“অপরিচিত নিয়ে বেশি দূর চলা যায় না, ঝেড়ে ফেলাই ভালো… মানেটা কি?” “তবে কী যারা জলসার সঙ্গে যুক্ত তারাই জিতবে?” প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের স্নেহের হাত মাথায় থাকার যা নয় তাই বলছেন দুর্নিবার? বাইরের লোক রাজবীরকে ফের কটা’ক্ষ করে বিত’র্কে গায়ক

‘বিগ বস বাংলা’র গতকালের পর্বে দুর্নিবারের একটি মন্তব্যকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে তাঁর বলা, “অপরিচিতদের নিয়ে বেশি দূর চলা যায় না, মাঝপথে ঝেড়ে ফেলাই ভালো।” এই কথার পরেই দর্শকদের একাংশের মনে হয়েছে, দুর্নিবার কি কোনও নির্দিষ্ট প্রতিযোগীকে ইঙ্গিত করেই এমন মন্তব্য করেছেন? বিশেষ করে রাজবীর দে-কে নিয়েই কথাটি বলা হয়েছে বলে অনেকে দাবি করছেন। কারণ চলতি সিজনে রাজবীরকে ঘিরে একাধিকবার ‘অন্দর-বাহিরের’ সম্পর্ক এবং দলবদলের সমীকরণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ফলে দুর্নিবারের ‘অপরিচিত’ শব্দটি কাকে বোঝাচ্ছে, তা নিয়েই শুরু হয়েছে জল্পনা। সরাসরি রাজবীরের নাম না নেওয়ায় বিষয়টি আরও বেশি কৌতূহল তৈরি করেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই দর্শকদের একাংশ এই মন্তব্যের অর্থ নিজেদের মতো করে ব্যাখ্যা করতে শুরু করেছেন।

দুর্নিবারের বক্তব্যের পর এক দর্শক সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, “অপরিচিত নিয়ে বেশি দূর চলা যায়না মানে কি?” এরপরেই সেই দর্শকের বক্তব্য, “দুর্নিবার কথা টা বলার মানে কি তাহলে যারা স্টার জলসার সাথে আছে তারা এই খানে জিতবে? বাহ!” এই মন্তব্য থেকেই বোঝা যাচ্ছে, বিষয়টি শুধু দুর্নিবারের বক্তব্যে আটকে নেই। দর্শকদের একাংশ এর মধ্যে চ্যানেল এবং পরিচিতির সমীকরণও খুঁজে দেখছেন। তাঁদের প্রশ্ন, ‘অপরিচিত’ বলতে যদি রাজবীরের মতো কাউকে বোঝানো হয়, তাহলে পরিচিতদের সঙ্গে থাকার সুবিধা কি আলাদা করে কাজ করছে? যদিও দুর্নিবার তাঁর বক্তব্যে সরাসরি রাজবীরের নাম নেননি। তাই এই মন্তব্য সত্যিই রাজবীরকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তবু বিগ বসের ঘরের বর্তমান সম্পর্কের সমীকরণে রাজবীরকে ঘিরে চলা বিতর্কের কারণে দর্শকদের নজর স্বাভাবিকভাবেই তাঁর দিকেই গিয়েছে।

রাজবীর চলতি সিজনে শুরু থেকেই একাধিক প্রতিযোগীর সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছেন এবং তাঁকে ঘিরে বাড়ির ভিতরে ও বাইরে নানা আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে জিতু কামালের সঙ্গে তাঁর বিবাদকে কেন্দ্র করে একাধিক পর্বে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে রাজবীরের পক্ষ নেওয়া এবং তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক রাখা নিয়েও অন্য প্রতিযোগীদের অবস্থান নিয়ে দর্শকদের মধ্যে নানা মত তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দুর্নিবারের ‘অপরিচিতদের নিয়ে বেশি দূর চলা যায় না’ মন্তব্যটি নতুন করে সেই পুরনো প্রশ্ন সামনে এনে দিয়েছে। কার সঙ্গে জোট করা উচিত, কাকে বিশ্বাস করা যায় এবং কখন কাউকে দূরে সরিয়ে দেওয়া উচিত, তা নিয়েই যেন কথার লড়াই শুরু হয়েছে। দর্শকদের একাংশ মনে করছেন, মন্তব্যটি সাধারণ কোনও বক্তব্য হলেও বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে মিলে যাওয়ায় সেটি রাজবীরকে ঘিরে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। আবার অন্য অংশের মত, নাম না নেওয়া পর্যন্ত কাউকে নির্দিষ্ট করে এই মন্তব্যের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া ঠিক নয়। ফলে একটি বাক্যকে ঘিরেই এখন বিগ বস বাংলার দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে দুই ধরনের ব্যাখ্যা।

তবে বিতর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হল, বিগ বসের ঘরে ‘পরিচিত’ এবং ‘অপরিচিত’ প্রতিযোগীর মধ্যে সত্যিই কোনও আলাদা সমীকরণ তৈরি হচ্ছে কি না। দুর্নিবারের মন্তব্যকে সামনে রেখে সেই প্রশ্নই তুলছেন দর্শকদের একাংশ। বিশেষ করে স্টার জলসার সঙ্গে যুক্ত প্রতিযোগীদের প্রসঙ্গ টেনে তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ জানতে চাইছেন, পরিচিতি কি গেমের ভিতরে কোনও সুবিধা এনে দিচ্ছে? এই প্রশ্নের কোনও সরাসরি উত্তর অবশ্য দুর্নিবারের বক্তব্য থেকে পাওয়া যায় না। কারণ তিনি কোথাও স্পষ্ট করে বলেননি যে তাঁর কথাটি রাজবীরকে উদ্দেশ্য করে বলা। তবু চলতি পরিস্থিতির সঙ্গে তাঁর কথার মিল খুঁজে পেয়ে দর্শকদের একাংশ সেটিকে অন্যভাবে দেখছেন। একই সঙ্গে ‘বিগ বস’ এমন একটি মঞ্চ, যেখানে প্রতিযোগীদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং খেলার কৌশল প্রায়ই একে অপরের সঙ্গে মিশে যায়। তাই দুর্নিবারের এই মন্তব্যও কেবল সাধারণ বক্তব্য, নাকি এর পিছনে নির্দিষ্ট কোনও ঘটনার ইঙ্গিত রয়েছে, তা নিয়েই আপাতত আলোচনা চলছে।

সব মিলিয়ে গতকালের পর্বের পর দুর্নিবারের ওই একটি বাক্যই সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। “অপরিচিতদের নিয়ে বেশি দূর চলা যায় না, মাঝপথে ঝেড়ে ফেলাই ভালো”, তাঁর এই বক্তব্যের আসল লক্ষ্য কে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে দর্শকদের একাংশের সন্দেহের তির গিয়ে পড়েছে রাজবীরের দিকেই। কারও মতে, চলতি খেলায় রাজবীরকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিতই কি দেওয়া হল? আবার কেউ মনে করছেন, এই মন্তব্যকে সরাসরি রাজবীরের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া নিছক দর্শকদের অনুমান। তার উপর স্টার জলসার সঙ্গে যুক্তদের প্রসঙ্গ টেনে যে প্রশ্ন উঠেছে, সেটিও নতুন করে চর্চায় এসেছে। এখন দেখার, পরের পর্বে দুর্নিবার নিজেই তাঁর কথার ব্যাখ্যা দেন কি না। আর রাজবীরকে ঘিরে এই ইঙ্গিতের জল্পনা আরও বাড়ে, নাকি এখানেই থেমে যায়, সেদিকেই নজর দর্শকদের।

Rimi Datta

রিমি দত্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর। কপি রাইটার হিসেবে সাংবাদিকতা পেশায় চার বছরের অভিজ্ঞতা।

                 

You cannot copy content of this page