মাথাভর্তি পাকা চুল, সাদা কালো শাড়ি, ফুলহাতা সোয়েটার আর চোখে মোটা চশমা— একেবারে অন্যরকম অবতারে সামনে এলেন শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়। আসন্ন ওয়েব সিরিজ ঠাকুমার ঝুলি-তে তাঁকে দেখা যাবে এক রহস্যময় এবং সংযত চরিত্রে। পরিচালনায় রয়েছেন অয়ন চক্রবর্তী এবং সিরিজটি মুক্তি পাবে জনপ্রিয় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম হইচই-এ মার্চ মাস থেকে। নির্মাতাদের মতে, বাংলা গোয়েন্দা গল্পের প্রচলিত ধারাকে নতুনভাবে উপস্থাপন করবে এই সিরিজ। নতুন প্রজন্মের দর্শকদের মন জয় করার মতো আধুনিক উপস্থাপনা ও রহস্যময় আবহে তৈরি হয়েছে গল্প।
এই সিরিজে শ্রাবন্তী অভিনয় করছেন গিরিজাবালা সান্যালের চরিত্রে। বিষ্ণুপুর-এর বাসিন্দা এই নারী বয়সের ভারে নত হলেও মানসিকভাবে ভীষণ দৃঢ়। জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতা তাঁকে আরও সংযত ও গভীর পর্যবেক্ষণক্ষম করে তুলেছে। অল্প বয়সেই স্বামীকে হারানোর পর একমাত্র সন্তানকেও হারিয়েছেন তিনি। এই শোক তাঁর ব্যক্তিত্বে এনে দিয়েছে নিঃশব্দ সহনশীলতা। কথাবার্তা কম হলেও মানুষ ও পরিস্থিতি বোঝার ক্ষমতা অসাধারণ। তাঁর একাকী জীবনের সঙ্গী তিন পোষ্য বিড়াল— হরি, বেলা ও ফন্টে। তাদের উপস্থিতিও গল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানানো হয়েছে।
গল্পের মোড় ঘুরতে শুরু করে যখন তাঁর নাতনি যাজ্ঞসেনী দেশে ফিরে আসে। ক্রিমিনাল সাইকোলজির ছাত্রী এই তরুণী পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে জড়িয়ে পড়ে এক রহস্যের জালে। বন্ধুর বিয়ের আনন্দের মধ্যেই ঘটে যায় আকস্মিক মৃত্যু। এই মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মেনে নিতে নারাজ গিরিজাবালা। তাঁর তীক্ষ্ণ বুদ্ধি প্রথম থেকেই বুঝতে পারে, ঘটনাটির ভেতরে লুকিয়ে আছে গভীর রহস্য। যাজ্ঞসেনীর চরিত্রে অভিনয় করছেন দিব্যাণী মণ্ডল। দিদা ও নাতনির সম্পর্ক ধীরে ধীরে রূপ নেয় এক অদ্ভুত তদন্ত সঙ্গীতে।
বিষ্ণুপুরে এসে যাজ্ঞসেনীর জীবনই বদলে যায় এই ঘটনার পর। রহস্যের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সে দেশে থাকার সিদ্ধান্ত নেয়। আর সেই সূত্রেই বহু বছর পর আবার তদন্তে নামেন গিরিজাবালা। শুরু হয় এক অন্যরকম গোয়েন্দাগিরি, যেখানে অভিজ্ঞতা আর বিশ্লেষণ ক্ষমতা মিলিয়ে এগিয়ে চলে দিদা ও নাতনি। তাঁদের এই যুগল তদন্ত কেবল অপরাধ উদঘাটন নয়, সম্পর্কের গভীরতাও তুলে ধরবে। পরিবার, স্মৃতি আর সত্যের সন্ধান— সব মিলিয়ে গল্পের আবহ হয়ে উঠবে আরও ঘনীভূত।
আরও পড়ুনঃ জানালেন শেষ বিদায়! বদলে গিয়েছে সম্পর্ক! বিবাহ বিচ্ছেদই কি তবে অন্তিম পরিণতি? নীল ভট্টাচার্যের পোস্টে মন খারাপ দর্শকদের!
বাংলা গোয়েন্দা কাহিনির জগতে এই সিরিজ নতুন মাত্রা যোগ করবে বলেই আশা নির্মাতাদের। রহস্য, আবেগ আর প্রজন্মের সংযোগ— সবকিছু মিলিয়ে তৈরি হয়েছে ভিন্ন স্বাদের এক গল্প। শ্রাবন্তীর সম্পূর্ণ নতুন লুক ইতিমধ্যেই দর্শকদের কৌতূহল বাড়িয়েছে। দিদা ও নাতনির এই রহস্যযাত্রা কোথায় গিয়ে শেষ হবে, তার উত্তর মিলবে মার্চ মাসেই। এখন শুধু অপেক্ষা, পর্দায় কেমনভাবে জীবন্ত হয়ে ওঠে এই অনন্য গোয়েন্দা অভিযান।
