বাংলার রাজনীতিতে সাম্প্রতিক পরিবর্তনের পর আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিকের নাম। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তাঁকে রাজ্যসভার সাংসদ করা হয়েছিল, আর সেই ঘোষণার মাধ্যমেই তাঁর সক্রিয় রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই সিদ্ধান্ত বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল। তবে নির্বাচনে যে রাজনৈতিক শিবিরের হয়ে তিনি প্রচার করেছিলেন, সেই দলের ফল আশানুরূপ হয়নি। এরপর থেকেই রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সুস্মিতা দেব পদত্যাগ করার পর কোয়েলকে ঘিরেও নতুন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে বিনোদন জগত, সর্বত্রই এখন এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।
গত দুদিন ধরে জোর গুঞ্জন ছড়িয়েছে যে কোয়েল মল্লিক নাকি রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিতে পারেন। যদিও এই বিষয়ে সরাসরি প্রশ্ন করা হলে অভিনেত্রী কোনও মন্তব্য করেননি। ফলে জল্পনা আরও বেড়েছে। একই বিষয়ে অভিনেত্রীর বাবা রঞ্জিত মল্লিকের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে কোয়েলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত তাঁর পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা সামনে আসেনি। তাই তিনি আদৌ সাংসদ পদে থাকবেন কি না, তা নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশও পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন।
এদিকে তৃণমূলের একাংশের বিক্ষুব্ধ সাংসদদের তালিকায় উঠে এসেছে কয়েকজন পরিচিত তারকার নাম। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন দেব, জুন মালিয়া, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শতাব্দী রায়। সম্প্রতি দিল্লিতে বৈঠক সেরে ফেরার পর ৯ জুন কোলাঘাটে একটি প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন জুন মালিয়া। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী এবং শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে প্রশাসনিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠক শেষ করে বেরিয়ে আসার সময় সাংবাদিকরা তাঁকে কোয়েল মল্লিকের সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে প্রশ্ন করেন। তখনই তিনি সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া দেন। তাঁর সেই মন্তব্য ঘিরেও নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জুন মালিয়া বলেন, “কোয়েল পদত্যাগ করছেন কিনা, এই প্রশ্নটা ওঁকেই করতে হবে।” এই একটি বাক্যেই তিনি পুরো বিষয়টি কোয়েলের উপর ছেড়ে দেন। নিজের পক্ষ থেকে আর কোনও মন্তব্য করেননি অভিনেত্রী-সাংসদ। ফলে কোয়েলের পদত্যাগের জল্পনা নিয়ে নতুন কোনও তথ্য সামনে আসেনি। তবে জুনের মন্তব্য থেকে এটুকু স্পষ্ট যে, বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে পারেন একমাত্র কোয়েল নিজেই। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, পরিস্থিতি পরিষ্কার হতে এখনও কিছুটা সময় লাগতে পারে। তাই এখনই কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়।
আরও পড়ুনঃ ঝিনুককে নতুন অধ্যায়ের জন্য সাহস জোগালেও কমলার নিজের জীবনে লুকিয়ে রয়েছে এক বি’স্ফোরক কঠিন সত্যি! সেই গোপন তথ্য কি ওলটপালট করে দেবে সবার জীবন? টুইস্টের পর টুইস্ট, জমে উঠছে ‘কমলা নিবাস’-এর আজকের পর্ব!
অন্যদিকে খবর মিলেছে, তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদদের তালিকায় নাম জড়িয়েছে অভিনেত্রী সায়নী ঘোষেরও। যদিও এই মুহূর্তে তিনি শহরের বাইরে রয়েছেন। শহরে ফেরার পর তিনি এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেন কি না, সেদিকেও নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের। এদিকে এবারের নির্বাচনে টলিপাড়ার একাধিক পরিচিত মুখ বিধায়ক হওয়ার লড়াইয়ে নেমেও পরাজিত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে সরে গিয়েছেন, আবার কেউ এখনও রাজনৈতিক ময়দান ছাড়তে রাজি নন। ফলে আগামী দিনে তৃণমূলের সঙ্গে কতজন তারকা মুখ যুক্ত থাকবেন এবং কারা নতুন সিদ্ধান্ত নেবেন, তা নিয়েই এখন জল্পনা তুঙ্গে।
