বিগত বছরগুলোতে টলিপাড়ার অনেক তারকা তাদের জীবনসঙ্গীকে প্রকাশ্যে এনেছেন, হয় দুর্গাপুজো নয়তো প্রেম দিবসের বিশেষ মুহূর্তে। সেই ধারায় রয়েছেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা ‘রাহুল দেব বসু’ (Rahul Dev Bose) এবং ‘দেবাদৃতা বসু’ (Debadrita Basu)। বছর দুয়েক আগে তাঁরা দুজনের সম্পর্ক সকলের সামনে আনেন, যা সেই মুহূর্তে তাদের ভক্তদের জন্য বিশেষ আনন্দের খবর ছিল। এরপর থেকে তাঁদের সম্পর্ক কখনও লুকোচুরি থাকেনি, বরং ছোটো ছোটো উদযাপনের মুহূর্তও তাঁরা ভাগ করে নিতেই ভালোবাসেন।
প্রসঙ্গত, রাহুল ও দেবাদৃতা দুজনই টলিপাড়ার পরিচিত মুখ। রাহুল টলিউডের বাইরেও, হিন্দিতে বিভিন্ন কাজ করেছেন। এখন তো ওয়েব সিরিজে কাজ করছেন, আর দেবাদৃতা ছোটপর্দায় অভিনয় নিয়েই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। সম্প্রতি তাঁরা একসঙ্গে একটি ওয়েব সিরিজেও অভিনয় করেছেন, এবং ভবিষ্যতে আরও দুটি কাজে নাকি একসঙ্গে দেখা যাবে তাঁদেরকে! তাদের পেশাদার জীবনেও মিলনের ছোঁয়া থাকায় ব্যক্তিগত জীবনেরও ভারসাম্য বজায় রাখতে পারছেন তাঁরা।
সম্প্রতি, ১৩ জানুয়ারি তাঁদের সম্পর্কের দুই বছর পূর্ণ হলো। তাই বিয়ের মৌসুমে টলিপাড়ার অন্যান্য তারকাদের মতো রাহুল-দেবাদৃতাও এই আলোচনার তালিকায় উঠে এসেছেন। তবে এই মুহূর্তে তাঁরা তাড়াহুড়ো করছেন না। রাহুল স্পষ্ট বলেছেন, “আমরা তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নিতে চাই না।” এই কথা থেকেই স্পষ্ট যে সম্পর্কের প্রতি তাদের ধৈর্য ও পরিপক্ক দৃষ্টিভঙ্গি কতটা দৃঢ়। টলিপাড়ার বর্তমান পরিস্থিতিতে যেখানে বিচ্ছেদ ও প্রেমে প্রতারণার খবর প্রতিদিন আসে, সেখানে তাঁদের মজবুত সম্পর্ক সত্যিই নজর কাড়ছে।
সম্পর্ককে কেবল আনন্দের উৎস হিসেবে দেখা যায় না, এটি সময়ের সঙ্গে ধৈর্য, বোঝাপড়া এবং একে অপরের জন্য নিজেকে পরিবর্তনের প্রক্রিয়াও। রাহুল তাই আরও বলছেন, “আমরা রোজ একটু একটু করে, একসঙ্গে পরিণত হয়েছি। কিছু অভ্যাস অবশ্যই বদলেছে, কিন্তু সম্পর্কের মূল ভিত্তিটা বদলায়নি।” এই ধরনের স্থিতিশীলতা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষত যখন চারপাশে সম্পর্ক ভাঙার খবরের অভাব নেই।
আরও পড়ুনঃ “প্রাইম টাইম পেলে আমরাই বেঙ্গল টপার হতাম!” গল্পে একাধিক মোড়, জুটির ভালো রসায়ন সত্বেও কেন টিআরপিতে বেহাল দশা? ‘জোয়ার ভাঁটা’র ব্যর্থতা নিয়ে মুখ খুললেন আরাত্রিকা-অভিষেক!
দর্শক ও ভক্তরা হয়তো আশা করছেন, আগামী দিনে এই সম্পর্ক সামাজিক স্বীকৃতি লাভ করবে। কিন্তু বর্তমানে তারা শুধু একসঙ্গে সময় কাটানো ও পরিপক্কভাবে সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়াতেই বিশ্বাসী। এই মুহূর্তে দুজনেই কাজে ব্যস্ত। পেশাগত জীবনকে একটু উন্নত না করে, সংসার জীবনে পা বাড়াতে চাইছেন না তাঁরা। তবে, যবেই সাত পাকে বাঁধা পড়ুক না কেন, রাহুলের বিয়ের মেনুতে পছন্দের ফিস ফ্রাইটা কিন্তু থাকবেই!
