টলিউডের জনপ্রিয় জুটি ছিলেন প্রিয়াঙ্কা সরকার (Priyanka Sarkar) এবং রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায় (Rahul Banerjee) । প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠার পর ২০১০ সালে তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। একসঙ্গে কাজ করতে গিয়েই তাঁদের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে, যা ধীরে ধীরে পরিণত হয় ভালোবাসায়। দাম্পত্য জীবনের প্রথম কয়েক বছর বেশ আনন্দেই কেটেছিল তাঁদের। এই দম্পতির একটি সন্তানও রয়েছে, যার নাম সহজ (Shohoj)। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়।
বিয়ের কয়েক বছর পর থেকেই বিভিন্ন কারণে তাঁদের সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। পারস্পরিক মতানৈক্য এবং কিছু ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদের পথ বেছে নেন তাঁরা। প্রিয়াঙ্কা সরকার ও রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পর্কের গল্প যেন এক রোলার কোস্টারের সফর। টলিপাড়ার এই জনপ্রিয় জুটির প্রেম, বিয়ে, বিচ্ছেদ এবং পুনর্মিলন—সবকিছুই দর্শকদের কাছে চর্চার বিষয়। প্রেম থেকে পরিণয়—সবটাই ছিল স্বপ্নের মতো।
দীর্ঘ ছয় বছর আলাদা ছিলেন দুজনেই, তবে ১৩ বছরের দাম্পত্য জীবনে আবারও কাছাকাছি এসেছেন তাঁরা, নতুন করে একসঙ্গে পথ চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে এই পথচলা সহজ ছিল না। রাহুল একাধিকবার বলেছেন, প্রিয়াঙ্কাকে মন জয় করতে তাঁকে যথেষ্ট কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। প্রথম প্রেমের প্রস্তাব সহজে গ্রহণ করেননি অভিনেত্রী। সময়ের সঙ্গে সম্পর্কের সংজ্ঞা বদলেছে, বদলেছে তাঁদের ভাবনাচিন্তাও।

এক সাক্ষাৎকারে রাহুল বলেন, আগে প্রেম মানেই ছিল বিশেষ দিনে উদযাপন, তারিখ মেনে ভালবাসা প্রকাশ। কিন্তু এখন প্রেমের সংজ্ঞা তাঁদের কাছে অনেক সহজ। প্রতিদিন একে অপরের জন্য বিশেষ করে তোলাই তাঁদের কাছে ভালোবাসার আসল মানে। রাহুলের প্রেমের কাহিনি শুধু প্রিয়াঙ্কা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়। ছোটবেলার এক প্রেমের স্মৃতিও তিনি শেয়ার করেছেন।
তাঁর প্রথম প্রেমিকার নাম ছিল বুলটি, যার প্রতি ভালোবাসা প্রথমে ছিল বন্ধুত্বের মতো, পরে এক অন্যরকম অনুভূতিতে বদলে যায়। ক্লাস ৫ থেকে শুরু ভালোলাগা, ১১ তে গানের ক্লাসের সময় বুলটির পিছু নেওয়া, গানের ডাইরির প্রতি ঈর্ষা অনুভব করা—সবই ছিল রাহুলের কৈশোরের মিষ্টি প্রেমের গল্পের অংশ। কিন্তু বাস্তব জীবনে প্রেম এতটা সরল নয়।

দাম্পত্যে ওঠানামা আসবেই, আর সেটাই তাঁদের জীবনেও ঘটেছে। বিচ্ছেদের সময়টা সহজ ছিল না, তবুও সময়ের সঙ্গে তাঁরা বুঝেছেন, একে অপরের গুরুত্ব কতটা। দূরত্ব মিটিয়ে ফের একসঙ্গে পথচলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। যদিও নেটিজেনরা এখনো তাঁদের সম্পর্কের গভীরতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তাঁদের পোস্ট দেখে অনেকেই মনে করেন, হয়তো দূরত্ব এখনো পুরোপুরি মেটেনি।
আরও পড়ুনঃ চিতা থেকে! শেষমেশ শ্মশান থেকে আনা মালা দিয়ে মালাবদল “তুই আমার হিরো”র সিন দেখে সমালোচনার ঝড়!
তবে রাহুল-প্রিয়াঙ্কার মতে, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার মূলমন্ত্র হলো বোঝাপড়া আর সহজ থাকা। ভালোবাসার জন্য আর বিশেষ কোনো তারিখের দরকার নেই, বরং প্রতিদিনই ভালোবাসার অনুভূতি ধরে রাখাটাই আসল চ্যালেঞ্জ। তাঁদের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় কেমন হয়, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা। আপনাদের কেমন লাগে এই জুটিকে?