জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“আমি তোর জন্য সব ছাড়তে রাজি রে তিরপিন্ডে…” এই এক সংলাপেই চোখে জল দর্শকদের! এত দ্বন্দ্ব ও অমিল সত্ত্বেও, রায়ানের প্রতি পারুলের নিঃস্বার্থ ভালোবাসায় মুগ্ধ দর্শক! ‘ভালোবাসায় এমন আত্মত্যাগ আজকাল কোথায়?’ ঈশানীর অভিনয়ে আবেগে ভাসলেন ‘পরিণীতা’ অনুরাগীরা, অভিনেত্রীকে জানাচ্ছেন কুর্নিশ!

জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘পরিণীতা’-র (Parineeta) সাম্প্রতিক পর্ব দর্শকদের মনে গভীর ছাপ ফেলেছে। এবার রহস্য বা চক্রান্তের চেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে পারুল ও রায়ানের সম্পর্কের আবেগঘন দিক। সাম্প্রতিক পর্বে দেখা যায়, নিজের পদ বা সাফল্যের চেয়ে রায়ানের আত্মসম্মানকেই বেশি গুরুত্ব দেয় পারুল। নিজের ত্যাগকে বড় করে না দেখে সে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, রায়ানের পাশে দাঁড়িয়ে তার সাফল্য দেখাই তার সবচেয়ে বড় আনন্দ। এই দৃশ্য দেখেই সমাজ মাধ্যমে প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন দর্শকদের একাংশ। তাঁদের মতে, সত্যিকারের ভালোবাসা মানেই প্রিয় মানুষটার ভালো থাকার জন্য নিজের স্বার্থকে পিছনে সরিয়ে রাখা, আর পারুল সেই অনুভূতিকেই জীবন্ত করে তুলেছে।

সবচেয়ে বেশি আবেগ ছড়িয়েছে পারুলের সেই সংলাপ, “আমি তোর জন্য সব ছাড়তে রাজি রে তিরপিন্ডে…”। দর্শকদের একাংশের দাবি, এই একটি সংলাপ যেন পুরো দৃশ্যের আবেগকে অন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। তাঁদের কথায়, ভালোবাসায় কোনো অহংকার, সামাজিক অবস্থান, বড় পদ কিংবা জটিলতার জায়গা নেই। সেখানে সবচেয়ে বড় বিষয় প্রিয় মানুষের সুখ। তাই এই দৃশ্য শুধু একটি সংলাপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং নিঃস্বার্থ ভালোবাসার এক গভীর প্রকাশ হয়ে উঠেছে। অনেকেই লিখেছেন, এই মুহূর্তে চোখের জল ধরে রাখা সত্যিই কঠিন হয়ে পড়েছিল।

এই পর্বে ঈশানী চ্যাটার্জীর অভিনয় নিয়েও প্রশংসার ঝড় উঠেছে। দর্শকদের মতে, প্রতিটি সংলাপ, প্রতিটি মুখের অভিব্যক্তি এবং চোখের ভাষার মাধ্যমে তিনি পারুলের অনুভূতিগুলো এতটাই স্বাভাবিকভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন যে তা সহজেই দর্শকদের হৃদয়ে পৌঁছে গেছে। অনেকের বক্তব্য, পারুল চরিত্রটিকে এত আপন লাগার অন্যতম কারণই হলো তার সরলতা, নিঃস্বার্থ ভালোবাসা এবং প্রিয় মানুষটার জন্য নিজের সবকিছু ছেড়ে দেওয়ার মানসিকতা। এই পর্বে সেই গুণগুলো আরও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে বলেই মনে করছেন অনুরাগীরা।

অন্যদিকে গল্পে কিন্তু রহস্যও কমেনি। রায়ানের পাশে এখন পারুল, রুক্মিণী ও পিসিমনি শক্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। রায়ানও প্রথমবার উপলব্ধি করতে শুরু করেছে পারুলের মূল্য। তবে দ্বিতীয় চিঠির রহস্য এখনও অমীমাংসিত, যা আগামী দিনের গল্পে বড় মোড় আনতে পারে বলে মনে করছেন দর্শকরা। একই সঙ্গে শিরিনের আচরণেও এখনও বদলের স্পষ্ট কোনো ইঙ্গিত মিলছে না। বরং তার কথাবার্তায় নতুন ষড়যন্ত্রের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। পারুল বিশ্বাস করলেও, দর্শকদের একাংশের আশঙ্কা শিরিন ও তার মা সেই বিশ্বাসের সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে।

আগামী পর্বের ঝলকেও একদিকে রায়ান ও পারুলের মিষ্টি খুনসুটি, অন্যদিকে বড় বিপদের ইঙ্গিত মিলেছে। রায়ান মজা করে নিজের চেহারা নিয়ে কথা বললেও, তার মন থেকে এখনও শিরিনকে নিয়ে দুশ্চিন্তা কাটেনি। পারুল অবশ্য আশাবাদী, একদিন শিরিন বদলাবে। কিন্তু ঠিক সেই সময় শিরিনের মুখে শোনা যায়, সে কাউকে সুখে থাকতে দেবে না। এই সংলাপেই স্পষ্ট, সামনে আরও বড় সংঘাত অপেক্ষা করছে। তবে আজকের পর্ব শেষে দর্শকদের আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে একটাই বিষয়, পারুলের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা এবং সেই আবেগকে পর্দায় জীবন্ত করে তোলা ঈশানী চ্যাটার্জীর অভিনয়।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page