পর্দায় তিনি যতই কঠিন, নির্মম কিংবা খলচরিত্রে দর্শকের সামনে হাজির হন, বাস্তব জীবনে ততটাই সংবেদনশীল এবং পরিবারমুখী সুদীপ সরকার। টলিপাড়ার পরিচিত এই অভিনেতা কাজের ব্যস্ততার মাঝেও পরিবারকে দেন সবার আগে জায়গা। বিশেষ করে গত এক বছরে তাঁর জীবনে এসেছে বড় শূন্যতা। বাবার প্রয়াণের পর থেকে আনন্দের প্রতিটি মুহূর্তেই কোথাও যেন একটুখানি কষ্ট লেগে থাকে। তবু জীবন থেমে থাকে না। সেই আবেগ নিয়েই এ বার মায়ের জন্মদিন পালন করলেন সুদীপ, যেখানে আনন্দের সঙ্গে মিশে রইল গভীর ভালোবাসা আর স্মৃতির ভার।
বছরখানেক আগে বাবাকে হারানোর পর পরিবারকে আরও বেশি করে আগলে রেখেছেন তিনি। সুদীপ মনে করেন, জীবনের প্রতিটি ভালো কাজ, প্রতিটি সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছেন তাঁর বাবা। তাই মায়ের জন্মদিনেও বাবার অনুপস্থিতি তীব্র ভাবে অনুভব করেছেন অভিনেতা। সোশ্যাল মিডিয়ায় মায়ের উদ্দেশে একটি আবেগঘন বার্তায় তিনি লেখেন, শুভ জন্মদিন মা। বাবাকে ছাড়া এ বছরের জন্মদিনে তোমার মন একটু হলেও ভালো করতে তোমার নিনি আছে তোমার কাছে। আমরা আছি, সব ভালো হচ্ছে, সব ভালো হবে। শুধু তুমি ভালো থেকো আর আজীবন ছায়া দিও। এই কয়েকটি লাইনে ধরা পড়েছে এক সন্তানের নির্ভরতা আর মমতা।
বাবার চলে যাওয়ার পর নাতনি তিষ্যাই এখন সুদীপের মায়ের জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দ। ছোট্ট তিষ্যার আধো আধো কথা, মিষ্টি হাসি আর নতুন কিছু শেখার মুহূর্তে ভরে ওঠে তাঁর দিন। পরিবারের সবাই বুঝতে পারেন, এই একরত্তি শিশুই দিদার মুখে ফের হাসি ফুটিয়েছে। তাই বিশেষ দিনে নাতনিকে নিয়েই আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল আগেই। রাত বারোটায় কেক কেটে শুরু হয় জন্মদিনের উদযাপন, আর সেই মুহূর্ত হয়ে ওঠে পরিবারের কাছে অমূল্য স্মৃতি।
এই সুন্দর মুহূর্তের সাক্ষী থাকলেন অভিনেত্রী অনিন্দিতা রায়চৌধুরীও। কন্যাকে কোলে নিয়েই তিনি ভাগ করে নিলেন জন্মদিনের সেই বিশেষ সময়ের ছবি। সহজ অথচ আন্তরিক ক্যাপশনে লিখলেন, মা এর জন্মদিন। ছবিতে ধরা পড়েছে তিন প্রজন্মের একসঙ্গে থাকার উষ্ণতা। শোকের আবহ কাটিয়ে ধীরে ধীরে যে পরিবার আবার আনন্দ খুঁজে নিতে শিখছে, সেই বার্তাই যেন ফুটে উঠেছে প্রতিটি ফ্রেমে।
আরও পড়ুনঃ ১৮ বছর পর ছোটপর্দায় কামব্যাক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের! বড়পর্দা ও ওটিটির ব্যস্ততা ছেড়ে আবার ‘ঘরের’ মাটিতে ফেরা! কোন চ্যানেলের, কোন নতুন ধারাবাহিকে দেখা যাবে তাঁকে?
জীবনের কঠিন সময় মানুষকে আরও কাছাকাছি এনে দেয়। সুদীপের ক্ষেত্রেও তেমনটাই হয়েছে। বাবার স্মৃতি বুকে নিয়েই তিনি এখন মায়ের পাশে থাকার চেষ্টা করছেন প্রতিটি মুহূর্তে। জন্মদিনের ছোট্ট আয়োজন তাই শুধু একটি উদযাপন নয়, বরং ছিল ভালো থাকার প্রতিশ্রুতি। মাকে ছায়ার মতো পাশে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা আর পরিবারের হাত শক্ত করে ধরে এগিয়ে চলার বার্তাই যেন ছড়িয়ে দিলেন অভিনেতা এই আবেগঘন দিনে।
