বিগ বসের ঘরে রাজবীরকে ঘিরে বিতর্ক যেন প্রতিদিনই নতুন মাত্রা পাচ্ছে। তবে এসব বিতর্কের মধ্যেই একাংশ দর্শক জোর গলায় তাঁর পাশে দাঁড়াচ্ছেন। তাঁদের মতে, রাজবীরকে বারবার মানসিকভাবে ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তিনি নিজের জায়গা থেকে সরছেন না। বিশেষ করে হোস্ট সৌরভ গাঙ্গুলির সঙ্গে তাঁর সাম্প্রতিক কথোপকথন দর্শকদের একাংশের নজর কেড়েছে। দর্শকের দাবি, সৌরভ বিভিন্নভাবে রাজবীরকে চাপে রাখার চেষ্টা করছেন। বারবার জিতুকে হিরো এবং রাজবীরকে ভিলেন হিসেবে তুলে ধরে তাঁদের পুরনো সম্পর্ক ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে বলেই মনে করছেন তাঁরা। কিন্তু সেই পরিস্থিতিতেও রাজবীর নিজের অবস্থান থেকে সরে যাননি। বরং জিতুর বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান বজায় রাখার কথাই স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন। এই জায়গাটিকেই রাজবীরের সবচেয়ে বড় শক্তি বলে মনে করছেন তাঁর সমর্থকেরা।
একাংশ দর্শকের মতে, হোস্টের প্রভাব থাকা সত্ত্বেও রাজবীর নিজের সিদ্ধান্ত বদলাননি। তাঁদের দাবি, বিগ বসের মতো শোয়ে হোস্টের বক্তব্য স্বাভাবিকভাবেই প্রতিযোগীদের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। কিন্তু রাজবীর সেই প্রভাবের কাছে নতি স্বীকার করেননি। বরং নিজের বক্তব্য এবং অবস্থানেই অনড় থেকেছেন তিনি। দর্শকদের একাংশের অভিযোগ, রাজবীর সামান্য কিছু বললেও সেটিকে ঘুরিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি তাঁর আত্মবিশ্বাস নষ্ট করার মতো পরিস্থিতিও তৈরি করা হচ্ছে বলে মনে করছেন তাঁরা। তবে এত কিছুর পরেও রাজবীর নিজের অবস্থান থেকে পিছিয়ে আসছেন না। এই মানসিক দৃঢ়তাকেই তাঁর উইনার হওয়ার অন্যতম যোগ্যতা হিসেবে দেখছেন সমর্থকেরা। তাঁদের মতে, চাপের মধ্যে নিজের সিদ্ধান্ত ধরে রাখতে পারাটাই একজন প্রকৃত বিজয়ীর বড় গুণ।
রাজবীর এবং নন্দিনীর সম্পর্ক নিয়েও দর্শকদের বক্তব্য রয়েছে। হোস্টের তরফে নন্দিনীকে বারবার রাজবীরের বিষয়ে সতর্ক করা হচ্ছে বলেও দাবি করছেন একাংশ দর্শক। তবে তাঁদের মতে, রাজবীর এখনও পর্যন্ত নন্দিনীর বিশ্বাস ভাঙেননি। বরং নন্দিনীকে সবসময় গুরুত্ব দিয়েছেন এবং তাঁর পাশে থেকেছেন বলেই মনে করছেন তাঁরা। অন্যদিকে, কিছু দর্শকের অভিযোগ নন্দিনীই বিভিন্ন পরিস্থিতিতে রাজবীরকে ব্যবহার করছেন। তবু রাজবীরের দিকে আঙুল তোলা হচ্ছে বেশি, এমনটাই তাঁদের মত। এই দ্বন্দ্বের মধ্যেও রাজবীর নন্দিনীর সঙ্গে নিজের সম্পর্ককে কীভাবে দেখছেন, সেটিও এখন আলোচনার বিষয়। তবে দর্শকদের এই অংশটি মনে করছে, সম্পর্কের হিসাবের চেয়েও নিজের অবস্থানে অটল থাকার বিষয়টি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই কারণেই রাজবীরকে তাঁরা অন্য প্রতিযোগীদের থেকে আলাদা করে দেখছেন।
শুধু হোস্ট নয়, বিগ বসের বাড়ির বাকি সদস্যদের নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন রাজবীরের সমর্থকেরা। তাঁদের অভিযোগ, সৌরভের বক্তব্যের পর দুর্নিবার-সহ বাড়ির একাধিক সদস্য খুব সহজেই রাজবীরের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। রাজবীরকে কেউ চেনে না, এমনকি নন্দিনীও তাঁকে চেনেন না, এমন বক্তব্যও সামনে এসেছে। দর্শকদের একাংশের মতে, হোস্টের মন্তব্যকে ভিত্তি করেই রাজবীরকে বিচার করা হচ্ছে। তাঁদের প্রশ্ন, একজন প্রতিযোগীর বিরুদ্ধে সবাই একসঙ্গে দাঁড়িয়ে গেলে সেটি কি সত্যিই তাঁর দুর্বলতার প্রমাণ? নাকি উল্টোভাবে সেটিই তাঁর শক্তির জায়গা হয়ে উঠছে? সমর্থকদের মতে, রাজবীরকে যত বেশি কোণঠাসা করা হচ্ছে, ততই তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করছেন। এমন পরিস্থিতিতেও তাঁর না ভেঙে পড়াকে তাঁরা বিজয়ীর মানসিকতার সঙ্গে তুলনা করছেন। এই কারণেই দুর্নিবার-সহ অন্য প্রতিযোগীদের উইনার হওয়ার যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
আরও পড়ুনঃ সৃজলা-দুর্নিবারের সম্পর্ক নিয়ে রণিতার অভিযোগ, সত্যি নাকি মিথ্যে বলছেন অভিনেত্রী? ‘দাদার দরবারে’ একের পর এক প্রশ্নে অস্বস্তিতে রণিতা! অনুষ্কার পর ফের একজনকে মি’থ্যেবাদী প্রমাণ করার চেষ্টা সৌরভ গাঙ্গুলীর? ক’টাক্ষ নেট পাড়ার
সব মিলিয়ে দর্শকদের একাংশের কাছে রাজবীর এখন এই মরশুমের সবচেয়ে যোগ্য বিজয়ী। তাঁদের বক্তব্য, একজন উইনারকে শুধু ঘরের ভিতরে জনপ্রিয় হলেই হবে না, চাপের মধ্যেও নিজের অবস্থান ধরে রাখতে হবে। রাজবীরের ক্ষেত্রে সেই পরীক্ষাই বারবার হচ্ছে বলে মনে করছেন তাঁর সমর্থকেরা। হোস্টের সমালোচনা, বাড়ির সদস্যদের বিরোধিতা এবং সম্পর্কের টানাপোড়েন, সবকিছুর মধ্যেও তিনি নিজের জায়গা ছাড়ছেন না। তাই তাঁর সমর্থকদের দাবি, এই পরিস্থিতিগুলিই আসলে প্রমাণ করছে কেন রাজবীর উইনার হওয়ার যোগ্য। এক দর্শকের ভাষায়, ‘পুরো দরবার রাজবীরের বিরুদ্ধে, রাজবীরকে ভেঙে চুরে রাখতে কোনও চেষ্টা বাকি নেই, তবুও রাজবীর দমছে না।’ আর সেই কারণেই তাঁদের কাছে রাজবীরের এই লড়াইই হয়ে উঠেছে বিগ বসের আসল পরীক্ষা। তাঁদের কথায়, ‘এটাই বিগ বস, যারা বুঝতে পেরেছে ওয়েলকাম টু বিগ বস!’ এখন শেষ পর্যন্ত দর্শকদের এই সমর্থন রাজবীরকে কতটা এগিয়ে দেয়, সেটাই দেখার।
