পড়ুয়াদের অধিকারের দাবিতে পাশে দাঁড়াতেই ‘দেশদ্রোহী’ তকমা! কটাক্ষের মুখে শান্ত অথচ কড়া জবাবে নজর কাড়লেন ‘অপর্ণা’ শিরিন পাল!

বাংলা টেলিভিশনের পরিচিত মুখ শিরিন পাল অল্প সময়েই দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ধারাবাহিকে অপর্ণা চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি আলাদা পরিচিতি পেয়েছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও নিজের মতামত প্রকাশ করতে পিছপা হন না তিনি। সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে সমর্থন করে তাঁর একটি সমাজমাধ্যমের পোস্ট নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। সেই পোস্টকে ঘিরেই শুরু হয়েছে বিস্তর বিতর্ক। কেউ তাঁর বক্তব্যের পাশে দাঁড়িয়েছেন, আবার কেউ তীব্র সমালোচনাও করেছেন। তবে সমস্ত কিছুর মাঝেও নিজের অবস্থান থেকে একচুলও সরে যাননি অভিনেত্রী।

সম্প্রতি শিক্ষার্থী আন্দোলনের সমর্থনে শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত একটি প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দেওয়া হয়। আন্দোলনরত পড়ুয়াদের প্রতি সংহতি জানিয়ে এবং সাধারণ মানুষকে মিছিলে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শিরিন নিজের সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি কবি প্রলয় সরকারের কবিতার পংক্তির সঙ্গে নিজের বক্তব্যও তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, “রক্ত ঝরছে। ঘাম ঝরছে। জলকামান চলছে। লাঠি উঠছে। তবু গোলাপ এখনও ফুটছে। আমার সাথীরা যারা শুধু নিজের ন্যায্য অধিকারটুকু চাইছে… জয় তাদের! আজ যারা লাঠি চালাচ্ছে, কাল ইতিহাস তাদের নাম ভুলে যাবে। আজ যারা লাঠির সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়াচ্ছে, ইতিহাস তাদেরই মনে রাখবে। অন্তত আমি বলতে পারব আমি কোন দলে ছিলাম। এ লড়াই অধিকারের, টিকে থাকার ও মর্যাদার। অধিকার ভিক্ষা নয়, ছিনিয়ে নিতে হয়।” এই পোস্ট ঘিরেই সমাজ মাধ্যমে শুরু হয় তুমুল আলোচনা।

পোস্ট প্রকাশ্যে আসতেই অনেকেই অভিনেত্রীর সাহসী অবস্থানের প্রশংসা করেন। তবে অন্যদিকে একাংশের তীব্র কটাক্ষও নেমে আসে তাঁর দিকে। এক ব্যক্তি মন্তব্য করে লেখেন, “এই লিবারান্ডু দেশদ্রোহীদের বয়কট করুন! একটা সিরিয়াল করেই বিশাল সেলিব্রিটি হয়ে গেছে।” সেই মন্তব্য এড়িয়ে না গিয়ে শিরিন খুব সংযত ভাষাতেই উত্তর দেন। তিনি লেখেন, “না দাদা, সেলেব হ নি। তবে সিরিয়াল করার আগে থেকেই একটা শক্ত শিরদাঁড়ার মানুষ হওয়ার চেষ্টা করছি।” অভিনেত্রীর এই জবাব খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং বহু মানুষ তাঁর আত্মসম্মানবোধের প্রশংসা করেন।

এরপর আরও একটি মন্তব্যে একজন পরিচিত ব্যক্তি লেখেন, “তথ্যপ্রযুক্তি শাখার লোকজন এসে তো মন্তব্য একের পর এক লিখে যাচ্ছে।” সেই মন্তব্যেরও উত্তর দেন শিরিন। তিনি লেখেন, “হ্যাঁ, একজন তো দেশদ্রোহীও বলে দিল।” তাঁর এই সংক্ষিপ্ত মন্তব্যও দ্রুত আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। সমর্থকদের একাংশের মতে, ব্যক্তিগত আক্রমণের মুখেও তিনি উত্তেজিত না হয়ে শান্তভাবে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন। আবার সমালোচকদের একাংশ নিজেদের মতামতও প্রকাশ করতে থাকেন। ফলে বিষয়টি নিয়ে সমাজমাধ্যমে বিতর্ক আরও বেড়ে যায়।

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতে টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র জগতের একাধিক তরুণ শিল্পী নিজেদের মতামত প্রকাশ করছেন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন হোক কিংবা সাধারণ মানুষের অধিকার নিয়ে আলোচনা, অনেকেই প্রকাশ্যে নিজের অবস্থান জানাচ্ছেন। শিরিন পালের এই পোস্ট এবং তার পরবর্তী জবাবও সেই ধারারই একটি উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে। সমর্থন ও সমালোচনা, দুইয়ের মধ্যেই তিনি নিজের বক্তব্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। তাঁর এই প্রতিক্রিয়া এখন সমাজমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এবং তা নিয়ে এখনও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

Rimi Datta

রিমি দত্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর। কপি রাইটার হিসেবে সাংবাদিকতা পেশায় চার বছরের অভিজ্ঞতা।

                 

You cannot copy content of this page