জি বাংলার ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’-এর (Kamala Nibas) সাম্প্রতিক পর্বে পল্লবীর জন্মদিনকে ঘিরে বাড়িতে একদিকে যেমন আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে তেমনই সেই আনন্দ থেকে সম্পূর্ণ দূরে রয়েছে ঝিনুক। দিদির জন্মদিনে প্রতি বছর সবার আগে শুভেচ্ছা জানানো থেকে শুরু করে ঘর সাজানো, কেক কাটার আয়োজন, সবকিছুতেই ঝিনুকের বিশেষ ভূমিকা থাকত। কিন্তু বিয়ের পর সম্রাটের বাড়িতে এসে সেই চেনা ছবিটাই পুরোপুরি বদলে গিয়েছে। এবার দিদির জন্মদিনে পাশে থাকতে না পারার কষ্টেই মন খারাপ ঝিনুকের।
আসলে সম্রাট ইচ্ছে করেই ঝিনুকের সঙ্গে তার পরিবারের যোগাযোগের পথ বন্ধ করে দিয়েছে। এমনকি ঝিনুকের ফোনটিও নিজের কাছে রেখে দিয়েছে সে। ফলে পল্লবীকে অন্তত ফোন করে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোর সুযোগটুকুও পাচ্ছে না ঝিনুক। ফোনটি খুঁজে পাওয়ার জন্য সে বাড়ির এদিক-ওদিক ঘুরে তন্নতন্ন করে খুঁজতে থাকে। শেষ পর্যন্ত দিদির সঙ্গে কথা বলতে না পারার কষ্ট আর অসহায়তা সামলাতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়ে ঝিনুক। বোনের জন্মদিনে এমন পরিস্থিতিতে আটকে পড়াটাই এই পর্বে তার কষ্টের মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
অন্যদিকে, ঝিনুককে ছাড়াই পল্লবীর জন্মদিনের উদযাপনে ব্যস্ত পরিবারের সকলে। বাড়ির একে একে সবাই পল্লবীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে নিজেদের উপহার তুলে দেয়। শ্রীনিবাসের কাছে আলাদা কোনও বিশেষ উপহার না থাকলেও মেয়েকে খালি হাতে রাখেনি সে। নিজের হাতে থাকা ঘড়িটি খুলে পল্লবীর হাতে পরিয়ে দেয় শ্রীনিবাস। বাবার কাছ থেকে পাওয়া সেই ঘড়িকে শুধুমাত্র একটি উপহার হিসেবে না দেখে ভালোবাসার স্মৃতি হিসেবেই গ্রহণ করে পল্লবী। শ্রীনিবাসের এই ছোট্ট অথচ আন্তরিক উপহার জন্মদিনের মুহূর্তটিকে আরও আবেগপূর্ণ করে তোলে।
এদিকে পল্লবীর জন্মদিনে আদিত্যর ভূমিকাও বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। প্রথমে আদিত্যর কোনও কাজকর্মে পল্লবী কিছুটা রাগ ও অভিমান দেখালেও, পরে তার ভালোবাসা এবং আন্তরিকতায় সেই অভিমান আর থাকে না। বরং আদিত্যকে মন থেকে ধন্যবাদ জানায় পল্লবী। এতদিন পর পল্লবীর মুখ থেকে এমন আন্তরিক কৃতজ্ঞতার কথা শুনে স্বাভাবিকভাবেই খুশি হয়ে ওঠে আদিত্য। দু’জনের এই মুহূর্তে জন্মদিনের আনন্দ আরও একটু ব্যক্তিগত হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুনঃ ‘দেশের পরিকাঠামো দেখে মা হতে ভয় পেয়েছিলাম’, মাতৃত্ব নিয়ে মত বদলের কথা জানালেন সোহিনী সরকার
সবশেষে পল্লবীকে চমকে দেওয়ার জন্য আদিত্যর বিশেষ আয়োজনেই জন্মদিনের পরিবেশ একেবারে বদলে যায়। পল্লবীর পছন্দ-অপছন্দ মাথায় রেখে সে গোটা জায়গাটি সুন্দর করে সাজিয়ে তোলে। আলোকসজ্জা থেকে শুরু করে চারপাশের পরিবেশ, সবকিছুতেই থাকে পল্লবীকে খুশি করার চেষ্টা। ফলে একই দিনে বাড়িতে পল্লবীর জন্মদিন ঘিরে যখন আনন্দের কোনও কমতি নেই, তখন অন্য প্রান্তে দিদিকে শুভেচ্ছা জানাতেই না পেরে কাঁদছে ঝিনুক। এই দুই বোনের সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিস্থিতিই সাম্প্রতিক পর্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠেছে।
