এক সময় জি বাংলার টিআরপি চার্ট কাঁপিয়েছিল মিঠাই ধারাবাহিক। সেই সঙ্গে দর্শকদের হৃদয়ে আলাদা জায়গা করে নিয়েছিলেন আদৃত রায় ও সৌমিতৃষা কুণ্ডু। পর্দার রসায়ন বাস্তব জীবনেও ছড়িয়ে পড়েছিল বলে গুঞ্জন ছিল টলিপাড়ায়। কিন্তু ধারাবাহিকের শেষের দিকে সেই সম্পর্কেই নাকি চরম ফাটল ধরে। শোনা যায়, কাজ ছাড়া একে অপরের সঙ্গে কথাও বলতেন না তাঁরা। সম্প্রতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের পদ্মশ্রী প্রাপ্তি উপলক্ষে আয়োজিত পার্টিতে দুজনের উপস্থিতি ফের সেই পুরনো সম্পর্কের গল্প উসকে দিয়েছে।
খবর অনুযায়ী, ওই পার্টিতে আদৃত ও সৌমিতৃষা থাকলেও মুখোমুখি হওয়ার সুযোগই নেননি কেউ। একজন ছিলেন ডান দিকে, অন্যজন বাম দিকে। একই অনুষ্ঠানে থেকেও কথাবার্তা তো দূরের কথা, চোখাচোখিও নাকি এড়িয়ে গিয়েছেন দুজনেই। সাধারণত পুরনো ধারাবাহিকের সহ অভিনেতাদের একসঙ্গে দেখলে গল্প আড্ডা জমে ওঠে, কিন্তু এই ক্ষেত্রে তার ব্যতিক্রমই চোখে পড়েছে। সেই থেকেই প্রশ্ন উঠছে, পুরনো দূরত্ব কি এখনও কাটেনি।
ইন্ডাস্ট্রির অন্দরমহলে শোনা যায়, মিঠাই চলাকালীন সৌমিতৃষা নাকি আদৃতকে পছন্দ করতেন। প্রথম দিকে আদৃতের দিক থেকেও ছিল ভালোলাগা। তবে পরে সহ অভিনেত্রী কৌশাম্বির প্রতি মন ঝুঁকে পড়ে তাঁর। সেখান থেকেই নাকি শুরু হয় জটিলতা। এরপর আচমকাই প্রকাশ্যে আসে আদৃত ও কৌশাম্বির সম্পর্কের কথা। সেই সময় নেটপাড়ায় প্রবল ট্রোলের মুখে পড়তে হয় কৌশাম্বিকে। মিঠাই ভক্তদের একাংশ বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি, পরিস্থিতি হয়ে উঠেছিল যথেষ্ট অস্বস্তিকর।
সময়ের সঙ্গে অবশ্য অনেক কিছু বদলে গিয়েছে। এখন বিবাহিত আদৃত ও কৌশাম্বি, তাঁদের বিয়ের বয়স প্রায় দেড় বছর। আদৃতের বিয়েতে মিঠাই টিমের অনেকেই আমন্ত্রণ পেলেও সৌমিতৃষা সেখানে ছিলেন না। তবে এই অধ্যায় পেরিয়ে নিজের কেরিয়ারে পুরোপুরি মন দিয়েছেন নায়িকা। ছোট পর্দার গণ্ডি ছাড়িয়ে বড় পর্দা ও ওয়েব সিরিজে নিয়মিত কাজ করছেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ “যদি অন্য কাউকে ভালোবেসে সম্পর্ক ছিন্ন করে, আমার কোনও আপত্তি নেই…আমি জানি ওর হৃদয়ে আমার স্থান অদ্বিতীয়!” বাধ্য করে রাখার নাম ভালোবাসা নয়! স্ত্রী অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তীকে নিয়ে আবেগঘন বার্তা স্বর্ণ শেখর জোয়ার্দারের!
সৌমিতৃষাকে সম্প্রতি দেবের বিপরীতে প্রধান ছবিতে দেখা গিয়েছে। পাশাপাশি সৌরভ দাসের সঙ্গে ১০ই জুন সিনেমাতেও কাজ করেছেন তিনি। হইচইয়ের জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজ কালরাত্রি তে টানা দুটো সিজনে নামভূমিকায় অভিনয় করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। তবুও প্রশ্ন থেকেই যায়, একই পার্টিতে থেকেও কথা না বলার নেপথ্যে কি এখনও কোনও অভিমান রয়ে গিয়েছে, নাকি কেবলই অবাঞ্ছিত পরিস্থিতি এড়াতেই এই নীরবতা।
