জি বাংলার ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’-এর গল্প যত এগোচ্ছে, ততই একের পর এক নতুন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে ঝিনুককে ঘিরে। এতদিন ধরেই সে বুঝতে পারছিল, এই বাড়ি এবং সম্রাটের জীবনকে ঘিরে এমন কিছু রহস্য রয়েছে, যার উত্তর সে এখনও পায়নি। বাড়ির পরিবেশও তার কাছে ক্রমশ দমবন্ধ লাগছিল। তাই শেষ পর্যন্ত কাউকে কিছু না জানিয়ে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ঝিনুক। কিন্তু বাড়ি থেকে পালানোর চেষ্টা করেও সম্রাটের নজর এড়াতে পারেনি সে। সম্রাট তাকে আটকে দেয় এবং স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়, সে কিছুতেই ঝিনুককে এভাবে চলে যেতে দেবে না।
এদিকে ঝিনুকের হঠাৎ উধাও হয়ে যাওয়ার খবর বাড়িতে পৌঁছতেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। শ্রীনিবাস ও কমলা তখন বাড়িতে বসে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করছিলেন। সেই সময় অঞ্জু এসে জানায়, ঝিনুক বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েছে। প্রথমে এমন খবর বিশ্বাস করতেই পারেননি তাঁরা। তবে ঝিনুক যে সত্যিই বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে পড়েছে, সেটা বুঝতে দেরি হয় না। জানা যাচ্ছে, সবার চোখ এড়িয়ে কাপড় দিয়ে দড়ি তৈরি করে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে যায় সে। এতদিনের অস্বস্তি আর বাড়ির রহস্যের উত্তর খুঁজতে গিয়েই যে ঝিনুক এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা এখন গল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, আদিত্যের জীবনেও চলছে একেবারে অন্যরকম টানাপোড়েন। আদিত্যের পরিবারের তরফে বর্তমান এমএলএ-র মেয়ের সঙ্গে তার বিয়ের কথাবার্তা প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে হবু পাত্রীকে একান্তে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হলেও আদিত্যের মন পড়ে রয়েছে পল্লবীর কাছে। তার কথাবার্তা ও আচরণেও সেই দ্বিধা ধরা পড়ছে। পরিবারের লোকেরা অবশ্য আদিত্যের কিছু আচরণ দেখে অন্য অর্থ করছেন এবং মনে করছেন, এই বিয়েতে তার আপত্তি নেই। কিন্তু আসল সত্যিটা হল, আদিত্য নিজেই বুঝতে পারছে না কীভাবে এই বিয়ে আটকাবে এবং নিজের মনের কথাই বা কীভাবে সকলকে জানাবে।
এদিকে ঝিনুক শিব মন্দিরে আশ্রয় নেয়। বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে আসার পর কোথায় যাবে, কী করবে, এই মুহূর্তে কিছুই বুঝতে পারছে না সে। তাই ঠাকুরের কাছে প্রার্থনা করে নিজের জন্য সঠিক পথ খুঁজে দেওয়ার আর্জি জানায় ঝিনুক। শিবের মাথায় জল ঢেলে সে নিজের পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য ঈশ্বরের সাহায্য চায়। তবে বাড়ির পরিস্থিতি যে এত সহজে থেমে থাকবে না, তার ইঙ্গিতও মিলছে পরবর্তী ঘটনায়।
আরও পড়ুনঃ “শিরিন আমাদের অপু, কেন এনাকে কুচুটে বলি মিলিয়ে নেবেন!” “অপর্ণা চরিত্রে দিতিপ্রিয়াই সেরা!” দিতিপ্রিয়ার জন্মদিনে শ্যামাশিষ পাহাড়ির শুভেচ্ছা ঘিরেই ফের তুঙ্গে জিতু-দিতিপ্রিয়া ভক্তদের তরজা! কে আসল ‘অপু’ তা নিয়েই দুই শিবিরে তুমুল লড়াইয়ে উত্তপ্ত সমাজ মাধ্যম!
ঝিনুককে বাড়িতে না পেয়ে সম্রাট এমনিতেই প্রচণ্ড বিরক্ত হয়ে পড়ে। এর মধ্যেই হঠাৎ শ্রীনিবাস ও কমলা তার বাড়িতে এসে হাজির হওয়ায় পরিস্থিতি আরও অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। তাঁরা ঝিনুকের খোঁজেই সেখানে ছুটে যান। এখন সম্রাট তাঁদের কী উত্তর দেয়, ঝিনুক কোথায় রয়েছে সেই সত্যি কতটা প্রকাশ পায় এবং শেষ পর্যন্ত ঝিনুককে কীভাবে আবার বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়, সেটাই দেখার। একইসঙ্গে আদিত্য কি নিজের মনের কথা প্রকাশ করে পল্লবীর জন্য এই বিয়ে আটকাতে পারবে, নাকি পরিবারের সিদ্ধান্তেই তাকে এগোতে হবে, আগামী পর্বে সেই প্রশ্নেরও উত্তর মিলবে।
