জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“ওঁর উপরে প্রচণ্ড চাপ ছিল…একজন শিল্পীর ‘প্লেব্যাক বন্ধ’ বলা সহজ নয়!” আংশিক অবসর গ্রহণ অরিজিৎ সিংয়ের! গায়িকা পৌষালী বন্দ্যোপাধ্যায় কথায় উঠে এলো এমন সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ?

মঙ্গলবার রাতে সমাজ মাধ্যমে নিজের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন অরিজিৎ সিং। আর কোনও নতুন প্লেব্যাক গান গাইবেন না তিনি। এই ঘোষণার পরেই সঙ্গীত মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। একদিকে যেমন অনেকেই এই সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়েছেন, তেমনই বহু অনুরাগী এবং সহশিল্পী হতবাক। দীর্ঘদিন ধরে সিনেমার গানে অরিজিতের কণ্ঠ মানেই ছিল আবেগ আর জনপ্রিয়তার সমার্থক। সেই জায়গা থেকেই হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত সকলকে ভাবতে বাধ্য করেছে।

এই বিষয়ে গায়িকা পৌষালী বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের অভিজ্ঞতা ও ভাবনা ভাগ করে নিয়েছেন। সংবাদ মাধ্যমকে তিনি জানান, অরিজিতের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়েছে এবং কাজ নিয়েও কথা হয়েছিল। তাঁর মতে, এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অরিজিতের নিজের ইচ্ছা। হয়তো তিনি অন্য কোনও সৃষ্টিশীল পথে মন দিতে চাইছেন। পৌষালীর ধারণা, অরিজিতের উপর কাজের চাপ এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে অন্য কোনও কাজে মন দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছিলেন না। পরিচালনা, সিঙ্গল, অ্যালবাম মিলিয়ে একসঙ্গে অনেক দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছিল তাঁকে।

পৌষালী আরও বলেন, অরিজিৎ ভীষণ মাটির মানুষ এবং খুব অন্যরকম মানসিকতার শিল্পী। হয়তো নতুন প্রজন্মকে জায়গা করে দিতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর কথায়, একজন শিল্পীর জীবনে পরিবার এবং নিজের সময়ের মূল্য অনেক। অরিজিতের মনে হতে পারে যে তিনি আর সবকিছুর সঙ্গে প্লেব্যাক সামলাতে পারছেন না। তাই শুধুমাত্র প্লেব্যাক থেকে সরে দাঁড়ালেও গান থেকে তিনি দূরে যাচ্ছেন না। লাইভ পারফরমেন্স, সিঙ্গল গান, কোল্যাবরেশন এবং সামাজিক কাজ সবই তিনি করবেন।

অরিজিতের ব্যক্তিত্ব নিয়েও আবেগঘন কথা বলেন পৌষালী। তিনি জানান, অরিজিত গান ছাড়া আর কিছুই ভাবেন না। কীভাবে গানকে মানুষের আরও কাছে নিয়ে যাওয়া যায় সেটাই তাঁর একমাত্র চিন্তা। জিয়াগঞ্জে হাসপাতাল, খেলার মাঠ ও নানা সামাজিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার স্বপ্নও তিনি দেখছেন। এই সব কাজের জন্য সময় ও মানসিক শক্তি প্রয়োজন। তাই অনেক দায়িত্বের ভিড়ে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেছিলেন তিনি। লোকসঙ্গীতের সঙ্গে অন্য ধারার গান মেলানোর পরিকল্পনাও তাঁদের আলোচনায় উঠে এসেছিল।

প্লেব্যাক থেকে অবসর নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে অরিজিৎ সিং নিজে লেখেন, তিনি শ্রোতাদের ভালবাসার জন্য কৃতজ্ঞ। দীর্ঘ এই সফর তাঁর কাছে দুর্দান্ত ছিল বলেই জানান তিনি। একজন সঙ্গীত শিল্পীর এমন স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহসকে কুর্নিশ জানিয়েছেন পৌষালী বন্দ্যোপাধ্যায়ও। প্লেব্যাক থেকে সরে গেলেও অরিজিতের সুর ও ভাবনা যে অন্য রূপে মানুষের জীবনে ধরা দেবে, তা নিয়েই আশাবাদী সঙ্গীত মহল।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page