জি বাংলার ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’-এর (Kamala Nibas) সাম্প্রতিক পর্বে পারিবারিক সম্পর্ক, সততা এবং জোর করে চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত, এই তিনটি বিষয়ই একসঙ্গে উঠে এসেছে। আদির ঠাকুমা যখন সকলের সামনে কমলাকে অপমান করছিলেন, তখন পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসেন কমলার বড় বৌমা বীণা। তিনি কমলার হাতে একটি সোনার কয়েন তুলে দেন এবং জানান, বাড়ির মেঝেতে সেটি পড়ে থাকতে দেখেছেন। এরপর কমলা কোনও প্রশ্ন না তুলে সেই কয়েনটি আদির মায়ের হাতে তুলে দিয়ে জানান, আদির জন্য এটি তাঁদের তরফ থেকে ছোট্ট উপহার। এইভাবেই অজান্তেই বড় একটি সমস্যার হাত থেকে পরিবারকে বাঁচিয়ে দেন বীণা।
আসলে ওই সোনার কয়েনটি নিয়ে অন্য একটি ঘটনা ঘটেছিল। আদির জন্য কেনা কয়েনটির প্রতি লোভ সামলাতে না পেরে কমলার বড় ছেলে সমর সেটি লুকিয়ে রেখেছিল। কিন্তু তাঁর স্ত্রী বীণা স্বামীর সেই কাজ দেখে ফেলেন। স্বামীর পক্ষ না নিয়ে তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন এবং সমরের কাছ থেকে কয়েনটি নিয়ে নেন। শ্বশুর-শাশুড়ি এবং গোটা পরিবারের সম্মান যাতে নষ্ট না হয়, সেই কারণেই বিষয়টি প্রকাশ্যে না এনে সরাসরি কমলার হাতে কয়েনটি তুলে দেন বীণা। তাঁর এই সিদ্ধান্তেই আপাতত ঘটনাটি চাপা পড়ে যায়।
তবে কমলা কিংবা পরিবারের অন্য সদস্যরা এখনও জানেন না যে, কয়েনটি আসলে সমরই লুকিয়েছিল। বীণা সত্যিটা জানলেও স্বামীর কীর্তি প্রকাশ্যে আনেননি। বরং পরিস্থিতি বুঝে চুপচাপ সমস্যার সমাধান করেছেন। এরপর কমলা সেই সোনার কয়েনটি আদির মায়ের হাতে তুলে দেওয়ায় উপহারের বিষয়টিও সম্পূর্ণ হয়ে যায়। আর সেখানে আর কোনও কথা না বাড়িয়ে কমলা এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা সেখান থেকে চলে যান। ফলে সমরের অন্যায়ের কথা আপাতত বীণা ছাড়া আর কারও জানা রইল না।
এদিকে নিজের অজান্তেই আংটি বদল বা এঙ্গেজমেন্টের আয়োজন করা হয়েছে জানতে পেরে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয় আদি। সে সরাসরি বাবার কাছে জানতে চায়, কেন তাকে না জানিয়েই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু ছেলের আপত্তিতে নরম হওয়ার বদলে আদির বাবা স্পষ্ট করে দেন, পরিবারের সিদ্ধান্তই এখন থেকে আদিকে মেনে চলতে হবে। তাঁর কথায় থাকবে কড়া নির্দেশ, নিজের ইচ্ছেমতো আর কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ আদির নেই।
আরও পড়ুনঃ “তোমায় কে বলেছে রাজবীর ও নন্দিনীর সম্পর্ককে সবাই নোং*রাভাবে দেখছে? নন্দিনীর মা যে লজ্জিত তোমায় বলেছেন?” দাদার অভিযোগে মুখে গোমরা অনুষ্কার! করলেন মুখে মুখে তর্ক
কিন্তু বাবার এই চাপের কাছে মাথা নত করতে রাজি নয় আদি। সে পরিষ্কার জানিয়ে দেয়, জোর করে করা এই এঙ্গেজমেন্টকে সে নিজের সম্পর্ক হিসেবে মানছে না। পরিবারের সিদ্ধান্তে আংটি পরিয়ে দিলেও সেই সম্পর্কের প্রতি তার কোনও সম্মতি নেই, এই অবস্থান স্পষ্ট করেই আদি নিজের হাত থেকে এঙ্গেজমেন্টের আংটিটি খুলে রেখে দেয়। ফলে একদিকে বীণার সততার কারণে কমলার পরিবারে একটি বড় সত্য আপাতত গোপন, অন্যদিকে আদির এই সিদ্ধান্তে তাঁর সঙ্গে বাবার সংঘাত আরও বাড়তে চলেছে। আগামী পর্বে এই দুই ঘটনাই ‘কমলা নিবাস’-এর গল্পকে নতুন দিকে এগিয়ে দেবে।
