অভিনয় জগতে আবেগঘন দৃশ্যকে বাস্তব করে তুলতে অনেক সময় অভিনেতা ও অভিনেত্রীদের চোখে জল আনতে হয়। দর্শকদের কাছে সেই দৃশ্য বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে সাধারণত গ্লিসারিন ব্যবহার করা হয়। তবে টেলিভিশনের জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘কুসুম’-এর অভিনেত্রী তনিষ্কা তিওয়ারির (Tanishka Tiwari) ক্ষেত্রে বিষয়টি একেবারেই আলাদা। সম্প্রতি তিনি জানিয়েছেন, আজ পর্যন্ত কোনও আবেগপূর্ণ দৃশ্যে অভিনয়ের সময় তাঁকে গ্লিসারিনের সাহায্য নিতে হয়নি। স্বাভাবিক ভাবেই তাঁর চোখে জল চলে আসে। এই বিষয়টি নিয়ে এখন দর্শকদের মধ্যেও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। অনেকেই জানতে চাইছেন, কীভাবে এমনটা সম্ভব হয়।
তনিষ্কা নিজেও জানিয়েছেন, এর পিছনে কোনও বিশেষ কৌশল বা প্রস্তুতি নেই। কষ্টের দৃশ্যে অভিনয় করার সময় তিনি আলাদা করে কোনও দুঃখের স্মৃতি বা ঘটনা মনে করার চেষ্টা করেন না। তবুও আশ্চর্যজনকভাবে তাঁর চোখে জল চলে আসে। অভিনেত্রীর কথায়, কেন এমন হয় তা তিনি নিজেও স্পষ্টভাবে বলতে পারেন না। তবে দীর্ঘদিন ধরে অভিনয় করতে গিয়ে তিনি লক্ষ্য করেছেন, আবেগঘন দৃশ্যে তাঁর এই স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া প্রায়ই দেখা যায়। ফলে গ্লিসারিন ছাড়াই অনেক দৃশ্য সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয়।

যদিও বিষয়টি শুনতে সুবিধাজনক মনে হয়, বাস্তবে এর কিছু সমস্যাও রয়েছে। তনিষ্কার দাবি, অনেক সময় এত বেশি জল বেরিয়ে আসে যে শুটিং সাময়িকভাবে থামাতে হয়। কখনও তাঁর পোশাক ভিজে যায়, কখনও আবার মেকআপ নষ্ট হয়ে যায়। এমনও হয়েছে যে থুতনির কাছে অতিরিক্ত জল জমে যাওয়ায় দৃশ্যটি নতুন করে ধারণ করতে হয়েছে। ফলে স্বাভাবিক কান্না যেমন অভিনয়কে বাস্তব করে তোলে, তেমনই শুটিংয়ের সময় বাড়তি চ্যালেঞ্জও তৈরি করে।
এদিকে ধারাবাহিক ‘কুসুম’-এর বর্তমান গল্পে গুরুত্বপূর্ণ মোড় এসেছে। সম্প্রতি দেখানো হয়েছে, কুসুম ও আয়ুষ বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে। পরিবারের সকলের অজান্তে এই বিয়ে হলেও আয়ুষের বাবা বিষয়টি জানতে পারেন। বড় ছেলেকে কুসুমের সঙ্গে বিয়ে করতে দেখে তিনি প্রবল ধাক্কা খান। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়ে ওঠে যে তাঁর স্ট্রোক পর্যন্ত হয়। এই ঘটনায় পরিবারের ভেতরে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ‘আধ্যাত্মিক চরিত্রে জুড়ি মেলা ভার, মা কালী রূপে তাঁকেই দেখতে চাই!’ জি বাংলার ‘সতীপীঠ কালীঘাট’ ঘিরে জোর জল্পনা, দিতিপ্রিয়া-অঙ্কিতাদের টপকে, আবারও দেবীমুখ হয়ে ফিরছেন দর্শকদের প্রিয় অভিনেত্রী পায়েল দে?
এখন দর্শকদের মনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, কুসুম ও আয়ুষের সম্পর্কের সত্যিটা সামনে এলে পরিবারের সদস্যরা কীভাবে তা গ্রহণ করবেন। বিশেষ করে ইন্দ্রানী এই সম্পর্ক ও বিয়েকে মেনে নেবেন কি না, তা নিয়েই বাড়ছে জল্পনা। ধারাবাহিকের আগামী পর্বগুলিতে এই বিষয়েরই উত্তর মিলবে বলে আশা করছেন দর্শকরা। নতুন এই মোড় গল্পকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে এবং আগামীর ঘটনাপ্রবাহ জানার অপেক্ষায় রয়েছেন অনুরাগীরা।
