‘বিগ বস বাংলা’র উইকেন্ড স্পেশাল ‘দাদার দরবার’ ঘিরে প্রতি সপ্তাহেই দর্শকদের প্রত্যাশা থাকে। কারণ সারা সপ্তাহের বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে সঞ্চালক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় প্রতিযোগীদের সামনে প্রশ্ন তোলেন। ভুল হলে সতর্ক করেন, আবার প্রয়োজন হলে নিজের মতামতও স্পষ্ট করে দেন। তাই এই সপ্তাহে রাজবীর দে এবং জিতু কামালের সংঘাত নিয়েও দর্শকদের আগ্রহ ছিল যথেষ্ট। বিশেষ করে জিতু সারা সপ্তাহে রাজবীরকে নিয়ে যে সব মন্তব্য ও কর্মকাণ্ড করেছেন, সেগুলির বিচার হবে বলেই আশা করেছিলেন অনেকে। চাটনিতে লঙ্কার গুঁড়ো মেশানো থেকে শুরু করে নানা ভাবে রাজবীরকে উত্যক্ত করা, সবই ছিল আলোচনায়। তার সঙ্গে যোগ হয় রাজবীরের জন্য রাখা সিদ্ধ ডিমের জায়গায় কাঁচা ডিম রেখে দেওয়ার ঘটনাও। ফলে প্রশ্ন উঠেছিল, খাবার নষ্ট করার অভিযোগে আগে রাজবীরকে যে ভাবে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছিল, জিতুর ক্ষেত্রেও কি একই নিয়ম দেখা হবে?
ডিমের ঘটনাটি নিয়েই ইতিমধ্যে দর্শকদের একাংশের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, রাজবীরের জন্য রাখা সিদ্ধ ডিমের বদলে কাঁচা ডিম রাখা হয়েছিল। রাজবীর সেই ডিম ভাঙতে গিয়ে হাত ও জামাকাপড় নোংরা করে ফেলেন। এর ফলে কাঁচা ডিম দুটিও নষ্ট হয় এবং সেই ঘটনাকে ঘিরেই নিয়মের প্রশ্ন ওঠে। এক দর্শকের মন্তব্য ছিল, ‘কাচা ডিম দুটো যে নষ্ট করলো, এগুলো কি খাবার এর অপচয় নয়?’ আরও অভিযোগ ওঠে, রাজবীরকে যদি খাবার নষ্ট করার জন্য প্রশ্ন করা হয়ে থাকে, তাহলে একই ধরনের ঘটনায় জিতুকে কেন প্রশ্ন করা হবে না। এই জায়গা থেকেই দর্শকদের একাংশের অভিযোগ, ‘সাত খুন মাফ, হিরো বলে কথা!’ অবশ্য এই অভিযোগ দর্শকদের একাংশের মতামত, অনুষ্ঠান কর্তৃপক্ষ জিতুর ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃত খাবার নষ্ট করার কোনও সিদ্ধান্ত বা শাস্তির কথা জানায়নি।
এর পরেই সামনে আসে আরও বিতর্কিত একটি প্রসঙ্গ, রাজবীরকে দীর্ঘ সময় জলে রেখে চাবি খোঁজার পরিকল্পনা। লাক্সারি বাজেট টাস্ককে ঘিরে জিতুর একটি মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়। দর্শকদের একাংশের দাবি, রাজবীরকে যতক্ষণ না অসুস্থ হয়ে যায়, ততক্ষণ জলে রাখার মতো মন্তব্য মোটেই সাধারণ খুনসুটির মধ্যে পড়ে না। এই বক্তব্য ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে, এমন কথা যদি রাজবীর জিতুকে নিয়ে বলতেন, তাহলে কি সেটাকেও একই ভাবে দেখা হত? এর আগেও দুজনের মধ্যে একাধিকবার কথা কাটাকাটি এবং ব্যক্তিগত আক্রমণ হয়েছে। কখনও ‘ফ্লপ হিরো’ বলে রাজবীর জিতুকে কটাক্ষ করেছেন, আবার জিতুও তাঁকে নানা ভাবে পাল্টা জবাব দিয়েছেন। নন্দিনীকে কেন্দ্র করে তাঁদের ঝামেলা, তুই তোকারি এবং একে অপরকে উত্যক্ত করার ঘটনাও ইতিমধ্যে একাধিকবার সামনে এসেছে। ফলে এই সপ্তাহে জিতুর প্রতিটি পদক্ষেপ নিয়েই দর্শকদের নজর ছিল এবং ‘দাদার দরবারে’ সেগুলির কোনওটি নিয়ে সৌরভ প্রশ্ন তুলবেন বলেই অনেকে অপেক্ষা করছিলেন।
কিন্তু দর্শকদের একাংশের অভিযোগ, সেই প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ হয়নি। তাঁদের প্রশ্ন, রাজবীরের ভুলগুলি যদি সৌরভের চোখে পড়ে এবং সেগুলি নিয়ে তাঁকে সতর্ক করা হয়, তাহলে জিতুর এই ঘটনাগুলিও কি একই ভাবে বিচার করা উচিত ছিল না? বিশেষ করে খাবার নষ্ট হওয়ার ঘটনা এবং রাজবীরকে জলে রাখার পরিকল্পনা নিয়ে কেন স্পষ্ট প্রশ্ন উঠল না, সেটাই জানতে চাইছেন অনেকে। এর আগেও রাজবীরকে ঘিরে ‘দাদার দরবারে’ একাধিকবার আলোচনা হয়েছে এবং সৌরভ তাঁকে নিজের খেলা নিয়ে ভাবতে বলেছেন। এমনকি নন্দিনীকে রাজবীরকে নিয়ন্ত্রণ না করার পরামর্শও দিয়েছিলেন তিনি। ফলে দর্শকদের একাংশের মনে হচ্ছে, সঞ্চালক হিসেবে সৌরভ যদি প্রতিযোগীদের ভুল ধরিয়ে দেন, তাহলে সেই একই মাপকাঠি প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই থাকা প্রয়োজন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাই প্রশ্ন উঠছে, জিতু যদি রাজবীরের বিরুদ্ধে একের পর এক এমন কাজ করেন, সেগুলি কি শুধুই খুনসুটি হিসেবে দেখা হবে? নাকি পরের কোনও পর্বে সৌরভ নিজেই এই বিষয়গুলির ব্যাখ্যা চাইবেন?
আরও পড়ুনঃ “এখানেই সবাই নিজেদের অক্ষমতা দেখিয়ে দিল…” বারবার জিতুকে হিরো আর রাজবীরকে ভিলেন বানানোর চেষ্টা, এত অপমান করছে, এত নিচু করেও হচ্ছে না লাভ! হোস্টের ম্যানিপুলেশনের ফাঁদে পা দেয়নি, বারবার ভাঙার চেষ্টা হলেও সব গেছে জলে? কেন রাজবীরকেই বিগ বস বাংলার উইনার হিসেবে দেখছেন দর্শকরা?
সব মিলিয়ে এই সপ্তাহের ‘দাদার দরবার’ ঘিরে দর্শকদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে জিতুর কর্মকাণ্ডের বিচার। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় শুধু সঞ্চালক নন, এই অনুষ্ঠানে তাঁর ভূমিকার একটি বড় অংশ হল প্রতিযোগীদের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলা। তাই দর্শকদের একাংশের মতে, জিতু এবং রাজবীরের ক্ষেত্রে একই ধরনের ঘটনায় একই মাপকাঠি ব্যবহার করা উচিত। অন্যদিকে জিতু নিজেও রাজবীরের আচরণ নিয়ে একাধিকবার সরব হয়েছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলেছেন। সম্প্রতি সৌরভের সামনেও রাজবীরকে ঘিরে জিতুর অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে এবং দুজনের সংঘাত যে এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি, তা পরিষ্কার। এখন দর্শকদের প্রশ্ন, জিতুর চাটনিতে লঙ্কার গুঁড়ো মেশানো থেকে শুরু করে কাঁচা ডিমের ঘটনা কিংবা রাজবীরকে জলে রাখার মন্তব্য, কোনটি দাদার নজরে পড়বে? নাকি এই ঘটনাগুলিও দর্শকদের অভিযোগ হিসেবেই থেকে যাবে? সবচেয়ে বড় প্রশ্ন অবশ্য অন্য জায়গায়, এমন বিতর্কের পরেও সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে কি ‘বিগ বস’-এর সঞ্চালক হিসেবে দর্শকদের প্রত্যাশিত নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে দেখা যাচ্ছে?
