একসময় বাংলা ধারাবাহিকে পরিবার, সমাজ আর সংস্কৃতির গল্প বলা হত। কিন্তু এখন? এখন গল্পের অভাব এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, নির্মাতারা ধর্ষণের (Rape) মতো জঘন্য বিষয়কেও টিআরপি বাড়ানোর হাতিয়ার বানিয়ে ফেলেছে! জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘আনন্দী’ (Anondi) -তে সম্প্রতি এমন একটি পর্ব সম্প্রচারিত হয়েছে, যা দেখে রীতিমতো হতবাক দর্শকরা। সমাজ মাধ্যমে ঝড় তুলেছে এই পর্বের দৃশ্য, পর্বের একটি অংশে দেখা যায়, চিৎকার শুনে সবাই ঘরে এসে টিয়াকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়, ঠিক যেমন ধর্ষণের মতন এক ঘৃণ্য অপরাধের পর হয়।
আর তার সামনে বসে আছে আদিদেব। ব্যাস, মুহূর্তেই পরিবারের লোকেরা ধরে নেয় যে আদিদেবই দোষী! সমাজ মাধ্যমে একের পর এক কড়া মন্তব্য আসতে শুরু করেছে। কেউ লিখেছেন, “বাংলা সিরিয়াল কতটা নিচে নামতে পারে, এবার তার প্রমাণ পেলাম!” আরেকজন মন্তব্য করেছেন, “এইসব সিরিয়াল কি পরিবার নিয়ে বসে দেখার জন্য তৈরি হয়? ধর্ষণের মতো জঘন্য বিষয়কেও টিআরপি বাড়ানোর হাতিয়ার বানিয়ে ফেলল!” কেউ কেউ তো সরাসরি কটাক্ষ করে বলছেন, “একসময় বাংলা সিরিয়ালে পারিবারিক মূল্যবোধ দেখানো হত,

এখন সেটা বদলে ফালতু বিতর্ক তৈরি করাই একমাত্র লক্ষ্য!” এই প্রসঙ্গে আরও একজন দর্শক লেখেন, “সিরিয়ালের গল্প কি কম পড়ে গেছে? এখন ধর্ষণ অব্দিও দেখাতে হবে?” অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, সমাজের বাস্তবতা তুলে ধরার নামে ধারাবাহিকগুলি আদতে কি প্রচার করছে? আগেও বাংলা টেলিভিশনে জনপ্রিয় ধারাবাহিক হয়েছে, কিন্তু এই ধরনের বিষয়বস্তু কি সত্যিই দরকার ছিল? অনেকে এটাকে কেবলমাত্র সস্তা পাবলিসিটি স্টান্ট বলেও মনে করছেন। কিছুজন আরও কড়া ভাষায় বলেন, “টিআরপি বাড়াতে আর কী কী দেখতে হবে, সেটাই এখন দেখার!”
আরও পড়ুনঃ ধোকা দিয়েছেন স্বামী! পরিচালক স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হলেও সন্তানদের উপর দায়িত্ব পালনে অনড় টেলি অভিনেত্রী রিয়া গাঙ্গুলী, উদযাপন করলেন মাতৃত্বের আট বছর
একজন দর্শক ট্রোল করে লিখেছেন, “ধারাবাহিকের গল্প এখন এমন পর্যায়ে চলে গেছে, যেখানে নায়ক-নায়িকা দু’দিন বাদেই হয় খুন হয়ে যায়, নয়তো ধর্ষণ, প্রতারণা আর ব্ল্যাকমেলের গল্প চলে! বাংলা ধারাবাহিক এখন আর সংসারের গল্প নয়, বরং ক্রাইম পেট্রোলের প্রতিযোগী!” একজন দর্শক ক্ষোভ উগড়ে লিখেছেন, “ধর্ষণ একটা অপরাধ, সেটা সমাজে ঘটে বলেই কি সিরিয়ালে দেখানো দরকার? একটা সিরিয়ালের কী প্রভাব পড়তে পারে, সেটা কি নির্মাতারা বোঝেন না?”
কিছু দর্শক তো কটাক্ষ করে বলেছেন, “টিআরপি বাড়াতে এবার হয়তো সিরিয়ালে অ্যাসিড অ্যাটাক, কিডন্যাপিং, মানব পাচারের গল্পও ঢুকবে!’’ সমালোচনা এতটাই তুঙ্গে যে, অনেকেই বলছেন, এখন বাংলা ধারাবাহিক আর পরিবার নিয়ে বসে দেখার মতো নেই। শুধুই বিতর্ক তৈরি করা, অযৌক্তিক টুইস্ট আনা আর সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়াই একমাত্র লক্ষ্য। এই প্রবণতা কি আদৌ বন্ধ হবে, নাকি বাংলা সিরিয়াল আরও নিচে নামবে? তবে দর্শকরা দাবি তুলছেন এই সিরিয়াল বন্ধ করার!