দুর্নিবার খাবার নষ্ট করেও নমিনেশনে নয়, নিরঞ্জনের বার্নার কাণ্ডেও শাস্তি নেই! রাজবীর-তনুশ্রীকে বাড়ি পাঠাতেই কি সৌরভ-রণিতার মুখে বারবার সেই খাবার অপচয়ের যুক্তি? ‘নিজেদের গেমপ্ল্যান নেই, চামচাগিরি করতে এসেছে’ ক’টাক্ষ দর্শকদের!

‘বিগ বস বাংলা ৩’-এর ঘরে রাজবীরকে ঘিরে বিতর্ক যেন কিছুতেই থামছে না। এ বার রাজবীরকে নমিনেশনের কারণ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন দর্শকদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, রাজবীরের বিরুদ্ধে খাবার নষ্ট করার অভিযোগ বারবার সামনে আনা হলেও একই ধরনের ঘটনায় অন্য প্রতিযোগীদের ক্ষেত্রে কেন একই নিয়ম দেখা যায়নি? বিশেষ করে দুর্নিবার খাবার নষ্ট করার ঘটনায় তাঁকে নমিনেট করা হয়নি বলে দাবি করছেন একাংশের দর্শক। অন্যদিকে, নিরঞ্জন মণ্ডলের বার্নার সরিয়ে রাখার ঘটনাতেও খাবার তৈরি এবং গরম করার ক্ষেত্রে বড় সমস্যা তৈরি হয়েছিল। সেই ঘটনায় অবশ্য নিরঞ্জন নিজেই পরে বার্নার সরানোর কথা স্বীকার করেছিলেন এবং জানিয়েছিলেন, প্রতিবাদ হিসেবেই তিনি এমন করেছিলেন। তাই রাজবীরের ক্ষেত্রে খাবার নষ্টের বিষয়টিকে বারবার নমিনেশনের কারণ হিসেবে তুলে ধরা নিয়েই নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

দর্শকদের এই প্রশ্নের নেপথ্যে রয়েছে রাজবীরের আগের সেই ঘটনা, যখন নিজের প্রয়োজনীয় জিনিস না পেয়ে রাগের মাথায় নিজের খাবার নষ্ট করেছিলেন তিনি। সেই ঘটনায় রাজবীর নিজেই বলেছিলেন, ‘কুকুরের লেজ তো সোজা হবে না। তাই আমার খাবার আমি নষ্ট করেছি।’পরে জানা যায়, রাজবীরের জিনিস নন্দিনী মজা করে সরিয়ে রেখেছিলেন এবং সেই কারণেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়েছিল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজবীর ও নন্দিনীর মধ্যে তীব্র কথা কাটাকাটিও হয়। কিন্তু দর্শকদের প্রশ্ন, যদি খাবার নষ্ট করাই এত বড় অপরাধ হয়ে থাকে, তা হলে দুর্নিবারের খাবার নষ্ট করার ঘটনা কেন একই ভাবে আলোচনায় এল না? তাঁদের আরও প্রশ্ন, নিরঞ্জনের বার্নার সরিয়ে রাখার ঘটনাও তো বাড়ির সদস্যদের খাবার তৈরি এবং গরম করার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করেছিল। তাহলে সেই ঘটনাগুলির সঙ্গে রাজবীরের ঘটনার বিচার কি একই মাপকাঠিতে হওয়া উচিত নয়? এই তুলনাই এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় রাজবীর-সমর্থকদের আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে।

এর মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছেন সৌরভ দাস ও রণিতা দাস। ওয়াইল্ড কার্ড হিসেবে ঘরে ঢোকার পর তাঁদের হাতে একাধিক প্রতিযোগীকে নমিনেট করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। সেই নমিনেশন পর্বে জিতু কমল, সৃজলা গুহ, ভরত কল, তনুশ্রী, সোনামণি সাহা এবং মনামী ঘোষের নাম সামনে এসেছিল। পরে মনামীকে নিজের জায়গা বাঁচানোর সুযোগ দেওয়া হলে তিনি নিজের বদলে নন্দিনীকে নমিনেট করেন। এই পরিস্থিতিতেই দর্শকদের একাংশের প্রশ্ন, রাজবীর এবং তাঁকে সমর্থন করা তনুশ্রীকে ঘরছাড়া করার জন্য কি খাবার নষ্টের পুরনো ঘটনাকেই বারবার ব্যবহার করা হচ্ছে? তাঁদের বক্তব্য, নমিনেশনের জন্য যদি সত্যিই একাধিক কারণ থাকে, তা হলে শুধু একটি ঘটনাই বারবার সামনে আনার প্রয়োজন কেন পড়ছে? আর যদি খাবার অপচয়ই প্রধান কারণ হয়, তা হলে একই অভিযোগ থাকা অন্য প্রতিযোগীদের ক্ষেত্রে সেই নিয়ম কেন সমান ভাবে প্রয়োগ করা হয়নি? এই প্রশ্ন থেকেই সৌরভ-রণিতার ভূমিকা নিয়েও শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।

একাংশ দর্শক আরও কটাক্ষ করে বলছেন, রাজবীর ও তনুশ্রীকে নমিনেট করার ক্ষেত্রে নতুন কোনও গেমপ্ল্যান না থাকায় পুরনো ঘটনাকেই বারবার সামনে আনা হচ্ছে। তাঁদের প্রশ্ন, ‘যদি খাবার অপচয়ই মূল কারণ হয় তাহলে দুর্নিবারকে কেন নমিনিট করা হলো না?’ এই প্রশ্নের সঙ্গে আরও একটি অভিযোগ জুড়েছেন তাঁরা, ‘তবে কি রাজবীর এবং তনুশ্রীকে বাড়ি পাঠানোর জন্যই আসলে গেছেন এই দুজন?’ অর্থাৎ সৌরভ ও রণিতা সত্যিই নিজেদের খেলার কৌশল থেকে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, নাকি নির্দিষ্ট কয়েক জনকে টার্গেট করেই নমিনেশনের ক্ষমতা ব্যবহার করছেন, তা নিয়েই সংশয় তৈরি হয়েছে দর্শকদের একাংশের মধ্যে। তবে এগুলি সম্পূর্ণই দর্শকদের অভিযোগ এবং মতামত, সৌরভ বা রণিতার পক্ষ থেকে এমন কোনও উদ্দেশ্যের কথা নিশ্চিত ভাবে বলা হয়নি। বরং তাঁদের নমিনেশনের সিদ্ধান্তকে ঘিরেই দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে এই ব্যাখ্যা এবং পাল্টা প্রশ্ন। ফলে রাজবীরকে ঘিরে পুরনো খাবার অপচয়ের ঘটনা আবারও নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এসেছে।

সব মিলিয়ে ‘বিগ বস বাংলা ৩’-এর ঘরে এখন শুধু কে নমিনেট হলেন, তা নয়, কেন নমিনেট হলেন, সেই প্রশ্নও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রাজবীরের খাবার নষ্ট করার ঘটনা নিয়ে আগে যে ভাবে আলোচনা হয়েছিল, সেই তুলনাই এখন দর্শকরা দুর্নিবার এবং নিরঞ্জনের ঘটনাগুলির সঙ্গে করছেন। বিশেষ করে নিরঞ্জনের বার্নার-কাণ্ডে রান্নাঘরের পরিস্থিতি কার্যত অচল হয়ে গিয়েছিল এবং পরে তিনি নিজেই ঘটনার কথা স্বীকার করেছিলেন। অন্যদিকে, রাজবীরকে নমিনেশনের ক্ষেত্রে খাবার নষ্টের প্রসঙ্গ ফের সামনে আসায় দর্শকদের একাংশ মনে করছেন, একই নিয়ম সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হওয়া উচিত। সৌরভ ও রণিতার সিদ্ধান্তের পিছনে আসলে কী যুক্তি ছিল, সেটাই এখন তাঁদের কাছে বড় প্রশ্ন। রাজবীর এবং তনুশ্রীকে নিয়ে চলা এই বিতর্ক আগামী ‘দাদার দরবারে’ আরও বড় আকার নেয় কি না, সেদিকেই এখন নজর দর্শকদের। শেষ পর্যন্ত খাবার অপচয় নিয়ে প্রশ্নের কোনও স্পষ্ট উত্তর মেলে কি না, নাকি এই বিতর্ক আরও বাড়ে, সেটাই দেখার।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page