জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

চেহারা নায়িকাসুলভ নয়, বাদ পড়েন বিভিন্ন অডিশন থেকে, মেলে ছোটখাটো রোল! কঠিন লড়াই লড়ে সফল পর্দার রাই আরাত্রিকা!

বাংলা টেলিভিশনের পর্দায় নবাগত অভিনেতা অভিনেত্রীদের ভিড় সবসময় লেগেই থাকে। এদের মধ্যে কেউ কেউ বেশ জনপ্রিয় হলেও অনেকেই হারিয়ে যান অচিরেই। এরদের মধ্যেই একের পর এক চরিত্রে অভিনয় করে যিনি দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছেন, তিনি ‘আরাত্রিকা মাইতি’ (Aratrika Maity)। তবে এই জনপ্রিয়তার পথে তাঁর যাত্রা মোটেই মসৃণ ছিল না। ‘খেলনা বাড়ি’ (Khelna Bari) ধারাবাহিকের ‘মিতুল মা’ চরিত্রটির হাত ধরে যেভাবে তিনি ঘরে ঘরে পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন, সেটি ছিল কেরিয়ারের অন্যতম মোড়।

আর বর্তমানে ‘মিঠিঝোরা’ (Mithijhora) ধারাবাহিকে রাই-এর চরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শকদের বেশ পছন্দ হয়েছে। দুই ধারাবাহিকেই সম্পূর্ণ ভিন্ন রকমের চরিত্রে অভিনয় করে তিনি প্রমাণ করেছেন, একজন অভিনেত্রীর হতে গেলে যে বিভিন্ন চরিত্রে মিশে যাওয়ার যোগ্যতা লাগে, তার সেটা আছে। তবে এই জায়গায় পৌঁছানো মোটেই সহজ ছিল না আরাত্রিকার জন্য। অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা থেকেই একের পর এক অডিশনে অংশ নিয়েছেন তিনি। অনেক সময় অজান্তেই এমন কিছু প্রোডাকশনের অডিশন দিয়েছিলেন যেগুলো পরবর্তীতে ভুল বলে মনে হয়েছে।

কখনও শরীরের গঠন নিয়ে কটাক্ষ, কখনও চেহারার শিশুসুলভতা নিয়ে বিদ্রুপ— সবই শুনতে হয়েছে তাঁকে। কেউ বলেছেন ‘আরও স্বাস্থ্যবান মেয়ে দরকার’, কেউবা বলেছেন ‘তুমি দেখতে খুব বাচ্চা বাচ্চা’। কিন্তু এইসব মন্তব্য কখনোই তাঁর আত্মবিশ্বাসকে ভাঙতে পারেনি। সেই কঠিন সময়ে আরাত্রিকার পাশে ছিল শুধুমাত্র তাঁর ইচ্ছাশক্তি। পর্দার বাইরের জীবনেও একসময় সংসারের চাপ, ব্যক্তিগত সমস্যায় তিনি অনেকবার বিপর্যস্ত হয়েছেন, কিন্তু অভিনয় ছাড়েননি।

ছোট একটি ক্যামিও চরিত্র দিয়ে শুরু হয়েছিল তাঁর টেলিভিশন সফর, ‘রানী রাসমণি’ ধারাবাহিকে। এরপরই ধীরে ধীরে নিজেকে গড়ে তোলেন একজন অভিনেত্রী হিসেবে। ‘অগ্নিশিখা’ ধারাবাহিকে প্রথম বড় সুযোগ আসে তাঁর হাতে। সেই সুযোগ তিনি কাজে লাগাতে পেরেছিলেন বলেই আজকের আরাত্রিকা হয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে যেভাবে ‘মিঠিঝোরা’র রাই চরিত্রে তিনি নিজের সাবলীলতা দেখাচ্ছেন, তার থেকে স্পষ্ট যে তিনি শুধু মুখচোরা গৃহিণীর চরিত্রেই আটকে নেই।

একজন কঠিন পরিস্থিতিতে সবটা সামলে এগিয়ে চলা নারীর সংজ্ঞা হয়ে ওঠেন তিনি। আরত্রিকার সংলাপ বলার ধরণ, অভিব্যক্তি এবং শারীরিক ভাষা— এই সব মিলিয়ে এক পরিণত অভিনেত্রীকে দর্শক দেখতে পাচ্ছে রোজ। আরাত্রিকার এই গল্প শুধুই একজন অভিনেত্রীর সাফল্যের গল্প নয়, এটি এক নারীর স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরার গল্পও বটে। যেখানে বারবার বাধা এসেছে, কিন্তু থেমে যাননি তিনি। আজ তিনি প্রমাণ করেছেন, দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছেন বলেই আজ তিনি টেলিভিশনের অন্যতম পরিচিত মুখ।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page