জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করেনি, স্ত্রীর ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে নিজের ঘর ছেড়ে অতিথি কক্ষে থাকছে…বাংলা ধারাবাহিকে এমন নায়ক ক’জন আছে?” নিশাকে শাস্তি নয়, বদলে দিতে চায় জিৎ! দর্শকদের দাবি, এই দৃষ্টিভঙ্গি অন্যান্য গল্পের পুলিশদের থেকে আলাদা করেছে ‘জোয়ার ভাঁটা’র জিৎ বসুর চরিত্রটাকে! আপনাদের কী মত?

জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘জোয়ার ভাঁটা’-র (Jowar Bhanta) গল্প যত এগোচ্ছে, ততই নতুন নতুন মোড় দর্শকদের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠছে। তবে এবার গল্পের কোনও রহস্য নয়, বরং জিৎ বসুর চরিত্র নিয়েই সরব হয়েছেন দর্শকদের একাংশ। তাঁদের মতে, বাংলা ধারাবাহিকে যেখানে প্রায়ই নায়কদের একাধিক সম্পর্ক, ভুল বোঝাবুঝি বা বিতর্কিত আচরণ দেখানো হয়, সেখানে জিৎকে শুরু থেকেই একেবারে সৎ, সংযত এবং দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। সেই কারণেই সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার পরেও তাঁকে নিয়ে দর্শকদের বিশ্বাস এত সহজে নড়ছে না। অনেকের বক্তব্য, মাত্র দু-একটি পর্বে জিৎকে নেতিবাচকভাবে দেখালেই তাঁর দীর্ঘদিনের চরিত্রচিত্রণ বদলে যায় না।

দর্শকদের মতে, নিশার চরিত্র যেমন শুরু থেকেই জটিল। সে বারবার ভুল পথে হাঁটলেও অনেক সময় পরিস্থিতির চাপে সেই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে বলেই গল্পে ইঙ্গিত মিলেছে। ঠিক তেমনই জিৎকেও কখনও শুধুমাত্র অপরাধী ধরার পুলিশ অফিসার হিসেবে দেখানো হয়নি। বরং অপরাধীকে শুধরে দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার মানসিকতাই তাঁর চরিত্রের সবচেয়ে বড় দিক। দর্শকদের একাংশের দাবি, জিৎ বহুবার কঠোর আইনি পদক্ষেপের বদলে মানুষকে সঠিক পথে ফেরানোর চেষ্টা করেছে। তাই তাঁর উদ্দেশ্য শুধু শাস্তি দেওয়া নয়, মানুষকে বদলে দেওয়াও। এই দৃষ্টিভঙ্গিই তাঁকে অন্য ধারাবাহিকের নায়কদের থেকে আলাদা করেছে বলে মনে করছেন অনেকে।

নিশার সঙ্গে জিৎের সম্পর্ক নিয়েও দর্শকদের মধ্যে বিস্তর আলোচনা চলছে। তাঁদের মতে, বিয়ের পরেও জিৎ কখনও নিশার ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করেনি। বরং স্ত্রীর ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে নিজের ঘর ছেড়ে অতিথি কক্ষে থাকার মতো সিদ্ধান্তও নিয়েছে। কর্মক্ষেত্রের বাইরে কখনও নিশাকে অপমান করা বা জোর করে নিজের মত চাপিয়ে দেওয়ার দৃশ্যও দেখানো হয়নি। অথচ নিশা এখনও প্রায় সব সময় জিৎকেই নিজের প্রধান শত্রু মনে করছে। এই একপাক্ষিক প্রতিহিংসার মনোভাবই দর্শকদের একাংশের কাছে অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁদের মতে, জিৎের প্রতি নিশার এই অতিরিক্ত রাগের কারণ এখন আর যথেষ্ট গ্রহণযোগ্য মনে হচ্ছে না।

অনেক দর্শকের মত, যদি আগামী দিনে নিশা নিজের সমস্ত শক্তি জিৎকে হারানোর বদলে দুর্জয়, সায়ন্তন, শুভেন্দু, শঙ্খ কিংবা অন্য নেতিবাচক চরিত্রদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করে, তাহলে গল্প আরও বেশি উপভোগ্য হয়ে উঠবে। তাঁদের দাবি, জিৎ ও নিশার লড়াই যদি ধীরে ধীরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে পারস্পরিক বোঝাপড়ায় পৌঁছায়, তাহলে সেই সম্পর্কের গভীরতাও আরও সুন্দরভাবে ফুটে উঠবে। জিৎ যে শুরু থেকেই নিশাকে বদলে দিতে চেয়েছে, সেই লক্ষ্য পূরণ হওয়ার দিকেই গল্প এগোলে দর্শকদের আবেগও আরও বেশি জড়িয়ে পড়বে বলে মত অনেকের।

দর্শকদের একাংশ আরও মনে করছেন, গল্পে এমন পরিস্থিতি দেখানো যেতে পারে যেখানে নিশা ইচ্ছা না থাকলেও বাধ্য হয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, আর সেই সময় তাকে গ্রেপ্তার করার বদলে জিৎ সত্যিটা বুঝে তাকে বিপদ থেকে বের করে আনছে। জিৎের সততা, মানবিকতা এবং বিশ্বাস দেখে যদি নিশার মনোভাব ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করে, তাহলে সেই পরিবর্তন গল্পকে নতুন মাত্রা দিতে পারে। তাঁদের মতে, শুধুমাত্র একতরফা প্রতিশোধের লড়াই নয়, বরং দুই শক্তিশালী চরিত্রের মানসিক পরিবর্তন এবং সম্পর্কের বিকাশই ‘জোয়ার ভাঁটা’-র আগামী পর্বগুলিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page