টেলিপর্দার পরিচিত মুখ সায়ন্তনী মল্লিক এবং তাঁর স্বামী ইন্দ্রনীল মল্লিকের রাতজাগা অভিজ্ঞতা হঠাৎই রূপ নেয় তীব্র আতঙ্কে। পথ কুকুরদের নিয়মিত খাবার দেন তাঁরা। সেরকমই শুক্রবার রাতে বন্ধুদের সঙ্গে ডিনার সেরে ফেরার সময় রাজডাঙ্গায় কয়েকটি কুকুরকে খাবার দিচ্ছিলেন। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই তাঁদের ঘিরে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করেন স্থানীয় কিছু ব্যক্তি। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং অচিরেই কথাকাটাকাটি চরম বিশৃঙ্খলার দিকে গড়ায়।
সায়ন্তনী পরে ফেসবুক লাইভে এসে জানান, কীভাবে কয়েকজন বয়স্ক স্থানীয় মানুষ তাঁদের বাধা দেন এবং কুকুরদের রাস্তায় খেতে দেওয়া নিয়ে আপত্তি তোলেন। অভিনেত্রী স্পষ্ট অভিযোগ করেন, তাঁদের উদ্দেশে অশালীন ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছিল। ভিডিওতে দেখা যায়, ইন্দ্রনীলের দিকে কয়েকজন উত্তেজিত ব্যক্তি তেড়ে আসছেন এবং তাঁদের বন্ধুদের সঙ্গেও গোলমাল বাধে। পরিস্থিতি দেখে সায়ন্তনী কলকাতা পুলিশকে ট্যাগ করে জানান যে তাঁরা কসবা থানায় অভিযোগ দায়ের করবেন।
সায়ন্তনী জানান, কয়েকজন মদ্যপ ব্যক্তি শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক আচরণ করছিলেন। তাঁর সঙ্গে থাকা চন্দন নামে এক পরিচিতকে একদল লোক ঘিরে ধরে মারধর করে বলে অভিযোগ। ইন্দ্রনীল তাঁকে বাঁচাতে গেলে তাঁকেও ল্যাম্পপোস্টের পাশে চেপে ধরে লাথি এবং ঘুষি মারা হয়। অভিনেত্রী নিজেও পিছন দিক থেকে ধাক্কা খেয়ে আঘাত পান। কিছুদিন আগেই তাঁর স্ট্রোক হয়েছিল, ফলে এই আঘাতে তিনি আরও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ইন্দ্রনীলের নাক, কান ও হাতে চোট লাগে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ঘটনার ভিডিও ও বর্ণনা ছড়িয়ে পড়তেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। নেটিজেনরা সায়ন্তনী এবং ইন্দ্রনীলের পাশে দাঁড়িয়ে দ্রুত পুলিশি পদক্ষেপের দাবি করেন। মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও ন্যায় চেয়ে আবেদন করেন অভিনেতা–অভিনেত্রী। তাঁদের বক্তব্য, কেবল নিরীহ প্রাণীদের খাবার দেওয়ার মতো মানবিক কাজ নিয়েই যদি এমন হিংসা তৈরি হয়, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?
আরও পড়ুনঃ ‘আমি চাই, রুক্মিণী যেন আমার হাতটা এখন ছেড়ে…’ বিশেষ সঙ্গীর ছবির প্রিমিয়ারে দেবের অকপট মন্তব্যে! তার হাত ছেড়ে, রুক্মিণীকে কার হাত ধরার পরামর্শ দিলেন মেগাস্টার? নতুন করে উঠছে প্রশ্ন, সত্যিই কি দূরত্ব বাড়ছে দু’জনের মধ্যে?
এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও সামনে এল পথ কুকুরদের প্রতি সমাজের একাংশের অসচেতনতা ও সংবেদনশীলতার অভাব। সুপ্রিম কোর্ট খাদ্যদাতা এবং প্রাণীদের সুরক্ষার বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশিকা দিলেও বাস্তবে সেই মানসিকতা অনেক ক্ষেত্রেই অনুপস্থিত। সায়ন্তনীদের অভিজ্ঞতা তুলে দিল সেই কঠিন সত্য, যা আমাদের শহরের আচরণ ও দায়িত্ববোধকে বড় প্রশ্নের সামনে দাঁড় করায়।
https://fb.watch/DGtYOwOFoO/