জি বাংলার ‘কমলা নিবাস’ (Kamala Nibas) ধারাবাহিকের সাম্প্রতিক পর্বে একদিকে যেমন ভালোবাসা, ভুল বোঝাবুঝি আর পারিবারিক আবেগের মিশেল দেখা গেল, তেমনই অন্যদিকে একাধিক চরিত্রের জীবনে বড়সড় টানাপোড়েনও তৈরি হয়েছে। পল্লবীর অভিমান ভাঙাতে আদিত্যর একের পর এক চেষ্টায় শুরুটা ছিল বেশ হালকা মেজাজের। হাতে ‘সরি’ লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে পল্লবীর পিছনে ঘোরা থেকে শুরু করে অফিসজুড়ে ক্ষমা চাওয়ার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া, সবই করেছে সে। কিন্তু এত কিছুর পরেও পল্লবীর মন নরম হয়নি। বরং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন পল্লবীর হাতে একটি আপত্তিকর ভাষায় লেখা চিঠি পৌঁছায়।
চিঠির হাতের লেখা দেখে মনে হয় সেটি আদিত্যই লিখেছে। যদিও পুরো ঘটনাটাই পরিকল্পনা করে ঘটিয়েছে পল্লবীর বস। তার চক্রান্তের ফলেই সবার সামনে নির্দোষ আদিত্যকে অপমানের মুখে পড়তে হয়। অন্যদিকে কমলা ও শ্রীনিবাসের সম্পর্কের আবেগঘন দিকও এই পর্বে বিশেষভাবে উঠে এসেছে। সংসারের প্রয়োজন মেটাতে টাকা জোগাড় করার জন্য শ্রীনিবাসকে যে কতটা সংগ্রাম করতে হয়েছে, তা অবশেষে বুঝতে পারে কমলা। স্বামীর কষ্টের কথা জানতে পেরে সে ভেঙে পড়লেও, শ্রীনিবাস তাকে আশ্বস্ত করে জানায়, কমলার মুখে হাসি দেখতে পারাই তার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
সেই আবেগঘন মুহূর্তেই শ্রীনিবাস কমলার কাছে একটি মূল্যবান জিনিস চেয়ে বসে। তবে সেটি কী, তা এখনও প্রকাশ করা হয়নি। এই রহস্যই এখন দর্শকদের কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এদিকে ঝিনুকের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার দিনেও শান্তি বজায় থাকেনি। পরীক্ষায় যাওয়ার আগে সম্রাট তাকে একটি বিশেষ পেন উপহার দেয় এবং সারাক্ষণ তার খেয়াল রাখে। কিন্তু পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছানোর পরই সম্রাটের অন্য রূপ সামনে আসে। ঝিনুককে রণজয়ের বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলতে সে একেবারেই মেনে নিতে পারে না। এমনকি ঝিনুক যখন বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করে, তখন রাগের মাথায় সম্রাট একটি ফুলের টব ছুড়ে মারে।
সেই আঘাতে এক ছাত্রের মাথা ফেটে যায় এবং তার পরীক্ষা দেওয়াও সম্ভব হয় না। পরে অবশ্য সম্রাট নিজেই আহত ছেলেটিকে হাসপাতালে নিয়ে যায়, তবে তার এই আচরণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তবে, আদিত্য নিজের নির্দোষিতা প্রমাণ করতে পারবে কি না, পল্লবী সত্যিটা জানতে পারবে কি না, আবার সম্রাটের রাগ ভবিষ্যতে ঝিনুকের জীবনে আরও বড় বিপদ ডেকে আনবে কি না, এসব প্রশ্নই এখন গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। একইসঙ্গে শ্রীনিবাস ও কমলার সম্পর্কেও নতুন এক আবেগঘন অধ্যায়ের সূচনা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ পড়ুয়াদের অধিকারের দাবিতে পাশে দাঁড়াতেই ‘দেশদ্রোহী’ তকমা! কটাক্ষের মুখে শান্ত অথচ কড়া জবাবে নজর কাড়লেন ‘অপর্ণা’ শিরিন পাল!
অবশেষে পারিবারিক দ্বন্দ্বের ইতি, কমলা ও শ্রীনিবাসকে তাঁদের ছোট ছেলে এবং পুত্রবধূ চোখ বন্ধ করে একটি বিশেষ জায়গায় নিয়ে যায়। সেখানে তাঁদের জন্য কী চমক অপেক্ষা করছে, তা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে আদিত্য-পল্লবীর ভুল বোঝাবুঝির সমাধান, ঝিনুক-সম্রাটের সম্পর্কের নতুন মোড় এবং কমলা-শ্রীনিবাসের জীবনের সেই বিশেষ মুহূর্ত, সব মিলিয়ে আগামী পর্বের অপেক্ষায় রয়েছেন দর্শকরা।
