সাম্প্রতিক কয়েকটি সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে প্রতিবাদের ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুললেন অভিনেতা বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়। সোশাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ পোস্ট করে তিনি অভিযোগ করেছেন, কোনও কোনও মানুষ পরিস্থিতি ও নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী প্রতিবাদ করেন। তাঁর এই বক্তব্যের কেন্দ্রে রয়েছে দিল্লির যন্তর মন্তরের ছাত্র আন্দোলন এবং ঝাড়খণ্ডের ছাত্র আন্দোলন।
বিশ্বরূপের বক্তব্য, যন্তর মন্তরে ছাত্রদের আন্দোলনের সময় যাঁরা সরব হয়েছিলেন এবং তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁদের অনেকেই ঝাড়খণ্ডের ছাত্র আন্দোলনের ক্ষেত্রে একইভাবে কথা বলছেন না। আবার যাঁরা আগে নীরব ছিলেন, তাঁদের কাউকে এবার ছাত্রদের সমর্থনে সোশাল মিডিয়ায় সক্রিয় হতে দেখা যাচ্ছে। এই বিষয়টিকেই তিনি প্রতিবাদের ক্ষেত্রে দ্বিমুখী আচরণ বলে উল্লেখ করেছেন।
নিজের পোস্টে অভিনেতা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, একই ধরনের পরিস্থিতিতে মানুষের অবস্থান যদি আলাদা হয়, তাহলে সেই প্রতিবাদের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তাঁর মতে, কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শ বা দলের প্রতি আনুগত্যের কারণে প্রতিবাদ করা কিংবা চুপ করে থাকা স্বাধীন চিন্তার পরিচয় হতে পারে না। বিশ্বরূপের বক্তব্যে এই ধরনের আচরণের তীব্র সমালোচনা উঠে এসেছে।
বিশ্বরূপ আরও দাবি করেন, রাজনৈতিক সুবিধা অনুযায়ী যাঁরা নিজেদের অবস্থান বদলান, তাঁরা প্রকৃত অর্থে প্রতিবাদী বা বিপ্লবী নন। তাঁর মতে, কোনও দল বা মতাদর্শের প্রতি অন্ধ সমর্থন দেখিয়ে আন্দোলনে অংশ নেওয়া সমাজের জন্য ইতিবাচক নয়। এই প্রসঙ্গে তিনি এমন মানুষদের ভণ্ড এবং রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহৃত দাবার ঘুঁটির সঙ্গে তুলনা করেছেন।
আরও পড়ুনঃ উত্তম কুমারের নায়িকা বাসন্তী চট্টোপাধ্যায়ের শেষ জীবন কেটেছিল চরম কষ্টে! পাশে ছিলেন না ছেলে-মেয়েরা, ভরসা হয়েছিলেন ড্রাইভার ও কয়েকজন সহৃদয় মানুষ! আজ মৃ’ত্যুবার্ষিকীতে ফিরে দেখা তাঁর কষ্টের জীবন!
অভিনেতার এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর সোশাল মিডিয়ায় তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তাঁর বক্তব্যের পক্ষে যেমন অনেকেই মত দিয়েছেন, তেমনই এই ধরনের মন্তব্য নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। তবে নিজের পোস্টে বিশ্বরূপ যে বিষয়টি স্পষ্ট করতে চেয়েছেন, তা হল প্রতিবাদের ক্ষেত্রে একই মাপকাঠি বজায় রাখা এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে গিয়ে সামাজিক ইস্যুতে অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন।
