জি বাংলার ধারাবাহিক ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ (Chirodini Tumi Je Amar) শুরুতে যে কৌতূহল তৈরি করেছিল দর্শকদের মনে, সময়ের সঙ্গে তার রং কিছুটা ফিকে হয়েছে আর এই কথা এখন অনেক দর্শকই মানছেন। অসমবয়সী প্রেম, পূর্বজন্মের রহস্যর উপাদান মিলিয়ে গল্পের ভিত শক্ত হলেও, সেই বিষয়গুলো ঠিকঠাক তুলে ধরার বদলে বারবার নতুন মোড় যোগ হওয়ায় অনেকের কাছেই ধারাবাহিকের গতিপথ অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে। টিআরপি তালিকায় তার প্রতিফলনও চোখে পড়ছে, যা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই শুরু হয়েছে শেষ হওয়ার জল্পনা।
প্রসঙ্গত, এই গুঞ্জনের পিছনে শুধু গল্পের দুর্বলতা নয়, বাস্তব জীবনের কিছু ঘটনাও বড় ভূমিকা নিয়েছে। মুখ্য চরিত্রে অভিনেত্রী বদল, চ্যানেল ও প্রযোজনা সংস্থার মধ্যে মতানৈক্যের খবর মিলিয়ে ধারাবাহিকের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বেড়েছে। দর্শক আশা করেছিলেন, আর্য-অপর্ণার সম্পর্কের কোনও বড় টার্নিং পয়েন্ট বা নতুন চরিত্রের আগমন আবার আগ্রহ ফেরাবে। কিন্তু সেই সুযোগগুলো ঠিক কতটা কাজে লাগানো গেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
এরই মধ্যে ইন্ডাস্ট্রির অন্দরমহলে শোনা যাচ্ছে, ধারাবাহিকটি আর খুব বেশি দিন এগোনোর সম্ভাবনা নেই! ইউনিটের একাধিক সদস্যের মুখে নাকি ফেব্রুয়ারির শেষের দিকেই শুটিং শেষ হওয়ার কথা শোনা গেছে, এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন অপর্ণার বাবার চরিত্রে অভিনয় করা শ্যামাশিস পাহাড়ি। যদিও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি, তবু তাঁর মন্তব্যে শেষের জল্পনা নতুন করে ডানা মেলেছে, যা দর্শকের মনেও অস্বস্তি বাড়িয়েছে।
তবে এই সমস্ত গুঞ্জনের মাঝেই একেবারে ভিন্ন সুর শোনা গেল ধারাবাহিকের নায়কের কণ্ঠে! গতকাল নিজের নতুন ছবির একটি অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন অভিনেতা জিতু কমল। সেখানেই তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্পষ্ট ভাষায় এই সব খবরকে ভিত্তিহীন বলেই উড়িয়ে দেন। জিতুর কথায়, যতক্ষণ না চ্যানেল বা প্রযোজনা সংস্থার তরফ থেকে সরাসরি কোনও ফোন কল বা হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ আসছে, ততক্ষণ তিনি ধারাবাহিক শেষ হওয়ার বিষয়ে কিছুই জানেন না। তাঁর মতে, আপাতত যা চলছে, সবই জল্পনা।
আরও পড়ুনঃ ‘কৃত্রিমতার ছোঁয়া নেই, সবটাই হাতে তৈরি!’ ফাঁকা দরজায় কবিতা, রঙে রঙে স্মৃতি! নিজের হাতে সাজানো নতুন ফ্ল্যাটে নতুন জীবন শুরু সাগরিকা রায়ের! স্বপ্নের বাড়ি তৈরীর পথে বাধা-বিপত্তর গল্প শোনালেন অভিনেত্রী?
এই অবস্থায় ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’-এর ভবিষ্যৎ ঠিক কোন দিকে যাবে, তা এখনও পরিষ্কার নয়। একদিকে টিআরপি আর গল্পের দোলাচল আর অন্যদিকে নায়কের আত্মবিশ্বাসী বক্তব্য, দুটোর মাঝে দাঁড়িয়ে দর্শক শুধু অপেক্ষাই করতে পারেন। গল্প কি তার প্রাপ্য পরিণতি পাবে, নাকি হঠাৎই পর্দা নামবে, সেই উত্তর সময়ই দেবে। আপাতত নিশ্চিত শুধু একটাই, ধারাবাহিক ঘিরে আলোচনা আর কৌতূহল এখনও পুরোপুরি থামেনি।
