এখনকার দিনে, যখন প্রযুক্তি এত উন্নত। রোজ কিছু না কিছু আবিষ্কার হচ্ছে মানুষের জীবনকে আরও সহজ করে তুলতে, তখন কারও হাতে মোবাইল না থাকাটা নিঃসন্দেহে অস্বাভাবিক মনে হবেই! অথচ খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, যখন মোবাইল ফোন ব্যবহার করাটাই অনেকের কাছে বাড়তি নজর কেড়ে নিত। সেই সময়টার কথাই মনে করে অভিনেত্রী ‘কোয়েল মল্লিক’ (Koel Mallick) এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করেছেন সম্প্রতি, যেটা শুনলে হয়তো আপনিও ভাবতে পারেন যে এটাও সম্ভব?
টলি কুইন নাকি মোবাইল ফোন হাতে পেয়েও সেটি ব্যবহার করতে সংকোচ বোধ করতেন! কিন্তু কেন? প্রসঙ্গত, কলেজে পড়ার সময় তাঁর কাছে ফোন থাকলেও, তা প্রকাশ্যে বের করতে অস্বস্তি লাগত। চারপাশে সহপাঠীদের হাতে তখনও মোবাইল দেখা যেত না বললেই চলে। ফলে তিনি প্রায়ই ফোন বন্ধ করে ব্যাগে রেখে দিতেন! আড়ালে গিয়ে চুপচাপ দেখে নিতেন কেউ ফোন করেছে কি না। শুটিংয়ের সময়সূচি জানাতে পরিচালকদের ফোন আসত বলে ফোন রাখা জরুরি ছিল।
কিন্তু সবার সামনে সেটা ব্যবহার করতে গিয়েই লজ্জা পেতেন তিনি। বলতেই হয়, এই ছোট্ট ঘটনাটাই অভিনেত্রী কোয়েলের ব্যক্তিত্বের একটা আলাদা দিক তুলে ধরে ধরেছে। তারকা পরিবারে বড় হলেও তাঁর বেড়ে ওঠায় যেন আমাদেরই মতো সাধারণের ছাপ স্পষ্ট। পড়াশোনায় মন দেওয়া থেকে বন্ধুদের সঙ্গে স্বাভাবিক ভাবেই মেশা এবং লাজুক স্বভাব মিলিয়ে তিনি যেন আর পাঁচটা বাঙালি মেয়ের মতোই। অভিনয়ে আসার আগে জীবনকে কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতাগুলোই হয়তো তাঁকে মাটির মানুষ করে রেখেছে।
পরে অবশ্য সময় বদলেছে, কাজের পরিধিও বেড়েছে। বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশের পর একের পর এক জনপ্রিয় ছবিতে অভিনয় করে তিনি নিজস্ব জায়গা তৈরি করেন। বাণিজ্যিক ছবির সাফল্য থেকে শুরু করে চরিত্রনির্ভর কাজ, দুই দিকেই নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন। ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি বরাবর স্থির ছন্দেই এগিয়েছেন, ইন্ডাস্ট্রিতে কোনদিনও তাঁর সর্ম্পকের গুঞ্জন শোনা যায়নি। একজনকেই ভালোবেসেছিলেন, আজও তাঁর সঙ্গেই জমিয়ে সংসার করছেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ “না খেলাম, না আমি কিছু করলাম তবুও আমার মাথাব্যথা…” হিরণের দ্বিতীয় বিয়ে বিতর্কে চিরঞ্জিত চক্রবর্তীর সাফ কথা! এক বাক্যেই হাত ধুয়ে ফেললেন বর্ষীয়ান অভিনেতা?
উল্লেখ্য, আজ প্রযুক্তি জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ফোন ছাড়া কাজ কল্পনাই করা যায় না। কিন্তু কলেজের সেই লাজুক মেয়েটি, যে মোবাইল বের করতে ইতস্তত করত, তিনিই আজ প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রী। তবু তাঁর কথাবার্তা আর স্মৃতিচারণে বোঝা যায়, ভেতরের সহজ-সরল মানুষটা বদলায়নি। সময় এগিয়েছে, জীবন বদলেছে কিন্তু কোয়েলের স্বাভাবিক স্বভাবটা এখনও একই রকম রয়ে গেছে। তিনি মনে করেন, একজন প্রতিষ্ঠিত মানুষই অন্যের সঠিক পথের প্রদর্শক হতে পারে!
