বাংলা টেলিভিশনের দর্শকদের কাছে ভক্তিমূলক ধারাবাহিকের আবেদন আজও আলাদা। একসময় ‘রানী রাসমণি’র মতো ধারাবাহিক শুধু টিআরপি নয়, মানুষের আবেগের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িয়ে গিয়েছিল। সেই কারণেই জি বাংলার আসন্ন মেগা ‘সতীপীঠ কালীঘাট’ (Satipith Kalighat) নিয়ে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে প্রবল কৌতূহল। কালীঘাট মন্দিরের ইতিহাস, শক্তিপীঠের মাহাত্ম্য এবং দেবী শক্তির নানান অজানা অধ্যায়কে কেন্দ্র করে তৈরি হতে চলেছে এই নতুন ধারাবাহিক। প্রথম ঝলক প্রকাশের পর থেকেই দর্শকদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে, বহুদিন পর কি আবার আধ্যাত্মিক ধারার একটি বড় মাপের মেগা ফিরতে চলেছে বাংলা টেলিভিশনে?
যদিও চ্যানেল বা প্রযোজনা সংস্থার পক্ষ থেকে এখনও মুখ্য চরিত্র নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি, তবুও দর্শকমহলে শুরু হয়ে গিয়েছে জোর জল্পনা। বিভিন্ন নাম ঘুরে বেড়ালেও সম্প্রতি এক নাম সবচেয়ে বেশি করে উঠে আসছে আলোচনায়, তিনি ‘পায়েল দে’ (Payel De)। টেলিভিশনের পরিচিত এই মুখকে আবারও দেবীরূপে দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করছেন বহু দর্শক। অনেকের মত, কালীঘাটের মতো আধ্যাত্মিক আবহে তৈরি ধারাবাহিকের জন্য এমন একজন অভিনেত্রীর প্রয়োজন, যাঁর মধ্যে একসঙ্গে ভক্তি, দৃঢ়তা এবং দেবীমূর্তির আভা ফুটে ওঠে। সেই কারণেই পায়েলের নাম ঘিরে বাড়ছে প্রত্যাশা।
প্রসঙ্গত, বাংলা টেলিভিশনে আধ্যাত্মিক এবং পৌরাণিক চরিত্রের সঙ্গে পায়েল দের সম্পর্ক নতুন নয়। দীর্ঘ অভিনয় জীবনে তিনি এমন একাধিক চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যা দর্শকদের মনে স্থায়ী ছাপ ফেলেছে। বিশেষ করে দেবীসুলভ বা ঐতিহাসিক আবহের চরিত্রে তাঁর উপস্থিতি বরাবরই আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে। পর্দায় তাঁর অভিব্যক্তি, সংলাপ বলার ভঙ্গি এবং চরিত্রের সঙ্গে একাত্ম হয়ে যাওয়ার ক্ষমতা বহুবার প্রশংসিত হয়েছে দর্শক এবং সমালোচকদের কাছে।
শুধু তাই নয়, বিভিন্ন সময়ে দেবী দুর্গা, কালী কিংবা আধ্যাত্মিক আবহের চরিত্রে তাঁকে দেখে অভ্যস্ত দর্শকরা। ভক্তিমূলক ধারাবাহিকের দর্শকদের একটি বড় অংশের কাছে পায়েল এখনও ‘দেবীমুখ’ হিসেবেই জনপ্রিয়। তাই ‘সতীপীঠ কালীঘাট’-এর মতো একটি মেগায় তাঁর নাম সামনে আসতেই অনেকের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়াতেও ইতিমধ্যেই একাধিক দর্শক নিজেদের মতামত জানিয়ে বলেছেন, এই ধরনের চরিত্রে পায়েলকে দেখলে তাঁরা খুশিই হবেন।
আরও পড়ুনঃ ‘নিশার জন্য একফোঁটা কষ্টও হচ্ছে না’, ‘যে নিজেই বারবার ঠকিয়েছে, সে ঠকলে দোষ কোথায়?’ জিৎ সাসপেন্ড, নিশার জন্য সহানুভূতি নয়! উল্টে পুরনো সব কীর্তি টেনে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন ‘জোয়ার ভাঁটা’র দর্শকরা!
তবে শেষ পর্যন্ত সত্যিই পায়েল দে এই ধারাবাহিকের মুখ হচ্ছেন কি না, তার উত্তর এখনও সময়ের হাতেই। অফিসিয়াল ঘোষণা না আসা পর্যন্ত সবটাই জল্পনার পর্যায়ে রয়েছে। তবুও একটি বিষয় স্পষ্ট, ‘সতীপীঠ কালীঘাট’ ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। আর যদি সত্যিই পায়েল দে এই মেগায় যুক্ত হন, তাহলে বহু দর্শকের কাছে তা হবে এক পরিচিত দেবীমুখের প্রত্যাবর্তন। এখন অপেক্ষা শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণার, আর সেই সঙ্গে নতুন এই আধ্যাত্মিক সফরের সূচনার।
