টলিপাড়ার জনপ্রিয় অভিনেত্রী অপরাজিতা ঘোষ দাস এবং ঋত্বিক চক্রবর্তীর দাম্পত্যের বয়স পেরিয়েছে এক দশকেরও বেশি। ২০১১ সালের ২৪ এপ্রিল বিয়ে করেছিলেন তাঁরা। অভিনয়ের জগতে দুজনেই নিজেদের আলাদা জায়গা তৈরি করেছেন। ব্যস্ততা থাকলেও তাঁদের সম্পর্কের বন্ধুত্বের জায়গাটি এখনও অটুট। একসঙ্গে সময় কাটানো, ঘুরতে যাওয়া কিংবা খাওয়াদাওয়া, অনেক কিছুতেই তাঁদের পছন্দের মিল রয়েছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ঋত্বিককে তাঁদের দাম্পত্য নিয়ে নানান প্রশ্ন করা হয়। সেখানেই নিজেদের সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে বেশ মজার উত্তর দেন অভিনেতা। তাঁর কথায়, একসঙ্গে থাকতে থাকতে এখনও একে অপরের সঙ্গ বোর লাগে না তাঁদের।
দাম্পত্যে একেবারেই ঝগড়া হয় না, এমন দাবি অবশ্য করেননি ঋত্বিক। বরং মজার ছলে তিনি জানান, ঝগড়ার শব্দ যাতে বাইরে না যায়, তার জন্য নাকি বাড়িতে শব্দরোধী দরজা-জানলা লাগিয়েছেন তাঁরা। তাঁর কথায়, দুজন মানুষ এত বছর পাশাপাশি থেকে একেবারেই ঝগড়া করবে না, এমনটা সম্ভব নয়। তাই তাঁদের সম্পর্কের মূল রহস্য ঝগড়া না হওয়া নয়, বরং একে অপরের সঙ্গ এখনও পছন্দ করা। ঋত্বিক জানান, তাঁদের পছন্দের অনেক জায়গায় মিল রয়েছে। বিশেষ করে কোথায় এবং কীভাবে ঘুরতে যাবেন, খাওয়াদাওয়া কিংবা অন্যদের সঙ্গে মেলামেশার মতো বিষয়ে তাঁদের মতামত অনেকটাই কাছাকাছি। আবার সব বিষয়ে যে মত মেলে, এমনও নয়।
তবে যে বিষয়গুলিতে তাঁদের মিল রয়েছে, সেগুলিই সম্পর্ককে সুন্দরভাবে ধরে রাখার অন্যতম কারণ বলে মনে করেন অভিনেতা।
সাক্ষাৎকারে অপরাজিতার অভিনয়জীবন নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। টেলিভিশনে এত ভালো কাজ করার পরেও তিনি কি কিছুটা অবমূল্যায়িত হয়ে থেকে গেলেন, সেই প্রশ্নের উত্তরে ঋত্বিক অবশ্য তা মানতে চাননি। তাঁর মতে, একজন অভিনেত্রী কীভাবে কাজের সুযোগ পাবেন, তা অনেকটাই নির্ভর করে পরিচালক এবং কাজের ধরন বেছে নেওয়ার উপর। অপরাজিতা বাংলা টেলিভিশনে যে জায়গা তৈরি করেছেন, সেটিকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন। তাঁর কথায়, একাধিক ধারাবাহিকে অভিনয় করে এত বড় জায়গায় পৌঁছনো মোটেই সহজ নয়। বরং গত প্রায় দেড় দশকের বাংলা টেলিভিশনের ইতিহাস থেকে অপরাজিতাকে বাদ দেওয়া সম্ভব নয় বলেই মনে করেন তিনি। ফলে অভিনেত্রীকে ‘অবমূল্যায়িত’ বলা যায় না বলেই স্পষ্ট মত ঋত্বিকের। অপরাজিতাও আগে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, তাঁর কাজের মূল্যায়ন এখনও অভিনয়ের নিরিখেই হওয়ায় তিনি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেন।
এরপরই আসে সেই প্রশ্ন, যা শুনে হয়তো অনেক দর্শকদের অনেক পুরনো কথাও মনে পড়ে যেতে পারে। ঋত্বিককে সরাসরি জিজ্ঞাসা করা হয়, অপরাজিতার সঙ্গে তাঁর বিয়ে না হয়ে যদি ঋষি কৌশিকের সঙ্গে বিয়ে হতো, তা হলে কি ভালো হতো? প্রশ্নটির কারণও যথেষ্ট পুরনো। ঋষি কৌশিক এবং অপরাজিতা একসময় বাংলা ধারাবাহিকের অত্যন্ত জনপ্রিয় জুটি ছিলেন। ২০০৮ সালে সম্প্রচারিত ‘এখানে আকাশ নীল’ ধারাবাহিকে উজান এবং হিয়া চরিত্রে তাঁদের জুটি দর্শকদের মধ্যে বিশেষ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। এছাড়াও ‘একদিন প্রতিদিন’ ধারাবাহিকেও একসঙ্গে কাজ করেছিলেন তাঁরা। এমনকি সেই সময় তাঁদের নিয়ে বাস্তব জীবনেও নানান গুঞ্জন ছড়িয়েছিল বলে পরবর্তী সময়ে ঋষি কৌশিক নিজেই জানিয়েছিলেন।
আরও পড়ুনঃ “নন্দিনীর হয়ে খেলেই ‘ভেড়া’ নিরঞ্জন! সৃজিলা, মনামী বা রনিতার হয়ে একই চাল চাললে কি ‘মহান’ বলেই বাহবা দিতেন দর্শকরা?” বিগ বস বাংলায় নিরঞ্জনকে ঘিরে তুমুল বিতর্ক, প্রিয় প্রতিযোগীর হয়ে খেললেই কি বদলে যায় মানুষের বিচার? সমালোচকদের নিশা*না করে পাল্টা প্রশ্ন নন্দিনীর সমর্থকদের!
তবে এই প্রশ্নের উত্তরে এক মুহূর্তও দ্বিধা করেননি ঋত্বিক। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, অপরাজিতার সঙ্গে ঋষি কৌশিকের বিয়ে হলে ভালো হতো বলে তাঁর একেবারেই মনে হয় না। বরং মজার ছলে নয়, নিজের জায়গা থেকেই তিনি জানান, অপরাজিতার ভালো-মন্দের কথা তাঁকেই ভাবতে হবে। তাই এমন বিয়ে মোটেই ভালো হতো না বলেই তাঁর মত। ঋত্বিক আরও বলেন, অপরাজিতাও বিষয়টি জানেন। অর্থাৎ পর্দায় ঋষি এবং অপরাজিতার জনপ্রিয় জুটি যতই দর্শকদের পছন্দের হোক, বাস্তব জীবনের সম্পর্কের জায়গাটি সম্পূর্ণ আলাদা। ২০১১ সালে বিয়ের পর ঋত্বিক ও অপরাজিতা নিজেদের সংসার, অভিনয় এবং একমাত্র সন্তানকে নিয়ে জীবন এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন। আর এত বছর পরেও একে অপরের সঙ্গ পছন্দ করেন, এই কথাটাই তাঁদের দাম্পত্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক বলে মনে করেন ঋত্বিক।
