জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“একটু সময় নিয়ে গোপালের মা-বাবা বা বোনকে দেখানো যেত না? এত তাড়াহুড়ো কেন?” গোপালের মৃ’ত্যুতে দর্শকদের হতাশা, ‘পরিণীতা’তে প্রিয় চরিত্রের বিদায়ে গল্পের অদ্ভুত তাড়াহুড়ো নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া!

নতুন বছরের শুরুতেই ‘পরিণীতা’ (Parineeta) ধারাবাহিক যে এমন একটা ধাক্কা দেবে, সেটা বোধহয় অনেক দর্শকই ভাবেননি। গল্পের স্বাভাবিক ছন্দে চলতে চলতেই হঠাৎ করে গোপালের অসুস্থ হয়ে পড়া, আর তার পরিণতির এই মোড়টা দর্শকের মনে অস্বস্তি তৈরি করেছে। বসু বাড়ির আনন্দের আবহের মধ্যে আচমকা সেই দৃশ্য যেন ঠিক অবাস্তব লেগেছে অনেকের কাছেই। শুধু চরিত্রের মৃ’ত্যু নয়, যেভাবে ঘটনাটা দেখানো হল সেটাই মূলত প্রশ্নের মুখে পড়েছে!

গোপাল এমন কোনও মুখ্য চরিত্র ছিল না, তবু তার উপস্থিতি গল্পে আলাদা জায়গা করে নিয়েছিল। গ্রামের এক সাধারণ মানুষ, পরিবারের প্রতি আনুগত্য, দায়িত্ববান স্বামীর পরিচিত ছবিটাই তাকে আপন করে নিয়েছিল দর্শকের কাছে। তাই তার বিদায়টা এত তাড়াহুড়ো করে দেখানো হবে, সেটাই অনেকের কথাতেই ‘মানা যাচ্ছে না।’ দর্শকের একাংশের অভিযোগ, একটা জনপ্রিয় চরিত্রের শেষ মানেই কি শুধু একটা দৃশ্য আর পর্দা নামানো?

তার বাড়ির মানুষজন, মা-বাবা, বোন, এমনকি গ্রামের লোকজন, যাদের সঙ্গে তার জীবন এতটা জড়িয়ে তাদের এক ঝলকও না দেখানোটা খুব ফাঁকা লেগেছে! সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভের সুরটা তাই শুধু আবেগের নয়, যুক্তিরও। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, ‘আর পাঁচ-দশ মিনিট সময় নিয়ে কি গোপালের নিজের বাড়ির প্রতিক্রিয়াটা দেখানো যেত না? যে ছেলেটা গ্রামের এত সম্মান পেয়েছে, তার মৃ’ত্যুতে গ্রামবাসীদের কোনও উপস্থিতি থাকবে না?’

এতগুলো সম্পর্ক তৈরি করার পর, শেষবেলায় সবকিছুকে এভাবে এড়িয়ে যাওয়াটা যেন দর্শকের সঙ্গে একটা দূরত্ব তৈরি করে দিয়েছে। এই তাড়াহুড়োর কারণটা ঠিক কী, সেটা নিয়েই মূলত অসন্তোষ। এদিকে, দ্রোণ মুখোপাধ্যায়ের অভিনয় নিয়ে কিন্তু কোথাও অভিযোগ নেই। বরং অনেক দর্শকই মনে করছেন, এই চরিত্রটাই তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম সেরা কাজ। আগের কিছু চরিত্রে বিতর্ক থাকলেও, গোপাল হিসেবে তিনি যে সংবেদনশীলতা দেখিয়েছেন, তা দর্শকের মনে দাগ কেটেছে।

তাই অভিনেতা যদি শো ছাড়তেই চান, তবুও চরিত্রটার জন্য একটা সম্মানজনক বিদায় দর্শক আশা করতেই পারেন, এটাই তাদের বক্তব্য! সবচেয়ে বড় প্রশ্নটা উঠে আসছে দর্শককে ঘিরেই। অনেকেই মনে করছেন, গল্পের নামে কি দর্শকের আবেগকে যেভাবে খুশি ব্যবহার করা যায়? এত বড় কাস্ট দেখিয়ে, এত চরিত্র এনে, শেষমেশ যদি তাদের ঠিকমতো ব্যবহারই না করা যায়, তাহলে সেই জাঁকজমক দেখানোর দরকারটাই বা কী? গোপালের মৃ’ত্যু হয়তো গল্পের প্রয়োজনে ছিল, কিন্তু তার প্রাপ্য সম্মানটা না পাওয়ায় যে ক্ষত তৈরি হয়েছে, সেটা সহজে ভরাট হওয়ার নয়।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page