জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘পরিণীতা’য় (Parineeta) হঠাৎ করেই এসেছে বড়সড় পরিবর্তন। রায়ান ও পারুলের গল্পে এতদিন যে সম্পর্ককে ঘিরে দর্শকরা অভ্যস্ত ছিলেন, পারুলের আকস্মিক মৃত্যুর পর সেই সমীকরণ একেবারেই বদলে গিয়েছে। গল্প এগিয়ে গিয়েছে প্রায় ২০ বছর। এর মধ্যেই বড় হয়ে গিয়েছে রায়ান ও পারুলের সন্তানরা। পারুলকে হারানোর পর রায়ানও নিজের জীবন নিয়ে এগিয়ে চলেছেন। কিন্তু গল্পে নতুন করে এসেছে পার্বতী নামের এক তরুণী, যার চেহারা অবিকল পারুলের মতো। ফলে নতুন চরিত্রের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে বদলে গিয়েছে ধারাবাহিকের মূল গল্পও। পারুলের জায়গায় এবার পার্বতীকে ঘিরে তৈরি হচ্ছে নতুন অধ্যায়। এই আকস্মিক পরিবর্তন নিয়ে এবার নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা জানালেন ধারাবাহিকের নায়ক উদয় প্রতাপ সিং এবং নায়িকা ঈশানী চট্টোপাধ্যায়।
পারুলের মৃত্যুর খবর দর্শকরা অনেক পরে জানতে পারলেও ঈশানী চট্টোপাধ্যায় নায়িকা হওয়ার সূত্রে এই বিষয়টি অনেক আগে থেকেই জানতেন। তাই গল্পে পারুলের শেষ কয়েকদিনের শুটিং করতে গিয়ে তাঁর নিজেরও মন খারাপ হয়ে গিয়েছিল। অভিনেত্রী জানিয়েছেন, শেষের দিকে পারুলের চরিত্রে শুটিং করার সময় অনেক দৃশ্যে তিনি অজান্তেই কেঁদে ফেলেছিলেন। কারণ এতদিন যে ভবিষ্যৎকে সামনে রেখে চরিত্রটির জীবন দেখানো হচ্ছিল, হঠাৎ করেই সেই ভবিষ্যৎ আর বাস্তবে দেখানো হবে না। সন্তানদের জন্মের পর তাদের আনন্দে বড় করে তোলা, সংসারকে ঘিরে আরও অনেক কিছু দেখানোর যে কল্পনা ছিল, পারুলের মৃত্যুর সঙ্গে সেগুলোও যেন শেষ হয়ে যায়। একজন অভিনেত্রী হিসেবে চরিত্রটির শেষটা জেনে আগে থেকেই শুটিং করা তাঁর কাছে তাই বেশ আবেগের ছিল।
ঈশানীর কথায়, প্রায় তিন বছর ধরে পারুলের চরিত্রটি তাঁর জীবনেরই একটা অংশ হয়ে গিয়েছিল। শুধু অভিনয় নয়, পারুলের হাঁটাচলা, কথা বলার ধরন, জীবনযাপন এবং স্বভাব, সবকিছুই এতদিন ধরে নিজের মধ্যে ধারণ করেছিলেন তিনি। এবার সেই জায়গা থেকেই তাঁকে সম্পূর্ণ নতুন করে পার্বতীকে নিজের মধ্যে তৈরি করতে হচ্ছে। নতুন চরিত্রের ক্ষেত্রে তাঁর ভাষা নিয়েও কিছুটা সমস্যা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী। কারণ পার্বতী বাংলাদেশের মেয়ে, ফলে তার কথা বলার ধরন এবং ভাষা পারুলের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। পারুলের চরিত্রে বাঁকুড়ার ভাষার ছোঁয়া ছিল, আর পার্বতীর ক্ষেত্রে প্রয়োজন হচ্ছে বাংলাদেশি ভাষাভঙ্গি। তবে ঈশানীর আশা, আর কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি পার্বতীর ভাষাটাও ভালোভাবে রপ্ত করে ফেলবেন এবং নতুন চরিত্রের সঙ্গে আরও স্বচ্ছন্দ হয়ে উঠবেন।
অন্যদিকে উদয় প্রতাপ সিংয়ের কাছে পার্বতী এখনও যেন পারুলই। অভিনেতা জানিয়েছেন, তিনি পার্বতীকে শুধু নতুন একটি চরিত্র হিসেবে দেখছেন না, বরং তাঁর চোখে পার্বতী আসলে পারুল। গল্পের প্রয়োজনেই হয়তো কিছুদিন তাঁদের আলাদা আলাদা ভাবে শুটিং করতে হচ্ছে। কিন্তু যেদিন থেকে রায়ান এবং পার্বতীর জুটির গল্প শুরু হবে, সেদিন তাঁর মধ্যেও সেই পুরনো উৎসাহ ফিরে আসবে বলে জানিয়েছেন উদয়। গল্পের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বেশ কিছু পুরনো চরিত্রও ধারাবাহিক থেকে বিদায় নিয়েছে। সেই কারণে সেটে সবার মধ্যেই হালকা মন খারাপ রয়েছে। তবে দর্শকদের জন্য নতুন কিছু করার প্রয়োজন থেকেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উদয় ও ঈশানী। ফলে পুরনো সম্পর্কের জায়গায় নতুন সমীকরণ তৈরি করার চ্যালেঞ্জ এখন তাঁদের সামনে।
আরও পড়ুনঃ মঞ্চে শুভশ্রীর হাতে চুমু দেবের! ‘দেশু ৭’-এর প্রচারে হঠাৎ কী করলেন অভিনেতা, ভাইরাল সেই মুহূর্ত
পারুলের মৃত্যুর দৃশ্যের শুটিংয়ের অভিজ্ঞতাও আলাদা করে জানিয়েছেন ঈশানী। যেদিন সেই দৃশ্যটি শুট করা হয়েছিল, পারুলের মৃতদেহের দৃশ্য সামনে রেখে কাজ করতে গিয়ে সেটের অনেকেই কেঁদে ফেলেছিলেন। এতদিনের পরিচিত একটি চরিত্রকে এভাবে শেষ করতে গিয়ে আবেগ সামলানো কঠিন হয়ে উঠেছিল সকলেরই। তবে সাক্ষাৎকারের পরিবেশ হালকা করতে পরে মজা করে ঈশানী বলেন, এত বছরে পারুলকে কতবার যে গুলি করা হয়েছে, তবু সে মারা যায়নি। কিন্তু এবার দুটো গুলি খেয়েই হঠাৎ করে মারা গেল পারুল। একইসঙ্গে অভিনেত্রী মজা করে মনে করিয়ে দিয়েছেন, পারুল নিজেই বলে গিয়েছে যে সে আবার জন্ম নিয়ে ফিরবে। এখন সেই কথার সঙ্গে গল্পের নতুন অধ্যায়ের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা অবশ্য ধারাবাহিকই বলবে। আপাতত পারুলের মৃত্যুর পর বহু বছর এগিয়ে যাওয়ায় ‘পরিণীতা’য় উদয় ও ঈশানীর নতুন সমীকরণই দর্শকদের সামনে আসছে।
