জি বাংলার ‘কমলা নিবাস’ (Kamala Nibas) ধারাবাহিকের সাম্প্রতিক পর্বে একের পর এক ঘটনায় গল্প আরও জটিল মোড় নিয়েছে। আজকের পর্বে সম্রাট জেনে যায় যে পল্লবী একটি পার্সেল নিয়ে ঝিনুকের সঙ্গে দেখা করতে আসছে। সিসিটিভি ফুটেজে সেই তথ্য সামনে আসতেই সে চিন্তায় পড়ে যায়। সম্রাটের আশঙ্কা, ঝিনুক যদি অসাবধানতাবশত পল্লবীর সামনে এমন কিছু বলে ফেলে, তাহলে এতদিন ধরে লুকিয়ে রাখা একাধিক গোপন সত্য প্রকাশ্যে চলে আসবে। সেই কারণেই সম্রাট সিদ্ধান্ত নেয়, যেভাবেই হোক পল্লবীকে ঝিনুকের কাছে পৌঁছাতে দেওয়া যাবে না। অন্যদিকে, কিছুই না জেনে পল্লবী আদিত্যের সঙ্গে গাড়িতে করে ঝিনুকের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেয়।
ক্লান্তিতে সে গাড়িতেই আদিত্যের কাঁধে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়ে। এদিকে সম্রাট নিজের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে একের পর এক পদক্ষেপ নিতে থাকে। সে ইচ্ছে করেই ঝিনুকের ফোন বন্ধ করে রাখে, যাতে পরিবারের কেউ তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারে। শুধু ঝিনুকই নয়, পল্লবী এবং কমলার একাধিক ফোনও সে এড়িয়ে যায়। সব মিলিয়ে সে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করে, যাতে বাইরে থেকে কেউ বুঝতেই না পারে ঝিনুকের সঙ্গে যোগাযোগ কেন সম্ভব হচ্ছে না। তার লক্ষ্য একটাই, কোনওভাবেই সত্যিটা বাইরে বেরোতে দেওয়া যাবে না।
অন্যদিকে, অনেক আশা নিয়ে পল্লবী ঝিনুকের বাড়িতে পৌঁছালেও তার সমস্ত চেষ্টাই ব্যর্থ হয়। গেটে থাকা নিরাপত্তারক্ষী তাকে ভেতরে ঢুকতে দেয় না, এমনকি ঝিনুককে একবার ডেকেও দেয় না। সবচেয়ে অবাক করার বিষয়, এই পুরো ঘটনাই আড়াল থেকে দাঁড়িয়ে দেখছিল সম্রাট। চাইলে সে সামনে এসে বিষয়টি পরিষ্কার করতে পারত, কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবেই নিজেকে লুকিয়ে রাখে। ফলে কমলা যত যত্ন করে ঝিনুকের জন্য খাবার পাঠিয়েছিল, সেটিও শেষ পর্যন্ত তার হাতে পৌঁছায় না।
পরের দৃশ্যে বাড়ি ফিরে পল্লবী সবাইকে জানায় যে, তাদের গেট থেকেই ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই কথা শুনে কমলা এবং বাড়ির অন্য সদস্যরা হতবাক হয়ে যান। কমলার মনে সঙ্গে সঙ্গেই সন্দেহ তৈরি হয় যে, ঝিনুকের সংসারে নিশ্চয়ই বড় কোনও সমস্যা চলছে। তাই আর অপেক্ষা না করে সে ঠিক করে, পরের দিন নিজেই ঝিনুকের বাড়িতে যাবে এবং সবকিছু নিজের চোখে দেখে আসবে। কমলার এই সিদ্ধান্তে শ্রীনিবাসও সম্মতি দেন। রাত বাড়লেও দুশ্চিন্তা কমে না। কমলা বুঝতে পারে, শ্রীনিবাসের মনেও অন্য একটি চিন্তা কাজ করছে।
আরও পড়ুনঃ “মা হতে চলেছে পারুল, অথচ অনাগত সন্তানের কথা যেন ভাবছেই না!” “সন্তানকে ঘিরে নেই কোনও স্বপ্ন, নেই পারুল-রায়ানের কোনও ভালোবাসা বা কথোপকথনের মুহূর্ত!” এই ট্র্যাকটা আরও সুন্দরভাবে দেখানো উচিত ছিল! পারুলের প্রেগন্যান্সি কি শুধু নামেই? ‘পরিণীতা’র গল্পে বড় অভিযোগ দর্শকদের আপনারাও কি একমত?
কারণ জানতে চাইলে বোঝা যায়, নিজের চাকরি চলে যাওয়ার আশঙ্কাই তাঁকে ভেতর থেকে কুরে কুরে খাচ্ছে। অন্যদিকে গল্পে আদিত্য-পল্লবীর সম্পর্কও ধীরে ধীরে নতুন দিকে এগোচ্ছে, আবার হরিশের উপস্থিতি পল্লবীর জীবনে নতুন অশান্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে। একই সঙ্গে আদিত্যের জীবনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য সামনে আসারও ইঙ্গিত মিলেছে। এখন দেখার বিষয়, কমলা ঝিনুকের বাড়িতে গিয়ে সত্যিই কোনও বড় রহস্যের খোঁজ পান কি না, নাকি সম্রাট শেষ মুহূর্তেও নিজের কৌশল দিয়ে সবকিছু আড়াল করে রাখতে সক্ষম হয়।
