জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

পারুলের জীবনে ঝড় তোলা ‘মৌসুমী বসু’, বাস্তবে এক্কেবারে নরম মনের অঙ্কিতা! অনস্ক্রিন রায়ানের মা, অফস্ক্রিন সমবয়সী বন্ধু! ‘পরিণীতা’র মা-ছেলের বয়সের ব্যবধান জানলে চমকে যাবেন!

জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘পরিণীতা’র (Parineeta) দর্শকদের কাছে শিরীনের পর যদি কেউ সবচেয়ে অপছন্দের হয়ে থাকে, তিন হলেন নায়কের মা মৌসুমী বসু। যাকে বলা যেতে পারে, এক্কেবারে ঘরের শ’ত্রু বিভীষণ। ষ’ড়যন্ত্র করে পারুল আর রায়ানের সম্পর্ক নষ্ট করতে দেখলেই দর্শকের রক্তচাপ চড়ে যায়, সেই চরিত্রেই অভিনয় করছেন ‘অঙ্কিতা মাঝি’ (Ankita Majhi)। মজার বিষয় হল, পর্দায় যাঁকে রায়ানের কঠোর মা হিসেবে দেখা যায়, বাস্তবে কিন্তু সমীকরণটা সম্পূর্ণ আলাদা। নায়ক উদয় প্রতাপ সিংয়ের সঙ্গে তাঁর বয়সের ফারাক প্রায় নেই বললেই চলে!

উদয়ের বয়স যেখানে ৩৫, সেখানে ১৯৮৮ সালে জন্ম নেওয়া অঙ্কিতা সদ্য ৩৭-এ পা দিলেন। অর্থাৎ মা-ছেলের ভূমিকায় অভিনয় করলেও বাস্তবে দু’জন প্রায় সমবয়সী। এক কথায়, টলিউডের কাস্টিংয়ের এক অভিনব উদাহরণ বলা যায়। প্রসঙ্গত, অঙ্কিতার অভিনয় জীবনের ভিতটা কিন্তু টেলিভিশনে নয়, থিয়েটারের মঞ্চে তৈরি। ছোটবেলা থেকেই বাড়িতে ছিল সাংস্কৃতিক আবহ। তাঁর বাবা গণনাট্যের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, ফলে গান, কবিতা আর নাটকের পরিবেশেই বড় হওয়া।

একবার মঞ্চে বাবাকে একলব্যের চরিত্রে অভিনয় করতে দেখে ছোট্ট অঙ্কিতা এতটাই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন যে কেঁদে ফেলেছিলেন। সেই মুহূর্তটাই যেন অভিনয়ের জগৎকে তাঁর নিজের করে নেওয়ার শুরু। পরে জোড়াসাঁকোয় নাটক নিয়ে পড়াশোনা এবং রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞতা তাঁর শিল্পী সত্ত্বা আরও পরিণত করে। টেলিভিশনের দর্শক অবশ্য তাঁকে একাধিক ধারাবাহিকে দেখেছেন। ‘পরিণীতা’য় ধূসর চরিত্রে তাঁর দৃঢ় উপস্থিতি যেমন চোখে পড়ে, তেমনই ‘ফুলকি’ ধারাবাহিকে সম্পূর্ণ ভিন্ন মেজাজের চরিত্রে তিনি প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন।

সেখানে তিনি ছিলেন সহানুভূতিশীল শাশুড়ি আর এখানে এক নিয়ন্ত্রণপ্রবণ মা, এই বৈপরীত্যই প্রমাণ করেছে যে তাঁর অভিনয়ের পরিসর কতটা বিস্তৃত। চলতি বছর জি বাংলা ‘সোনার সংসার’এ প্রিয় শাশুড়ির সম্মান পাওয়া সেই কারণেই খুব অস্বাভাবিক নয়। উল্লেখ্য, অঙ্কিতার বেড়ে ওঠা কলকাতার টালিগঞ্জে। পাড়ার দেওয়ালে সিনেমার পোস্টার দেখে মুগ্ধ হওয়া মেয়েটিই আজ নিজে সেই পর্দার অংশ। বয়সের হিসেব বা চরিত্রের ধরন, কোনও কিছুতেই নিজেকে বেঁধে রাখেননি তিনি।

বরং গল্পের প্রয়োজন অনুযায়ী নিজেকে ভেঙে নতুন করে গড়েছেন বারবার। হয়তো সেই কারণেই দর্শক তাঁকে কখনও ভালোবেসে, কখনও রাগ করে মনে রাখেন। ছোটপর্দার পাশাপাশি থিয়েটার আর ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও সমান স্বচ্ছন্দ অঙ্কিতা। খুব শিগগিরই তাঁকে দেখা যাবে একটি নতুন ওয়েব প্রজেক্টে, যেখানে তাঁর সঙ্গে থাকবেন আরও পরিচিত মুখ। কাজের ব্যস্ততার মধ্যেও মঞ্চের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেননি তিনি। অভিনয় তাঁর কাছে পেশা হলেও, ভেতরে এখনও একান্ত ভালোবাসার জায়গা মঞ্চ।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page