সম্প্রতি নতুন ছবি ‘নেভারমাইন্ড’-এর প্রচারে এসে পোশাক নিয়ে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। সামাজিক মাধ্যমে তাঁর পোশাক থেকে শুরু করে ছবির নানা বিষয় নিয়ে একের পর এক কটাক্ষ ছড়িয়ে পড়ে। সেই বিতর্ক নিয়েই এবার সরব হলেন অভিনেত্রী ও ছবির পরিচালক চৈতি ঘোষাল। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যে সমস্ত মানুষ এত সমালোচনা করছেন, তাঁদের অধিকাংশই ছবিটি না দেখেই মন্তব্য করছেন। তাঁর মতে, একজন শিল্পীর কাজ না দেখে শুধুমাত্র পোশাককে কেন্দ্র করে বিচার করা অত্যন্ত দুঃখজনক। একইসঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ থাকতেই পারে, কিন্তু তা প্রকাশেরও একটি ভদ্র উপায় রয়েছে।
ঋতুপর্ণাকে নিয়ে হওয়া ট্রোলিং প্রসঙ্গে চৈতি বলেন, “যাঁরা সমালোচনা করলেন, তাঁরা কেউই ছবিটা দেখেননি। যাঁরা পোশাক নিয়ে ট্রোল করলেন তাঁরা ভুলে গেলেন যে আমরা একটা সভ্য পৃথিবীতে বাস করি। সুতরাং পোশাক কেউ তাঁর নিজের ইচ্ছেতেই পরবে এটাই স্বাভাবিক।” তিনি আরও বলেন, মানুষ ভুলে যাচ্ছেন তাঁরা কাকে নিয়ে মন্তব্য করছেন। তাঁর কথায়, ঋতুপর্ণা শুধু একজন অভিনেত্রী নন, দীর্ঘদিন ধরে দর্শকদের বিনোদন দিয়ে এসেছেন এবং জাতীয় পুরস্কারও অর্জন করেছেন। তাই কোনও একটি পোশাক ভালো না লাগতেই পারে, কিন্তু তার জন্য প্রকাশ্যে অপমান করার কোনও যৌক্তিকতা নেই বলেই মত তাঁর।
বয়স নিয়ে কটাক্ষের বিষয়েও সরব হন চৈতি ঘোষাল। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “৪০-এর উপরে বয়সের মহিলাদের, বিশেষ করে তাঁরা যদি অভিনয় করেন তাহলে আপনারা তাঁদের বুড়ি বলে ডাকেন? আপনাদের বাড়ির লোকের সঙ্গেও কি এভাবেই কথা বলেন?” তাঁর মতে, এই ধরনের ভাষা শুধু একজন শিল্পীকে নয়, গোটা সমাজকেই ভুল বার্তা দেয়। কারণ বাড়ির ছোটরা যখন বড়দের এমন আচরণ করতে দেখে, তখন তারাও একই ধরনের ব্যবহারকে স্বাভাবিক বলে মনে করতে শুরু করে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে কী মূল্যবোধ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
চৈতির বক্তব্যে আরও উঠে আসে, “আমাকে ঋতুকে বাজে কথা বললে আমাদের যায় আসে না। আমরা বাঁচতে শিখে গিয়েছি, কিন্তু আপনারা ভবিষ্যৎ সমাজকে কি শেখাচ্ছেন?” তাঁর দাবি, শিল্পীদের নিয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ বা অপমানজনক মন্তব্য কোনও সুস্থ সংস্কৃতির পরিচয় নয়। সমালোচনা থাকতেই পারে, কিন্তু তা যেন যুক্তি এবং সৌজন্যের সীমার মধ্যে থাকে। তাঁর মতে, সামাজিক মাধ্যম মানুষকে মত প্রকাশের সুযোগ দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেই স্বাধীনতার অপব্যবহার করা উচিত নয়।
নিজের কাজ নিয়েও এদিন স্পষ্ট বার্তা দেন চৈতি ঘোষাল। তিনি জানান, সামাজিক মাধ্যমের কটাক্ষ বা ট্রোলিং কোনওভাবেই তাঁর মনোবল ভাঙতে পারবে না। নতুন ছবি তৈরি করার সাহস তাঁর রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও সেই কাজ চালিয়ে যাবেন। তিনি আরও বলেন, সমালোচনার ভয়ে নিজের সৃজনশীলতাকে কখনও থামিয়ে রাখবেন না। একজন নির্মাতা হিসেবে ভালো গল্প বলাই তাঁর লক্ষ্য, আর সেই পথ থেকে তিনি সরে আসবেন না।
প্রসঙ্গত, শুধু ঋতুপর্ণা নন, চৈতি ঘোষালের ছেলে অমর্ত্যও সম্প্রতি নেটমাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। সেই প্রসঙ্গেও তিনি মুখ খোলেন। চৈতির দাবি, শুধুমাত্র নিজের ছেলে বলেই তাঁকে ছবিতে নেওয়া হয়নি। অভিনয়ের যোগ্যতা এবং প্রতিভা বিচার করেই তাঁকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, ব্যক্তিগত সম্পর্ক নয়, কাজের দক্ষতাই শিল্পী নির্বাচনের প্রধান ভিত্তি হওয়া উচিত। তাই ট্রোলিং বা ব্যক্তিগত কটাক্ষকে গুরুত্ব না দিয়ে তিনি নিজের কাজের মাধ্যমেই জবাব দিতে চান।
