকে জুটি করে নতুন ছবির কাজের খবর সামনে এসেছে। অভিমন্যু মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায় রানা সরকারের প্রযোজনায় তৈরি হতে চলা ‘রেড ফ্ল্যাগ: ভালবাসা বেশি’ ছবিতে তাঁদের দেখা যাবে।
তবে এরই মধ্যে দিব্যজ্যোতিকে নিয়ে বড় মন্তব্য করে তাঁর আগামী দিনের সম্ভাবনা আরও বাড়িয়ে দিলেন অভিনেতা জিৎ। সম্প্রতি নিজের নতুন ছবি ‘কেউ বলে বিপ্লবী কেউ বলে ডাকাত’-এর প্রচারে এক সাক্ষাৎকারে দিব্যজ্যোতি প্রসঙ্গে কথা বলেন জিৎ। তাঁর মতে, দিব্যজ্যোতি দত্তের মধ্যে ভবিষ্যতের প্রথম সারির নায়ক হয়ে ওঠার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি বাংলার পরবর্তী সুপারস্টার বা তথাকথিত হিরো হওয়ার পটেনশিয়ালও তাঁর মধ্যে রয়েছে বলে মনে করেন জিৎ। বাংলা ছবির বর্তমান নায়ক প্রসঙ্গে নিজের পর্যবেক্ষণ থেকেই এমন কথা বলেছেন তিনি। জিৎ-এর বক্তব্য অনুযায়ী, এই মুহূর্তে তাঁকে এবং দেবকে বাদ দিলে মূলধারার বাংলা ছবিতে প্রথম সারির নায়ক হিসেবে নতুন মুখের সংখ্যা খুবই কম।
সেই জায়গা থেকেই আগামী দিনে নতুন প্রজন্মের কোনও অভিনেতার উঠে আসার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। আর সেই সম্ভাবনাময় মুখ হিসেবেই দিব্যজ্যোতি দত্তকে দেখছেন জিৎ। শুধু সম্ভাবনার কথা বলেই থেমে থাকেননি জিৎ, দিব্যজ্যোতির ভবিষ্যৎ নিয়েও যথেষ্ট আশাবাদী তিনি। অভিনেতার কথায়, ভাগ্য যদি দিব্যজ্যোতির পাশে থাকে, তাহলে তাঁর উন্নতি এবং জনপ্রিয়তার পথে কেউ বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না। অর্থাৎ শুধু অভিনয়ের সুযোগ নয়, সঠিক সময় এবং সঠিক কাজ পেলে দিব্যজ্যোতি অনেকটাই এগিয়ে যেতে পারেন বলে মনে করছেন জিৎ। ছোটপর্দায় তাঁর জনপ্রিয়তা ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে, এবার সেই পরিচিতিকে বড় পর্দায় কতটা কাজে লাগাতে পারেন সেটাই দেখার।
প্রসঙ্গত, দিব্যজ্যোতি ইতিমধ্যেই বড় পর্দায় কাজের দিকেও এগিয়েছেন এবং নতুন ছবিতে দিব্যাণী মণ্ডলের সঙ্গে জুটি বাঁধছেন। এই ছবি ছাড়াও তাঁর প্রথম সিনেমা নিয়ে ২০২৬ সালে প্রচারের খবরও সামনে এসেছে, ফলে বড় পর্দায় অভিনেতার নতুন অধ্যায় শুরু হওয়ার ইঙ্গিত স্পষ্ট। ফলে জিৎ-এর এমন মন্তব্য তাঁর কেরিয়ারের এই নতুন পর্যায়ে নিঃসন্দেহে বাড়তি আগ্রহ তৈরি করেছে। অন্যদিকে, জিৎ নিজেও দীর্ঘদিন ধরে বাংলা বাণিজ্যিক ছবির অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে দর্শকদের কাছে নিজের জায়গা ধরে রেখেছেন। প্রায় দু’বছর পর তিনি নতুন ছবি নিয়ে বড় পর্দায় ফিরেছেন এবং এবার তাঁকে দেখা যাচ্ছে অনন্ত লাল সিংহের চরিত্রে।
‘কেউ বলে বিপ্লবী কেউ বলে ডাকাত’ ছবিটি পরিচালনা করেছেন পথিকৃৎ বসু এবং ছবির গল্প আবর্তিত হয়েছে বিপ্লবী অনন্ত সিংহের জীবনকে কেন্দ্র করে। ১৪ অগস্ট ছবিটি বড় পর্দায় মুক্তি পেয়েছে এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে নতুন করে দর্শকদের সামনে তুলে ধরছে। ছবির প্রচারের সময়ই নতুন প্রজন্মের অভিনেতাদের নিয়ে নিজের ভাবনা প্রকাশ করেছেন জিৎ। সেখানেই দিব্যজ্যোতির মতো একজন অভিনেতাকে আগামী দিনের সম্ভাবনাময় মুখ হিসেবে বেছে নেওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। এখন দেখার, জিৎ-এর এই আস্থা ভবিষ্যতে দিব্যজ্যোতির কেরিয়ারে কতটা প্রভাব ফেলে। দিব্যজ্যোতির ক্ষেত্রে ছোট পর্দার জনপ্রিয়তা যে বড় পর্দার যাত্রায় কাজে আসতে পারে, তার ইঙ্গিত ইতিমধ্যেই মিলেছে।
আরও পড়ুনঃ ‘তৃণমূল জিতলে দল ছাড়তাম না’, দলবদল নিয়ে সাফাই দলবদলু রচনার, বললেন ‘মানুষের কাজ করাই লক্ষ্য’, দিলেন আরবানা নিয়ে সাফাই
‘অনুরাগের ছোঁয়া’র মতো জনপ্রিয় ধারাবাহিকে মুখ্য চরিত্রে দীর্ঘদিন অভিনয় করে তিনি একটি শক্তিশালী দর্শকভিত্তি তৈরি করেছেন। এবার সিনেমায় নতুন ধরনের চরিত্র এবং নতুন জুটির মাধ্যমে সেই পরিচিতির বাইরে বেরিয়ে আসার সুযোগ পাচ্ছেন তিনি। বিশেষ করে জিৎ-এর মতো প্রতিষ্ঠিত নায়কের মুখে তাঁর সম্ভাবনার কথা শোনা যাওয়ায় বিষয়টি আরও বেশি চর্চায় এসেছে। তবে সম্ভাবনা থেকে সত্যিকারের তারকা হয়ে ওঠার পথ যে সহজ নয়, সেটাও স্পষ্ট। ভালো গল্প, সঠিক চরিত্র, দর্শকের গ্রহণযোগ্যতা এবং ভাগ্য, সবকিছু একসঙ্গে মিলে গেলেই তৈরি হয় একজন বড় তারকা। তাই জিৎ-এর ভবিষ্যদ্বাণী কতটা সত্যি হয়, এখন সেই উত্তর দেবে সময় এবং দর্শক।
