দুর্গাপুজো বাঙালির সারা বছরের অপেক্ষার উৎসব। এই সময়টা শুধু মণ্ডপে মণ্ডপে ঘোরা বা খাওয়া-দাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, অনেকের জীবনেই এটি হয়ে ওঠে নতুন অভিজ্ঞতা আর আত্মবিশ্বাসের সময়। ঠিক তেমনটাই মনে করছেন অভিনেত্রী ইধিকা পাল। ছোটবেলার শাসন, কৈশোরের কড়াকড়ি পেরিয়ে এখন তার কাছে পুজো মানে স্বাধীনতা। তবে এবারের পুজোটা একেবারেই আলাদা, কারণ জনপ্রিয়তা কতটা বেড়েছে, সেটাই বুঝে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন তিনি।
শৈশবে দক্ষিণ কলকাতায় বড় হওয়া ইধিকার পুজোর অভিজ্ঞতা ছিল অনেকটাই সীমিত। বাবার হাত ধরে এক-আধটা মণ্ডপ দেখা, তারপর বাড়ি ফেরা—সেই ছিল নিয়ম। তখন ভিড় একেবারেই ভালো লাগত না। প্যান্ডেল হপিং করার অনুমতি পর্যন্ত মেলেনি। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই নিয়মের বেড়াজাল একটু শিথিল হয়। বন্ধুদের সঙ্গে রাতে বেরোনোর অনুমতি মিলল, সঙ্গে থাকত হাতখরচ। এই ছোট্ট স্বাধীনতাই তার কাছে পুজোর বড় আনন্দ ছিল। তবে প্রেম? সে সুযোগও মিলেছিল, কিন্তু বাড়ির কড়া শাসনের কারণে শুরু হতেই ভেঙে যায়।
এবারের পুজো ইধিকার কাছে অন্য মাত্রা পেয়েছে। কারণ, তার অভিনীত ‘খাদান’ ছবির বাণিজ্যিক সাফল্যের পর এটিই প্রথম দুর্গাপুজো। তাই তিনি মানছেন, এই উৎসবেই বোঝা যাবে, মানুষের কাছে কতটা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন তিনি। দর্শকের ভালোবাসা আর স্বীকৃতিই একজন শিল্পীর সবচেয়ে বড় পুরস্কার—যা তিনি রাস্তায় দাঁড়িয়ে মানুষের অটোগ্রাফ বা সেলফি চাওয়ার মুহূর্তে উপলব্ধি করেন। তাই কাউকে কখনও ফিরিয়ে দেন না তিনি।
তবে উৎসব মানেই শুধু কাজ নয়, একটু নিজের মতো করে সময় কাটানোও বটে। সারা বছর ক্যামেরার সামনে সাজগোজে থাকতে হলেও, পুজোর ক’টা দিন ইধিকা সাজের ঝামেলা থেকে ছুটি নেন। তবে খাওয়া-দাওয়ার আনন্দে কোনও ছাড় দেন না। একদিন পরিবারের সকলকে নিয়ে রেস্তরাঁয় খাওয়ার বিশেষ প্ল্যান থাকে তার। যদিও শরীরের খেয়াল রাখতে জিভের লাগাম টানতে হয়।
আরও পড়ুনঃ শারদীয়ার মরশুমেই শুরু হচ্ছে ‘সারেগামাপা’র নতুন সিজন! নয়জন তারকা বিচারক নিয়ে প্রতিযোগিতা হবে আরও কঠিন! প্রথমবারের মতো জিৎ, জোজো-রূপম-শান্তনুর মতো শিল্পীদের যোগে বিচারকের আসন জমজমাট! থাকছেন না ইমন চক্রবর্তী!
শেষে পোশাকের প্রসঙ্গ তুলতেই ইধিকা জানান, পুজোর সময় শাড়ি পরতে তার বিশেষ ভালো লাগে। বিশেষত, ‘কিশোরী’ গানের পর শিফন শাড়ির যে জনপ্রিয়তা বেড়েছে, তা তিনি দারুণ উপভোগ করছেন। ছোটবেলায় যেমন শ্রীদেবী বা প্রিয়ঙ্কা চোপড়ার অনুকরণ করতেন, তেমনি আজ যদি কেউ তাকে অনুকরণ করে, সেটাই তার কাছে সবচেয়ে বড় আনন্দ। তাই এবারের দুর্গাপুজো ইধিকার কাছে শুধুই উৎসব নয়, বরং তার জনপ্রিয়তার এক নতুন পরীক্ষা।