দেখতে দেখতে ছয় মাস পূর্ণ করল অহনা দত্ত ও দীপঙ্কর রায়ের ছোট্ট মেয়ে মীরা। সন্তানের জন্মের পর থেকেই তাকে ঘিরে আবেগ আর ভালোবাসার কোনও কমতি নেই এই দম্পতির জীবনে। মীরার নামকরণের মধ্যেও লুকিয়ে আছে গভীর অনুভূতি। শাশুড়ির নামেই মেয়ের নাম রেখেছেন অহনা। দীপঙ্করের বিশ্বাস, তাঁদের জীবনে সন্তানের রূপে যেন ফিরে এসেছেন তাঁর মা। সেই আবেগকে সম্মান জানাতেই মেয়ের নাম রাখা হয়েছে মীরা। একরত্তি মেয়েকে নিয়ে প্রায়ই সামাজিক মাধ্যমে নানা মুহূর্ত ভাগ করে নেন অহনা। কখনও খেলা, কখনও নতুন মা হিসেবে অনুভূতির কথা, আবার কখনও মীরার ছোট ছোট দুষ্টুমি জায়গা করে নেয় তাঁর পোস্টে।
মুখেভাতের অনুষ্ঠান ঘিরেও ছিল বিশেষ উচ্ছ্বাস। আগেই কেনাকাটার ঝলক শেয়ার করেছিলেন অভিনেত্রী। অবশেষে সেই বিশেষ দিন উপস্থিত হলে কৃষ্ণ পুজোর মাধ্যমে শুরু হয় অনুষ্ঠান। ঠাকুরের পায়েস খাইয়ে শুভ সূচনা করা হয় মীরার অন্নপ্রাশনের। পরিবারের সকলের উপস্থিতিতে দিনটি হয়ে ওঠে আরও অর্থবহ। অহনা জানিয়েছেন, মীরার দাদুই প্রথম ভাত খাওয়াবেন তাকে। পুজোর পর আয়োজন করা হয়েছে নিরামিষ ভোজের। সব মিলিয়ে ঐতিহ্য আর আবেগে মোড়া এক সুন্দর পারিবারিক মুহূর্ত তৈরি হয়েছে তাঁদের ঘরে।
এই বিশেষ দিনের বেশিরভাগ আয়োজন নিজের হাতেই সামলেছেন অহনা। বাঙালি রীতিনীতি মেনে একটি ডালিতে সাজানো হয়েছে বই, কলম, টাকা এবং মাটি। বিশ্বাস অনুযায়ী, শিশু যে বস্তুটি স্পর্শ করবে ভবিষ্যতে তার জীবনের দিশা নাকি সেদিকেই এগোবে। সেই নিয়মই পালন করা হয়েছে মীরার ক্ষেত্রেও। তবে মা হিসেবে কোনও নির্দিষ্ট প্রত্যাশা চাপিয়ে দিতে চান না অহনা। তাঁর একটাই ইচ্ছে, মেয়ে যা-ই বেছে নিক না কেন সে যেন সবসময় সুখে থাকে এবং নিজের মতো করে বড় হয়ে ওঠে।
মেয়ের জন্মের পর মাতৃত্বের নতুন অধ্যায় উপভোগ করলেও পেশাদার জীবন থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখেননি অহনা। মীরা একটু বড় হতেই আবার কাজে ফিরেছেন তিনি। বর্তমানে দর্শক তাঁকে দেখতে পাচ্ছেন জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক তারে ধরি ধরি মনে করি তে। সেখানে তাঁর চরিত্র কুন্তলিনী একেবারেই ধূসর স্বভাবের। সরাসরি ভাল বা খারাপ কোনও ছাঁচে ফেলা যায় না তাকে। চরিত্রটির ভবিষ্যৎ মোড় নিয়ে কৌতূহল রয়েছে দর্শকদের মধ্যেও।
আরও পড়ুনঃ “এটা ম্যানিফেস্ট করছি…” জিতু অতীত, আবার সংসারের স্বপ্ন দেখছেন নবনীতা! সন্তানসহ ভালোবাসায় ভরা ভবিষ্যতের পরিকল্পনায় অভিনেত্রী! দিলেন কি নতুন সম্পর্কে ইঙ্গিত? কে সেই মনের মানুষ?
ব্যক্তিগত জীবনের কোমল আবেগ আর পেশাদার জীবনের দায়িত্ব দুই সামলে এগিয়ে চলেছেন অহনা দত্ত। মেয়ের মুখেভাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তকে তিনি করে তুলেছেন স্মরণীয় এবং সাদামাটা অথচ হৃদয়ছোঁয়া। আড়ম্বরের বদলে পরিবারের সান্নিধ্য আর ঐতিহ্যকেই গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। মীরার জন্য তাঁর একমাত্র প্রার্থনা সুখ এবং সুস্থতা। জীবনের প্রতিটি ধাপে যেন সে নিজের আনন্দ খুঁজে পায় সেই কামনাই মায়ের। এই সরল ইচ্ছেতেই ধরা পড়ে এক মায়ের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা।
