জি বাংলার ‘জোয়ার ভাঁটা’ (Jowar Bhanta) ধারাবাহিকের সাম্প্রতিক পর্বে ঋষি ও সুদেষ্ণাকে ঘিরে যে নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা নিয়েই ক্ষোভ প্রকাশ করছেন দর্শকদের একাংশ। নতুন প্রোমোতে সুদেষ্ণার সঙ্গে ঋষির ঘনিষ্ঠতা দেখানোর পর থেকেই শুরু হয়েছে নানান প্রশ্ন। বিশেষ করে যাঁরা এতদিন ঋষিকে উজির প্রতি ভালোবাসা, সম্মান এবং বিশ্বাসে অটুট স্বামী হিসেবে দেখে এসেছেন, তাঁদের অনেকেই এই দৃশ্য মেনে নিতে পারছেন না। দর্শকদের বক্তব্য, যে মানুষটি এতদিন উজির প্রতি এতটাই বিশ্বস্ত ছিল, হঠাৎ করে তাকে অন্য এক নারীর সঙ্গে এমনভাবে দেখানোর প্রয়োজন কী ছিল? সুদেষ্ণা ঋষির গায়ে এসে পড়লেও তাঁকে আটকাতে না পারার দৃশ্যও তাঁদের কাছে অস্বাভাবিক লেগেছে।
ঋষি মদ্যপ ছিলেন, এই যুক্তি থাকলেও তিনি নিজেকে সামলাতে পারেন না এমন পরিস্থিতি দেখানো উচিত ছিল কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে। ফলে নতুন গল্পের মোড়ের বদলে ঋষির চরিত্রের ধারাবাহিকতাই এখন দর্শকদের আলোচনার কেন্দ্রে। দর্শকদের একাংশের মতে, একটি চরিত্রকে দীর্ঘদিন ধরে নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যে তৈরি করার পর হঠাৎ তার আচরণ সম্পূর্ণ বদলে দেওয়া ঠিক নয়। ঋষির চরিত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল উজির প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা এবং বিশ্বস্ততা। তাঁদের সম্পর্কের সৌন্দর্যও এতদিন তৈরি হয়েছে পারস্পরিক বিশ্বাস, সম্মান এবং একে অপরের প্রতি নির্ভরতার মধ্য দিয়ে। সেই ঋষিকেই অন্য একটি মেয়ের দিকে তাকিয়ে থাকতে বা তার অতিরিক্ত কাছে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখানোয় দর্শকদের একাংশ হতাশ।
তাঁদের প্রশ্ন, শুধু নাটকীয়তা বাড়ানোর জন্য কি ঋষির এতদিনের চরিত্রের সঙ্গে না মেলা আচরণ দেখাতে হবে? নতুন কোনও সমস্যা তৈরি করতে গিয়ে যদি একটি জনপ্রিয় চরিত্রের স্বভাবই বদলে যায়, তাহলে সেই পরিবর্তন দর্শকের কাছে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। এই কারণেই নির্মাতাদের গল্পের চমকের পাশাপাশি চরিত্রের ধারাবাহিকতার দিকেও নজর দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছেন তাঁরা। ঋষির আগের একটি ঘটনার সঙ্গেও বর্তমান দৃশ্যের তুলনা টেনেছেন দর্শকদের কেউ কেউ। তাঁদের মনে পড়েছে, এর আগে বর্ণাকে ঘিরে একটি দৃশ্যে ঋষির আচরণ সম্পূর্ণ অন্যরকম ছিল। সেই সময় তিনি বর্ণাকে সরিয়ে দিয়েছিলেন এবং নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন।
তাহলে এখন সুদেষ্ণার ক্ষেত্রে তাঁর আচরণ এতটা আলাদা কেন, সেই প্রশ্নই তুলছেন দর্শকরা। বিশেষ করে ঋষি একজন বিবাহিত মানুষ হওয়া সত্ত্বেও অন্য নারীর এমন ঘনিষ্ঠতা আটকাতে না পারার বিষয়টি তাঁদের কাছে অবাস্তব মনে হয়েছে। এক দর্শকের রসিক মন্তব্য, আগের ঋষি আর এখনকার ঋষির মধ্যে এতটাই পার্থক্য যে পর্দায় তাঁকে দেখে চেনাই কঠিন হয়ে গিয়েছে। তাই গল্পের প্রয়োজনে চরিত্রের স্বভাবকে এভাবে বদলে না দেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন তাঁরা। দর্শকদের মতে, উজি এবং ঋষির সম্পর্কই ‘জোয়ার ভাঁটা’র অন্যতম বড় আকর্ষণ। তাঁদের ভালোবাসা এবং একে অপরের প্রতি আস্থার কারণেই এই সম্পর্ক এতটা গ্রহণযোগ্য হয়েছে বলে মনে করেন তাঁরা। সেখানে অন্য একটি মেয়েকে কেন্দ্র করে ঋষির চরিত্রকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করানোর চেষ্টা তাঁদের একেবারেই পছন্দ হয়নি।
নতুন সম্পর্কের সমীকরণ বা ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করা যেত, কিন্তু তার জন্য ঋষির ব্যক্তিত্বকে বদলে দেওয়ার প্রয়োজন ছিল না বলেই মত দর্শকদের। তাঁদের বক্তব্য, ঋষিকে তাঁরা এমন একজন স্বামী হিসেবেই দেখতে চান, যিনি উজির প্রতি বিশ্বস্ত, যত্নশীল এবং সুরক্ষাদাতা। তাই গল্পে যতই নতুন সমস্যা আসুক, ঋষির সেই মূল বৈশিষ্ট্যগুলি যেন নষ্ট না হয়। নইলে দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হওয়া চরিত্রটির সঙ্গে দর্শকদের যে আবেগের সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, সেটিই ধাক্কা খেতে পারে। এখন তাই ‘জোয়ার ভাঁটা’র আগামী পর্ব নিয়ে দর্শকদের কৌতূহলের পাশাপাশি আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। সুদেষ্ণার আগমন কি সত্যিই ঋষি ও উজির সম্পর্কে নতুন কোনও সংকট তৈরি করবে, নাকি পুরো ঘটনাটির পিছনে রয়েছে অন্য কোনও কারণ?
আরও পড়ুনঃ “মানসিকতাটা খুবই নীচে নেমে গিয়েছে, সবার আগে নিজেকে পাল্টান!” “খারাপ জিনিস সকলকে দেখিয়ে সকলের মধ্যে কেন ছড়িয়ে দেব?” বিবাহ বিচ্ছেদ জল্পনার মাঝেই ফেসবুক লাইভে রণজয় বিষ্ণু, কেন হঠাৎ এমন অনুরোধ করতে হল অভিনেতাকে? ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে শ্যামপ্তিকে উদ্দেশ্য করে দিলেন পরোক্ষ বার্তা?
ঋষির সাম্প্রতিক আচরণের ব্যাখ্যাই বা কীভাবে দেওয়া হবে, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দর্শকদের একাংশ ইতিমধ্যেই নির্মাতাদের কাছে ঋষির চরিত্রটি আগের মতোই রাখার আবেদন জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, শুধু নাটকীয়তা বাড়ানোর জন্য কোনও চরিত্রের স্বাভাবিক আচরণকে বদলে দেওয়া উচিত নয়। কারণ ঋষি তাঁদের কাছে শুধুই একটি চরিত্র নন, উজির সঙ্গে তাঁর সম্পর্কও ধারাবাহিকটির আবেগের অন্যতম জায়গা। তাই নতুন মোড় আসুক, কিন্তু তার জন্য ‘আমাদের ঋষি’কে যেন দর্শকদের কাছে অচেনা করে না দেওয়া হয়, এখন সেটাই তাঁদের মূল দাবি।
